somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প : পকেটমার

২৪ শে জুন, ২০২০ রাত ২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টুসি গলিতে দাঁড়িয়ে আছে। অনেকক্ষণ পরে মাধব এল।
যেন হীরো হীরালাল। বুকে "ওয়াশিংটন" লেখা টি শার্ট। চোখে সানগ্লাস হাতে ইয়া বড় একখানা মোবাইল ফোন।
.
মাধব সবসময় এইরকম টিপটপ ঝক্কাস্ হয়ে থাকে। ওর কাছে অনেক টাকা থাকে। বিজনেস করে ভাল কামাই করে। কিন্তু কিসের বিজনেস করে কখনও বলেনি টুসিকে।
এসেই একটা বড় ক্যাডবেরি চকলেট টুসির হাতে ধরিয়ে দিল। অমনি টুসির সব রাগ জল হয়ে গেল।
.
মাধব বলল, "বিজনেসের কাজে আটকে গিয়েছিলাম। টাকা পেতাম, নিয়ে এলাম।"
বলে একটা মানিব্যাগ বের করল মাধব। দেখতে একেবারে অবিকল দাদাবাবুর মানিব্যাগের মতো, মানে যার বাড়িতে টুসি কাজ করে, তার মানিব্যাগের মতো।
টুসি মানিব্যাগটা ছিনিয়ে নিয়ে দেখল। হ্যাঁ দাদাবাবুরই। বৌদির ছবি আছে।
টুসি বলল, "এই মানিব্যাগ তুমি কোথায় পেলে? এটা তো দাদাবাবুর!"
মাধব জিব কেটে বলল, "যাহ শালা তাহলে সেমসাইড হয়ে গেছে! ভুল পকেট.."
-- "পকেট? কী? তুমি পকেটমার?"
-- "আমি হাত সাফাই করি। পকেটমার কথাটা ফালতু। আমার হাতে এমন জাদু আছে, কেউ জানতেই পারেনা, তার পার্স হাওয়া হয়ে গেছে।"
-- "পকেটমারের সঙ্গে আমি.. আমি..."
মানিব্যাগটা ছুঁড়ে দিয়ে টুসি হাঁটা শুরু করল। পকেটমারের সঙ্গে সে প্রেম করতে পারবে না। মাধব হাত ধরে টেনে আটকানোর চেষ্টা করল, কিন্তু হাত ছাড়িয়ে টুসি বলল, "পকেটমারের সঙ্গে প্রেম করার চেয়ে গলায় দড়ি দেওয়া ভাল।"
মাধব তবু পিছু ছাড়েনি, টুসি বলল, "দাদাবাবুকে মানিব্যাগ ফেরত দিয়ে ক্ষমা চাইবে। আর কোনদিন পকেটমারি করবে না। তাহলে..."
কথা শেষ না করেই প্রায় দৌড়ে চলে গেল টুসি।
.
চারদিন পর।
দাদাবাবু অফিস থেকে ফিরে বলল, "আজ একটা অদ্ভুত কাণ্ড হয়েছে। রাস্তায় একটা ছেলে এসে বলল, এই নিন আপনার মানিব্যাগ। আমি বললাম এটা তো হারিয়ে গিয়েছিল তুমি কী করে পেলে? বলল, আমি মেরে ছিলাম কিন্তু তারপর থেকে পকেটমারি ছেড়ে দিয়ে বাজারে মাছ ব্যবসা করছি।"
বৌদি অবাক হয়ে বলল, "তাই? এরকম হয়? তারপর?"
-- "তারপর আর কী, আমি পকেটমার-পকেটমার করে চেঁচিয়ে লোক জড়ো করে দিলাম। শালা পকেটমার নাকি আবার সাধু হয়ে গেল। নিশ্চই অন্য কোনও মতলব আছে এর পেছনে। তারপর সবাই মিলে বেধড়ক ক্যালালাম। একজন আবার লাঠি দিয়ে ওর হাঁটুর মালাই চাকিতে ধাঁই করে মারল। আর ব্যাটাকে সোজা হয়ে হাঁটতে হবে না। তারপর পুলিশ এসে হাসপাতালে নিয়ে গেল।"
.
ছাদে উঠে হাউহাউ করে কেঁদে ফেলল টুসি।
-- "আমার জন্যই তোমার এই অবস্থা হলো.. কী নিষ্ঠুর এই মানুষগুলো..তুমি ভাল হতে চাইলে তাও..."
.
আরও পাঁচদিন পর।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে মাধব। সারা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যান্ডেজ। পাশে টুলে একজন পুলিশ বসে আছে।
মাধবকে ওই অবস্থায় দেখে টুসির বুকটা হু হু করে উঠল।
মাধব পুলিশ কনস্টেবলকে বলল, "কী গুরু বলেছিলাম না আমার একজন লাভার আছে? এই সেই। নাম টুসি।"
.
টুসি বলল, "আমার জন্যই তোমার এই অবস্থা। অমন ভালমানুষ দাদাবাবু যে এমন নিষ্ঠুর আমি ভাবতেই পারিনি।"
মাধব বলল, "আরে, ছোড়ো কাল কি বাতেঁ, কাল কি বাত পুরানি... এই যে তুমি এসেছ আমার দিল একদম খুশ হয়ে গেছে। সব ব্যথা হাপিশ হয়ে গেছে। জানো, আমি জেল থেকে ছাড়া পেলে মাছের বিজনেস করব। বাজারে মাছ নিয়ে বসব।"
টুসি কিছু বলল না। তার চোখে জল।
মাধব ফিসফিস করে টুসিকে বলল, "টুসি একটা কথা বলো না মাইরি, জেলখাটা ল্যাংড়া মাছওয়ালাকে বিয়ে করবে তো?"
টুসি মাধবের হাতটা খুব শক্ত করে ধরল...
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০২০ রাত ২:৩৩
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×