
তো জন্মদিনে বৌএর জন্য কী স্পেশাল করা যায় ভাবতে ভাবতে ঠিক করলাম চুল কাটতে যাব সেলুনে। কারণ এই মুহূর্তে চুল কাটাটা সবচেয়ে স্পেশাল ব্যাপার। কতদিন আগে কেটেছি!
.
যে সেলুনে চুল কাটি তার নাম "শাইনিং জেন্টস পার্লার।" যে কাটে তার নাম পাপাই। পাপাই প্রথমে ডেটল জল স্প্রে করল আমার সারা গায়ে। জামা ভিজে টিজে সে এক বিতিকিচ্ছিরি ব্যাপার। তারপর হাতে স্যানিটাইজার দিয়ে বলল, "ভাল করে হাতে ঘষুন। তারপর মুখে লাগান তারপর চুলে।"
আমি অবাক হয়ে বললাম, "হ্যান্ড স্যানিটাইজার মুখে চুলে?"
পাপাই অভয় দিল, "কিচ্ছু হবে না। আমি সবাইকেই দিয়ে তারপর কাটছি।"
আমার মুখ জ্বলতে শুরু করল। তখন পাপাইও হাতে স্যানিটাইজার লাগাচ্ছে।
আমাকে পাপাই জিগ্যেস করল, "জ্বলছে? তার মানে করোনাগুলো মরছে।"
আমি নিশ্চিন্ত হয়ে বসলাম। কারণ করোনা বা কোভিড মরার এমন নিশ্চিত প্রমাণ কেউ পেয়েছে বলে মনে হয় না।
যাক, সব করোনা মরে যাওয়ার পর মানে জ্বলুনি কমার পর ও চুল কাটা শুরু করল। আমি বললাম, "একটু দেখে কাটিস। গতবার এমন খাপচে দিয়েছিলি যে কদিন বাড়ি থেকে বেরোতে পারিনি।"
পাপাই বলল, "আমাদের কষ্টটা কেউ বোঝে না। এইসব বেখাপ্পা মুখে চুল সেট করা যে কী ঝামেলার! নিন নিন সোজা হয়ে বসুন। দেখছি কী করা যায়!"
.
চুল কেটে বেরোতেই দেখি একটা খাসি মাংসের দোকানে বেজায় ভিড়। মাইকে অ্যানাউন্স করছে, "শুধুমাত্র আজকের জন্য সাতশো টাকার খাসি মাংস পাঁচশো টাকা কেজি।"
বৌএর জন্মদিনের জন্য স্পেশাল ডিসকাউন্ট নাকি!
একজনকে জিগ্যেস করতে সে আমাকে গলা নামিয়ে বলল, "ছাগলগুলোর করোনা হয়েছে তাই সস্তায় ছেড়ে দিচ্ছে, বুঝলেন?"
আমি অবাক হয়ে বললাম, "পশুদের করোনা হয় না শুনেছি?"
লোকটা মুখ বেঁকিয়ে বলল, "ধুর মশাই, এই তো এক্ষুনি দেখলাম একটা ছাগল দুবার হাঁচল অমনি তাকে ভেতরে নিয়ে চলে গেল।"
আমি দেখলাম বাইরে কিছু ছাগল বাঁধা আছে। তারা মাঝে মাঝেই হাঁচছে।
.
সে যা হয় হোক, আজ খাসি খেতেই হবে। আমি লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লাম।
আমি লক্ষ করলাম, প্রত্যকের মাস্ক গলায় ঝুলছে। আমি একজনকে জিগ্যেস করলাম, "আচ্ছা দাদা করোনা কি এখন গলা দিয়ে ঢুকছে? সবারই দেখছি মাস্ক গলায় ঝুলছে।"
ওই লোকটা ভুরু কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "তো কী পোঁদ দিয়ে নিশ্বাস নেব? শালা নাকে-মুখে বেঁধে দম আটকে আসছে!"
নাহ্ এইসব লোককে ভাল মনে কিছু জিগ্যেস করতে যাওয়া উচিত নয়।
.
বৌএর জন্মদিন যে সাধারণ ব্যাপার নয় সেটা সকালেই বুঝে যাই। কারণ প্রথম শুভেচ্ছা বার্তা আসে ভোডাফোন থেকে। আমার এই মুহূর্তে সব চেয়ে রাগ যার ওপর তার থেকেই প্রথম শুভেচ্ছা! ভোডাফোনের যা জঘন্য সার্ভিস তাতে তারা ঠিক দিনে যে ঠিক মানুষের কাছে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতে পারে এটা দেখেই রীতিমতো আশ্চর্য হলাম।
এরপর শুভেচ্ছা বার্তা আসে ফ্লিপকার্ট, সস্তাসুন্দর এবং চন্দ্রাণী পার্লস থেকে।
তারপর অবশ্য কিছু আত্মীয়ও শুভেচ্ছা জানান। এ বছর বৌএর জন্মদিন এভাবেই সাদামাটা কাটালাম। পরের বছর ইচ্ছা আছে...আচ্ছা একদিনের জন্য তাজমহল বুক করলে কত টাকা নেয়? সেসব না হয় পরের বছরই জেনে নেব। আপাতত যাই একটু ভাতঘুম দিই...
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৩:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



