somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য : সেফটিপিন

২৪ শে এপ্রিল, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উপলকে দেখে সবাই ফিক ফিক করে হাসছে। উপল জানে কেন হাসছে সবাই।
ওর প্যান্টের চেন খোলা। আসলে খোলা ঠিক নয়। ছিঁড়ে গেছে। হাঁটছিল সে, হঠাৎ খেয়াল হল প্যান্টের চেন টানতে ভুলে গেছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ে জোরে চেন টানতে গিয়ে পটাং করে ছিঁড়ে গেল। আর আজই দেখে দেখে টি-শার্ট আর স্কিন টাইট জিন্স পরেছে। জামা হলে, ছেড়ে দিলে, ঢাকা থাকত। কিন্তু ছোট টি-শার্ট। ফলে...
একজন পুরুষমানুষের জন্য এর চেয়ে বিড়ম্বনার আর কিছু নেই!
.
এক গম্ভীর টাইপ চল্লিশ প্লাস মহিলা যেতে যেতে দাঁড়ালেন, তারপরে একটা সেফটিপিন উপলের হাতে দিয়ে বললেন, "দেখুন এটা দিয়ে যদি কিছু হয়।"
জিন্সের প্যান্টে সেফটিপিন!
চেষ্টা করতেই হয় ভদ্রতার খাতিরে। ভদ্রমহিলা দাঁড়িয়ে রইলেন। উপল নর্দমার দিকে মুখ করে লাগানোর চেষ্টার ভান করল।
মাঝবয়েসি ভদ্রমহিলার চোখে কালো ফ্রেমের মোটা লেন্সের চশমা। বললেন, "খুব সাবধানে। জায়গাটা বিপজ্জনক।"
সে কী আর উপল জানে না!
কিন্তু এরকম গায়ে পড়া মানুষ জন্মে দেখেনি সে। যেন গোদের ওপর বিষ ফোঁড়া! একে প্যান্টের চেন ছিঁড়ল, তার ওপর এই রকম চিটানি মহিলা!
সেফটিপিন ফেরত দিয়ে উপল বলল, "হবে না।"
ভদ্রমহিলা বললেন, "বাড়ি কত দূরে?"
.
বেশ ঝামেলায় পড়ল তো! এখন এই চিটানির হাত থেকে রেহাই পাওয়াই তো মুস্কিল!
বলল, "একটু দূর আছে।"
মহিলা বললেন, "এভাবে হাসির খোরাক না হয়ে একটা ট্যাক্সি-ফ্যাক্সি নিয়ে বাড়ি চলে যান।"
এইবার মাথা গরম হয়ে গেল উপলের। বলল, "আমাকে নিয়ে আপনার এত মাথা ব্যথা কেন বলুন তো?"
মহিলা আপনি থেকে তুমিতে নেমে বললেন, "সবাই তোমাকে দেখে হাসছে, খারাপ লাগল আমার।"
উপল জোড় হাত করে বলল, "আপনি প্লিজ আপনার কাজে যান। আমি ঠিক চলে যাব।"
.
ভদ্রমহিলা চশমা খুলে চশমার মোটা কাঁচ আঁচলে মুছলেন। চোখও মুছলেন। তারপর বললেন, "ঠিক তোমার মতো আমার এক ভাই ছিল। সাইকেলে করে যাচ্ছিল, পেছন থেকে অটো ধাক্কা মারে। ছিটকে পড়ে দূরে। মাথায় আঘাত লেগে স্পট ডেথ। এখনও এক বছরও হয়নি।"
শুনে উপল জোর ধাক্কা খেল। ও এই ব্যাপার! বলল, "আচ্ছা, এবার বুঝলাম। ঠিক আছে আমি একটা টোটো ধরে বাড়ি চলে যাচ্ছি। কিছু মনে করবেন না, আমি আসলে..."
ভদ্রমহিলা থামিয়ে দিয়ে বললেন, "আমি কিছু মনে করিনি। আচ্ছা চলি।"
.
ভদ্রমহিলা একটু গিয়ে ফিরে এসে বললেন, "ওর সঙ্গে আর একজন বন্ধুও ছিল। ওরা কোচিং পড়তে যাচ্ছিল যে যার সাইকেলে। ওর বন্ধু পরে বলেছিল, ভাই নাকি সেদিন প্যান্টের চেন লাগাতে ভুলে গিয়েছিল। উল্টোদিক থেকে আসা কয়েকজন ওর চেন খোলা প্যান্ট দেখে এমন হেসে উঠেছিল যে ভাই হঠাৎ ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল কেন হাসছে দেখার জন্য। আর তখনই পেছন থেকে অটোটা সজোরে ধাক্কা মেরে দিয়েছিল।" /:)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:১৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুক্তিযুদ্ধা কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৩:৩২

কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।
সকল যোগ্যতা জিপিএ-্র প্রমান দিয়ে, এরপর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, সেকেন্ডারি।
এরপর ভাইবা দিয়ে ৬ লাখ চাকুরি প্রার্থি থেকে বাছাই হয়ে ১০০ জন প্রাথমিক নির্বাচিত।

ধরুন ১০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

মনা মামার স্বপ্নের আমেরিকা!

লিখেছেন কৃষ্ণচূড়া লাল রঙ, ১৪ ই জুন, ২০২৪ সকাল ১০:২৩

শুরুটা যেভাবে



মনা মামা ছিলেন একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, আর মনা মামা তার বাবার ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করতেন। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল অনেক টাকা কামানো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেনজীর তার মেয়েদের চোখে কীভাবে চোখ রাখে?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:০৬


১. আমি সবসময় ভাবি দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর যারা মিডিয়ায় আসার আগ পর্যন্ত পরিবারের কাছে সৎ ব্যক্তি হিসেবে থাকে, কিন্তু যখন সবার কাছে জানাজানি হয়ে যায় তখন তারা কীভাবে তাদের স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের সাতকাহন

লিখেছেন বিষাদ সময়, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:০১

অনেকদিন হল জানা আপার খবর জানিনা, ব্লগে কোন আপডেটও নেই বা হয়তো চোখে পড়েনি। তাঁর স্বাস্খ্য নিয়ে ব্লগে নিয়মিত আপডেট থাকা উচিত ছিল। এ ব্লগের প্রায় সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (চতুর্থাংশ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৯:২৭


আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (তৃতীয়াংশ)
আমার ছয় কাকার কোনো কাকা আমাদের কখনও একটা লজেন্স কিনে দিয়েছেন বলে মনে পড়ে না। আমাদের দুর্দিনে তারা কখনও এগিয়ে আসেননি। আমরা কী খেয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×