somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য গল্প : লকডাউন ও মদ্যপান

০৭ ই মে, ২০২০ রাত ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লকডাউনের সকালবেলায় চা-বিস্কুট খেয়ে সবে সামু ব্লগ খুলতে যাচ্ছি, এমন সময় দরজায় জোর ধাক্কা।
দরজা খুলে দেখলাম ভজহরিদা আর ফ্যালাদা দাঁড়িয়ে আছে।
ফ্যালাদাকে দেখে কেমন লাগল। উশকোখুশকো চুল। চোখ বসে গেছে।
ভজহরিদা বলল, "একটু বাইরে আয়। তোকে একটা কাজ করতে হবে।"
আমি বললাম, "এখন আবার কী কাজ? সব কাজ তো বন্ধ!"
ভজহরিদা বলল, "ফ্যালা একটা গণ্ডগোল বাধিয়েছে।"
ফ্যালাদার অনেক দোষের মধ্যে একটা হল কথার মধ্যে যেখানে সেখানে ইংরেজি গুঁজে দেওয়া। ফ্যালাদার স্ত্রী খুব রগচটা আর তিরিক্ষি টাইপ। বৌদিই একটা স্কুলে চাকরি করে সংসার চালায়। ফ্যালাদা বাউন্ডুলে হয়ে ঘুরে বেড়ায়।
.
ফ্যালাদা উত্তেজিত হয়ে আমার হাতদুটো ধরতে আসছিল। আমি ভয়ে কিছুটা পিছিয়ে গেলাম। তখন ফ্যালাদার মনে পড়ল সোশ্যাল ডিসটেন্সিংয়ের কথা। দু পা পিছিয়ে গিয়ে বলল, "সরি ভাই। সব ফরগেট হয়ে গেছে। আমি ভেরি প্রবলেমে পড়েছি। কাল নাইটে বাড়ি ফিরিনি বলে আজ মর্নিংয়ে আর ওয়াইফ হাউসে এন্ট্রি করতে দেয়নি।"
ভজহরিদা বলল, "আসলে কাল অনেকদিন পর মদের দোকান খুলল তো। ফ্যালাকে এক বন্ধু ডেকেছিল ওর বাড়িতে। সন্ধ্যেবেলায় গিয়েছিল ফ্যালা। বন্ধুটা একাই থাকে। তারপর দুজনে এমন খেয়েছে পুরো আউট হয়ে গিয়েছিল। শেষরাতে সেন্স ফিরেছে। এদিকে ফ্যালার বউ মাল খাওয়ার ওপর হেব্বি খার। সকালে ঘরে ঢুকতে দেয়নি। আমার শালা প্রচুর বদনাম আছে তাই আমি বললে কিছু হবে না। কিন্তু সবাই জানে তুই ভাল ছেলে। তুই ওকে এ যাত্রায় উদ্ধার করে দে।"
আমি বললাম, "আমি? আমি কী করে উদ্ধার করব! আর বউদি খুব বদরাগী আছে। দেখলেই বুক ঢিপ ঢিপ করে আমার। আমি পারব না ভজহরিদা, মাপ করো। আর ফ্যালাদার এটা ভারী অন্যায়, বউদিকে একা ফেলে বাইরে রাত কাটানো!"
ফ্যালাদা উতলা হয়ে আবার হাত ধরতে আসছিল। মনে পড়ে যেতেই জিব কেটে আবার পিছিয়ে গিয়ে বলল, "সরি।" তারপর বলল, "আর নেভার হবে না ব্রাদার। প্লিজ হেল্প করো এবার। হেল্প যদি না করো আমি রোডে ঘুরে ঘুরে পটল পিকআপ করব, মাইরি টেলিং।"
আমি ভজহরিদাকে বললাম, "আমি বউদিকে কী বলব? আর আমি বললেই বউদি ঘরে ঢুকতে দেবে ভাবছ কেন?"
ভজহরিদা বলল, "দেবে দেবে। বলে দিবি তোর শ্বশুর অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। তোর সঙ্গেই সারা রাত ছিল ফ্যালা।"
ফ্যালাদা হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছে। বউকে দরজাটা বন্ধ করতে বলে ফ্যালাদার সঙ্গে দুরু দুরু বক্ষে তার বাড়ি গেলাম। ভজহরিদা এখানেই থাকল।
.
ফ্যলাদার বাড়ি রাস্তার ওপর। বাড়ির দরজায় ধাক্কা দেওয়ার অনেকক্ষণ পর বউদি এসে দরজা খুলল। আমি মাস্কটা একটু নামিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম যাতে চিনতে না অসুবিধা হয়।
বউদি হুংকার দিলেন, "মাস্ক নামানো কেন? মাস্ক তোলো। আর ও বুঝি তোমাকে ধরে এনেছে যাতে আমি ঘরে ঢুকতে দিই?"
আমি তাড়াতাড়ি মাস্ক টেনে বললাম, "না না বউদি সব আমারই দোষ। কাল শ্বশুরমশাইয়ের শরীর খারাপের খবর পেলাম ফোনে। শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলাম ফ্যালাদাকে পেয়ে গিয়ে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলাম। ওখানেই সারা রাত..."
বউদি আমাকে থামিয়ে দিয়ে চোখ বড় বড় করে বললেন, "তোমার শ্বশুরমশাইয়ের করোনা হয়েছে?"
আমি বললাম, "না না ওই পাতি ডায়েরিয়া। পেটুক মানুষ, প্রচুর খেয়ে নেয় তাই মাঝে মাঝেই বাড়াবাড়ি হয়।"
বউদি তীব্র চাউনি দিয়ে আমাকে দেখতে দেখতে বললেন, "সত্যি বলছ? কিন্তু ওর গায়ে অমন মদের গন্ধ কেন?"
আমি ম্যানেজ দিলাম, "মদের? না না স্পিরিটের। বারবার স্যানিটাইজ করা হচ্ছিল তো, তাই।"
বউদি বললেন, "কিন্তু ও তো একথা বলেনি?"
ফ্যালাদা এতক্ষণে কথা বলল, "চান্সই পাইনি তো!"
বউদি বললেন, "এখন উনি কেমন আছেন?"
আমি বললাম, "একটু ভাল তবে সারারাত পটি করে খুব দুর্বল। বিছানাতেই শুয়ে আছেন। আজ কাঁচকলা সেদ্ধ খাবেন।"
বউদি বললেন, "এইরকম কাজে গেলে তো আর কিছু বলা যায় না। তবে একটা ফোন করে দেওয়া উচিত ছিল।"
ফ্যালাদার দিকে তাকিয়ে বললেন, "ঘরে যাও। সব ছেড়ে বাথরুমে ঢোকো। আমি দরজা বন্ধ করে যাচ্ছি।"
বাব্বা ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল। যাক মিশন সাকসেসফুল! খাণ্ডার বউদি মেনে নিয়েছেন। যাই ভজহরিদাকে গিয়ে সুখবরটা দিই।
.
বউদি দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন। আমি "আসি" বলে রাস্তায় নামতে যাচ্ছি এমন সময়...
'যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়' প্রবাদবাক্যকে নির্ভুল প্রমাণ করার জন্য দেখি শ্বশুরমশাই যেতে যেতে আমাকে ফ্যালাদার ঘর থেকে বেরোতে দেখে দাঁড়িয়ে পড়লেন।
বললেন, "কী ব্যাপার? তুমি এখানে এখন?"
আমার বুকের মধ্যে ড্রাম বাজছে। বললাম, "আপনি ঘরে যান, আমি যাচ্ছি।"
বউদি বললেন, "উনি কে? তোমার শ্বশুরমশাই না? তোমাদের বাড়িতে তো প্রায়ই আসেন!"
আমি বললাম, "না না উনি মামাশ্বশুর। আমার শ্বশুরমশাই তো বিছানায় শুয়ে আছেন।"
তারপর শ্বশুরমশাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললাম, "মামা আপনি যান, আমি যাচ্ছি।"
শ্বশুরমশাই রেগে টং হয়ে গেলেন, "কী মামা? আমি মামা?"
বলে ঝপ করে মাস্ক খুলে দিয়ে বললেন, "এইবার দেখে বলো, আমি মামা না তোমার স্ত্রীর বাবা! বাবা বলতে লজ্জা হচ্ছে তো বোলো না কিন্তু মামা বলবে না।"
বউদি সব বুঝতে পেরে গিয়ে রেগে ব্যোম হয়ে দৌড়ে ঘরে গিয়ে টানতে টানতে ফ্যালাদাকে বাইরে নিয়ে এলেন। ফ্যালাদা গামছা পরে আছে।
দাঁতে দাঁত ঘষে বউদি বললেন, "ঘরে ঢুকবে না, ব্যাস।"
.
শ্বশুরমশাই ততক্ষণে চলে গেছেন। ফ্যালাদা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। কয়েক সেকেন্ড পরে বলল, "কী হবে এবার ভাই?"
আমি দেখলাম প্রচণ্ড ভয়ে ফ্যালাদা ইংরেজি বলতেই ভুলে গেছে।
ভজহরিদা কী হচ্ছে কিছু না বুঝে এগিয়ে এল। গামছা পরিহিত ফ্যালাদা বলল, "পোর্টে এসে শিপ ডুবে গেল ভজু।"
যাক ফ্যালাদা ইংরেজি ফিরে পেয়েছে। আমি ভজহরিদাকে সব বললাম।
সব শুনে ভজহরিদা বলল, "তোর শ্বশুরের দোষ নেই। হঠাৎ করে বাবা থেকে মামা হয়ে যাওয়াটা মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু কিছু একটা করতে হবে, বুঝলি!"
তারপর ফ্যালাদার দিকে তাকিয়ে বলল, "তুই শালা একটা মিনমিনে ভীতু। ওষুধ চাই। তোকে সাহসী বানাতে হবে। তোরা দাঁড়া আমি একটু আসছি।"
.
কিছুক্ষণ পরে ভজহরিদা ফিরল। ফ্যালাদাকে একটা রামের ছোট বোতল দিয়ে বলল, "এইটা স্যাট করে মেরে দে তো?"
ফ্যালাদা ভয় পেয়ে বলল, "না রে ভজু ডোন্ট টেল মি টু ড্রিংক। শালা যত হুজ্জুত ফর দিস।"
ভজহরিদা বলল, "না খেলে তোকে এই রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। যা বলছি শোন। ঢক করে মেরে দে।"
আমি ভয় পেয়ে বললাম, "ভজহরিদা উল্টে কেস বিগড়ে যাবে না তো?"
ভজহরিদা বলল, "আর বিগড়ানোর কিছু নেই। এই ভাবে ও যদি রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে পুলিশ ওকেই তুলে নিয়ে যাবে।"
'খাব না' খাব না' করতে করতে খেয়ে নিল ফ্যালাদা।
.
কিছুক্ষণ পর ফ্যালাদার হাবভাবে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হল
ফ্যালাদা নিজের দরজায় জোরে জোরে লাথি মারতে লাগল।
আমরা আড়ালে চলে গেলাম।
বউদি দরজা খুলে বলল, "কী হয়েছে? দরজায় অসভ্যের মতো ধাক্কা দিচ্ছ কেন?"
ফ্যালাদা হুহুংকার দিল, "হোয়াট? হোয়াট? আমি ডোরে কিক মারব না কিস করব মাই উইশ আন্ডারস্ট্যান্ড মিসেস করুণা নো নো মিসেস করোনা ঘোষ?"
বউদি রেগে গলার ভলিউম খানিকটা বাড়িয়ে বললেন, "এই সাতসকালে মদ খেয়েছ? অসভ্য, ছোটলোক!"
ফ্যালাদা ডবল জোরে বলল, "ইয়েস ইয়েস। খেয়েছি। হান্ড্রেড বার খাব। থাউজেন্ড বার খাব। আমি নট জেন্টেলম্যান... গামছা পরে আছি আর আফটার সামটাইম সেটাও থাকবে না...খুলে যাবে...আর আমার শালা আন্ডারে জাঙিয়াও নেই... ছোটলোক... স্মলম্যান নেকেড হয়ে রোডে রোডে ঘুরব।"
তারপর ফ্যালাদা গলা ছেড়ে গান ধরল, "চাই না মাদার কিং হতে..." (চাই না মা রাজা হতে... মান্না দের বিখ্যাত গান)
বউদি বলল, "আর মাতলামি করতে হবে না। ঘরে চলো।"
দুম্ করে দরজা বন্ধ হয়ে গেল। ফ্যালাদার সংগীতও সেই সঙ্গে মিলিয়ে গেল। আমরা সামনে গিয়ে দেখলাম বাইরে কেউ নেই।
ভজহরিদা বলল, "নেশার ঘোর কাটলে ফ্যালার কপালে বহুত দুঃখ নাচছে। শালাকে নীল ডাউন করে না রেখে দেয়!"
আমার খিদে পাচ্ছে খুব, বাড়ির দিকে পা বাড়ালাম....
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০২০ রাত ১১:৪৭
৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×