somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য : বিয়ে বাড়ির খাওয়া ! B:-)

০১ লা জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিয়ের আচার অনুষ্ঠান আমার কোনোদিনই মাথায় ঢোকেনি । আমাকে যেটা সবথেকে টানে সেটা হল খাওয়াদাওয়া । জাস্ট অভিজ্ঞতা থেকে বিয়েবাড়ির খাদকদের আমি একটু ক্যাটেগরিস্থ করার চেষ্টা করলাম ।
দি অসুস্থ: এনারা চরম রোগগ্রস্থ । বিয়েবাড়িতে ঢুকে থেকে জনে জনে ধরে নিজের রোগের ফিরিস্তি দেন । প্রেসক্রিপশন পকেটে নিয়ে খেতে বসেন । ডাক্তার কি কি খেতে ওনাকে বারন করেছেন সেটা দুশো আটষট্টিবার টেবিলের বাকি লোকেদের শোনান । কি খেলে ওনার ইয়ে এঁটে যায় তাও আপনাকে শুনতে হবে । শুনতেই হবে । এনারা কেন খেতে আসেন তা বলা ভগবানেরও অসাধ্য ।
দি স্বল্পাহারী : এনারা শুরু থেকেই টিয়াপাখির মত আওড়াতে থাকেন... "অল্প" । নুন লেবু থেকেই ডায়লগ চালু । ভেজিটেবল চপ দিতে এলেও বলবেন "অল্প" । আরে ভাই দাবী কি ? ভেঙে অর্ধেকটা দেবে ? "অল্প" "অল্প" করেও কিন্তু একবারও "না" বলবেন না । তিনবার মাংস নেবেন , চারবার ভাত । তবু শেষে সাবানজল দিতে এলেও বুলি বন্ধ হবেনা-- "অল্প" ।
দি বুভুক্ষু: জগতে সবক্ষেত্রেই ব্যালেন্স লাগে । বিয়েবাড়িতেও লাগে । তাই স্বল্পাহারীর পাশের সিটেই এমন একজন দরকার যার খাওয়া দেখলে আপনি নিজেই দুপিস মাংস কম নেবেন । আয়োজকের দুরবস্থা ভেবে আপনার আর লুচি নিতে ইচ্ছে করবে না । এনারা কোনো রাখঢাক করেন না । শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গাঁতিয়ে খান ।
দি অপব্যয়ী: এনারা গিফ্টের পয়সার পাঁচগুন উসুল করার উদ্দেশ্যে মাঠে নামেন । খাওয়া মধ্যমানের , কিন্তু অঢেল জিনিস নেন । এবং শেষে যে গন্ধমাদন পাতে জড়ো করে আসন ছাড়েন , তা দিয়ে আরামসে চারটে কুকুরের পেট ভরে যায় ।
দি শীঘ্রপতন: উল্টোপাল্টা ভাববেন না । এনারা বিয়েবাড়িতে ঢুকেই কফি পকোড়া ফুচকা ইত্যাদি স্টার্টার খেয়ে পেট ডাঁই করে ফেলেন । আসল খাবার জায়গায় বসে আর কিছুই খেতে পারেন না ।
দি বিদঘুটে: এনাদের খাওয়া দেখলে আপনার নিজের খাওয়া থেকে ভক্তি উঠে যাবে । এনারা সোজাসাপ্টা কিছু খেতেই পারেননা । মাংসের ঝোলে ডিমের ডেভিল ডুবিয়ে খাবেন ; হাত ধোয়ার লেবু গ্লাসে কচলে তাতে নুন আর রসগোল্লার রস চিপে মিশিয়ে শরবত বানাবেন ।
আমি একজনকে দেখেছিলাম মাছের গ্রেভী আর চাটনি দিয়ে ভাত মেখে সেটা তরকারি হিসাবে ইউজ করে তা দিয়ে রাধাবল্লভী খেতে । এটা দেখে আমি হাসবো না কাঁদবো না টেবিল ছেড়ে ছুটবো বুঝে পাইনি ।
দি মাংসাশী: এনারা টার্গেট সেট করে খেতে বসেন যে মুরগি বা ছাগলের বংশলোপ করিয়েই ছাড়বেন । শুরু থেকে টুক টুক করে পাখির মত খাবেন ; কিন্তু মাংস খাওয়ার সময় দেখে মনে হবে দু সপ্তাহের অভুক্ত হায়নায় হাড় চিবোচ্ছে । এবং মাংস পর্ব শেষ হলে বাকিটুকু আবার সেই পাখির ভোজন !
দি মিষ্টিলাভার: এনারা বাকি সব নর্মালি খান । কিন্তু মিষ্টির ক্ষেত্রে আলাদাই আত্মা ভর করে । চল্লিশটা রসগোল্লা নেবেন , পঁচিশটা সন্দেশ । এবং দই দিয়ে বোঁদে মেখে না খেলে তো এনাদের খাবার হজমই হয় না ।
দি খুঁতখুঁতে: এটা সবচেয়ে ইমপর্টেন্ট । এবং বিয়েবাড়ির বেশিরভাগ পাব্লিক এই শ্রেণীর । এনারা শুরু করবেন স্যালাদের শসায় দানা কম বলে । তারপর একের পর এক অভিযোগ । লুচিতে ময়েন কম , ভাতে চিনি কম , মাংসতে তেতো কম , চমচমে নুন কম , আইসক্রিমে গরম কম ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি । এবং শেষে বলতে বলতে উঠবেন... " ওটা মিনারেল ওয়াটার না ছাই, ডাঁহা পুকুরের জল । খেলেই বোঝা যায় হাইড্রোজেন কম। "
আরেকটা ক্যাটাগোরি আছে, সবজান্তা_গামছাওয়ালা। এরা #খুঁতখঁতের নেক্সট স্টেপ। ভজহরি মান্না চোর, ভোজ আর আগের মত নেই, বিজলিগ্রীল স্রেফ নামেই কাটছে, দাওয়াত তো মাওড়াদের “ক্যাটারার” এসব গুষ্টির তুষ্টি করে শেষে আসল কথাটা পাড়বেন। অশোকদা ক্যাটারার ঠিক করলো, আমায় একবার জানালো না। পদ্মপুকুরের আহার ক্যাটারার ঠিক করে দিতাম ফিফটি পার্সেন্ট কস্টে হয়ে যেতো। লোকজন খেয়ে ধন্যধন্য করতো।
আপাতত এগুলো মনে পড়ল ।
এবার আপনি ভাবছেন আমি কোন দলে ?
আমি হলাম 'দি পর্যবেক্ষক শ্রেণী'র ।
এনারা নিজের খাওয়া ছেড়ে আশেপাশে চোখ চালাতে বেশি পছন্দ করেন । এবং বেরিয়ে পরিচিতদের সাথে আলোচনা করবেন ..... "ওই হলুদ জামা লোকটা কত্ত মাংস নিল দেখেছ " ?

(প্রাণ খুলে হাসলাম। লেখকের নাম জানি না,আপনারা নাম জানতে পারলে share করবেন pl =p~ )
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ২:৩৪
১১টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক: একটি প্রগতিশীল (?) অগ্রযাত্রা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮


আমি আসলে জন্মগতভাবেই খুব আশাবাদী মানুষ। সত্যি বলছি। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা জারি করল, আমি মনে মনে বললাম , অবশেষে কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষের জন্যে আপনি কি করতে পারেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



পৃথিবীতে অনবরত বিভিন্ন ধরণের কাণ্ড ঘটে চলেছে, যা একজন মানুষের মনকে ভারাক্রান্ত করতে বাধ্য। হামে কাছের মানু্ষ মারা যাচ্ছে, দুর্ঘটনায় বন্ধুর মৃত্যু কিংবা ইরান - যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে প্রাণহানি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×