somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য : ব্রাজিল, বিশ্বকাপ ও পকাই বৌদি

২১ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ১০:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি প্রথম থেকে ব্রাজিলের সমর্থক ছিলাম না। পকাই-বউদি ছিল ব্রাজিলের সমর্থক।
.
সে অনেক কাল আগের কথা।
মাসির বাড়ি গেছি। আমরা ভাইয়েরা গল্প করছি দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর। সেই আড্ডায় যোগ দিয়েছে পকাইদার নব বিবাহিত বউ।
পকাইদা থাকত মাসির বাড়ির পাশেই। ঘ্যামা চাকরি করত। মাসির বাড়িতেই সারাক্ষণ আড্ডা মারত। পকাইদার অফিস থাকায় আড্ডায় ছিল না। ছিল পকাইদার বউ।
.
সেই সময় ফুটবল বিশ্বকাপ চলছিল। পকাইদার অপূর্ব সুন্দরী বউ আমাদের জিগ্যেস করল, "তোমরা কে কোন দেশের সাপোর্টার?"
.
আমি সেভাবে কোনো দেশের সাপোর্টার ছিলাম না। খেলা দেখতাম, আর কেউ জিগ্যেস করলে বলতাম, যে ভাল খেলবে তার সাপোর্টার আমি। নিজের দেশ খেললে আলাদা কথা ছিল। অন্য দেশকে সাপোর্ট করব কেন?
.
বউদির প্রশ্নের উত্তরে মাসতুতো ভাই-টাইদের কেউ বলল, আর্জেন্টিনার, কেউ বলল, জার্মানির। এমনকি একজন ইতালির সমর্থকও বেরোল।
বউদি সুন্দর মুখ কালো করে বলল, "যাহ! ব্রাজিলের ফ্যান নেই?"
রূপসী বউদির সেই বিষাদগ্রস্ত মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আর স্থির থাকতে পারলাম না। হাত তুলে বললাম, "এই তো আমি আছি, ব্রাজিলের ফ্যান। আপনি আমাকে শুধু ফ্যান কেন ফ্যান-ফ্যানার-ফ্যানেস্টও বলতে পারেন।"
বউদির মুখ খুশিতে ঝলমলিয়ে উঠল। আমার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করল।
আর সেই থেকেই আমি ব্রাজিলের ফ্যান হয়ে গেলাম।
ব্রাজিলের সাপোর্টার হবার সুফল তৎক্ষণাৎ পেয়েছিলাম। বউদি আমাকে পরের দিন দুপুরবেলায় তার বাড়িতে ডেকেছিল। প্রবল উত্তেজনায় সে রাতে আমার ঘুম হয়নি। ভরদুপুরে ডাক! কী হয়! কী হয়!

তেমন কিছুই হয়নি অবশ্য। বউদি আমায় রোনাল্ডিনহোর ছবি দেখিয়ে বলেছিল, "এই দেখো আমার প্রেমিক! আমার জান!"
আমি ফিসফিস করে বললাম, "পকাইদাকে বিয়ে করলে কেন তবে? তুমি যা ব্যাপক দেখতে রোনাল্ডিনহো জানতে পারলে তোমায় ঠিক বিয়ে করে নিত।"
বউদি গভীর গলায় বলল, "বিয়ে না করলেই বা কী! ও আমার বুকের মধ্যে থাকবে আজীবন।"
পকাইদা বাড়িতে ছিল, বলল, "ওকে ডেকে শুধু তোমার প্রেমিকের ছবি দেখিয়ে ভাগিয়ে দিও না। কাল যে মিষ্টি এনেছি তার থেকে দুটো দিও।"
আমি গম্ভীর গলায় বললাম, "না না তার কোনো দরকার নেই। আমি আমার প্রিয় দেশ ব্রাজিলের ফুটবল নিয়ে একটু আলোচনা করেই চলে যাব।"

এর পর আমার মাসির বাড়ি যাওয়া বেড়ে গেল। আর পকাই-বউদির সঙ্গে ব্রাজিলের ফুটবল নিয়ে গভীর আলোচনাও চলতে থাকল। আমার এই ঘন ঘন আলোচনার জন্যই কিনা কে জানে, পকাইদা বউদিকে নিয়ে বিদেশে চলে গেল। না ব্রাজিল নয়, জার্মানি।
আমি দুঃখে-শোকে দুদিন এক রকম না খেয়ে থাকলাম।
.
কিন্তু আসল দুঃখের দিন তো শুরু হল তার পরে। চেনা-জানা মহলে আমার ব্রাজিলভক্তির 'বার্তা রটি গেল ক্রমে।' আমি অবাক হয়ে দেখলাম আমার পরিচিত জনরা সবাই যে দেশেরই সাপোর্টার হোক না কেন, তারা তীব্রভাবে ব্রাজিল বিরোধী। ব্রাজিল হারলে তাদের পৈশাচিক আনন্দ হয়।

আমি পকাই-বউদি থেকে ব্রাজিলের ফ্যানত্বে দীক্ষা নেওয়ার পর থেকেই ব্রাজিল হারতে শুরু করল। কোনো বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে আবার কোনোটায় প্রি-কোয়ার্টারে।
আমার সামনে সে কী উল্লাস! আর্জেন্টিনা হয়তো আগেই হেরে গেছে তবু ব্রাজিল হেরেছে বলে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা আমার কাছে এসে লাফাচ্ছে। বাজি ফাটাচ্ছে।
.
সব কি শুধু খারাপই হবে? একদিন ভালও তো কিছু হবে!
এক সকালে মাসতুতো ভাইয়ের ফোন এল, "তোর ব্রাজিল-বউদি এসেছে, চলে আয়।"
এ ডাক অগ্রাহ্য করা যায়!
.
পকাইদা আর বউদি দুজনকেই চেনা যাচ্ছে না। ধবধবে ফর্সা হয়ে গেছে দুজনেই। বউদি সুন্দর তো ছিলই কিন্তু এখন সৌন্দর্যটা পুরো খুনখারাপি টাইপের হয়ে গেছে। বয়স বেড়েছে কিন্তু এখনও চোখের চাউনি দিয়ে মানুষ খুন করে দিতে পারে।

একা পেয়ে বউদিকে বললাম, "এখনও বুকের মধ্যে সে-ই আছে তো?"
বউদি বলল, "থাকবে না মানে! ওকে ছাড়া আমি বাঁচব নাকি! ও আমার জিগর-কা-টুকরা!"
এক মুহূর্তে সব অপমান ভুলে গেলাম। আমার হৃদয় সাম্বা নাচ শুরু করে দিল।

বউদি বলল, "আমি ওর জন্য সব করতে পারি জানো! আমি দেখা করেছি ওর সঙ্গে। সেলফিও নিয়েছি। দাঁড়াও দাঁড়াও তোমায় দেখাই।"
ছবি দেখে আমার ব্রেন-হার্ট-কিডনি-লিভার কয়েক সেকেন্ডের জন্য কাজ করা বন্ধ করে দিল!
রোনাল্ডিনহো কই? এ যে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো!
বউদি বলে চলেছে, "আমি চাই এবার বিশ্বকাপটা পর্তুগাল জিতুক..."

পকাই-বউদি তুমিও? তুমিও!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ১০:২২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি বদলে যাচ্ছি......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ৯:৪৬

আমি বদলে যাচ্ছি.....

আমার বন্ধু দেবনাথ সেদিন ৬৫ বছর বয়সে পা দিল।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, 'নিজের মধ্যে- এই বয়েসে পৌঁছে, কিছু পরিবর্তন অনুভব করছ কি?'

বন্ধু উত্তর দিল.....

এতবছর নিজের পিতামাতা, ভাইবোন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মদ, নারী ও লেখক

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১:২৫



একজন লেখক বললেন, আমি কেন মদ খাই, তা আমি জানি। তুমি খেতে চাও না, খেয়ো না।
প্রতিভাবান পুরুষরা যদি ঠিক আশ মিটিয়ে মদ আর নারী সঙ্গ না ভোগ করে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিস্ময়বোধক চিহ্নের অসুস্থ সমাচার!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৩:১২



গত সপ্তাহ সোমবার সকাল সাড়ে আটটার সময় ক্রিসের একটা ফোন পেলাম। ক্রিস চি চি করে মোটামুটি করুণ সুরে বললো,
মফিজ, আমি আজকে অফিসে যাইতে পারবো না। তুমি দয়া কইরা বসরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কার্তিকের জলে পা ডুবিয়ে বসতে চাই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৪:০৮



©কাজী ফাতেমা ছবি

হিম জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকতে চাই নিরিবিলি,
জলের সাথে কিছু গোপন গল্প হবে আমার,
আর সময়কে দেখাবো বুড়ো আঙ্গুল,
সময় ভেবেছে সে আমার উচ্ছলতাগুলো কেড়ে নিয়ে
ঠেলে দিয়েছে বিষাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। কবির আর্তনাদ

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৫:০৫



তিনটি ঘটনা আমাকে চিরস্থায়ীভাবে সংসারবিমুখ করেছিল |
৭২ বছরের জীবন পেলাম। সময়টা নেহাত কম নয়। দীর্ঘই বলা যায়। এই দীর্ঘ জীবনের পেছনে ফিরে তাকালে তিনটি ঘটনার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×