ফেসবুকের পাতা উল্টালেই ইদানিং যে নামটি নিয়ে বাঙালিদের মনে ঝড় ওঠে, তিনি আর কেউ নন— আমাদের সবার প্রিয় 'কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান' (সুইজারল্যান্ড প্রবাসী)! যাঁর নামের ওজন নিজেই একটা আন্তর্জাতিক পাসপোর্টের সমান। সুইজারল্যান্ডের বরফাবৃত পাহাড়ে বসেও যার সুপ্ত হৃদয় কাঁদে বাংলাদেশের থার্ড-ওয়ার্ল্ড সংস্কৃতির টানে!
ওনার ফেসবুক পোস্ট মানেই এক একটা বোমা। সেদিন দেখলাম তিনি লম্বা চওড়া এক স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেছেন— বাংলাদেশের মানুষ নাকি সেই আমলে নরমাল মমতাজ শুনতো, আর তারা সুইজারল্যান্ডে বসে শুনতেন "গহর মমতাজ"! মানে লেভেলের একটা ব্যাপার! বিদেশে থাকেন তো, তাই মিউজিক নিয়ে তাদের জ্ঞান আমজনতার মাথার ওপর দিয়ে যায়। দেশের কনসার্ট বা শিল্পীদের মান নিয়ে তার এমন সব গভীর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ পড়ে দেশের সাধারণ পোলাপান তো বটেই, খোদ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিও এখন বরফে জমে যাওয়ার যোগাড়।
আর ওনার পুরনো আইফোন বিক্রির সেই মহাকাব্যিক হালের ঘটনা কে ভুলবে? নিজের পুরোনো আইফোনটা পাড়ার কোনো ফালতু লোকের কাছে না বেচে, সভাপতি সাহেব একেবারে নাছোড়বান্দা হয়ে আমাদের গোলাপ মাহবুব ভাইয়ের ঘাড়ে চাপিয়ে তবেই ছাড়লেন। তাও আবার দেড়শ ইউরো ঠিক করে, পঞ্চাশ ইউরো নগদ আর বাকিটা 'আস্তেধীরে' নেওয়ার এক অভিনব কিস্তি প্রথা চালু করলেন! প্রবাসীদের সমিতি যে কতখানি রোমাঞ্চকর আর পরোপকারী হতে পারে, কামরুজ্জামান ভাইয়ের পোস্ট না পড়লে তা জানাই হতো না।
মাঝে মাঝে মনে হয়, সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতের আসল বরফ গলে কি না জানি না, তবে কামরুজ্জামান ভাইয়ের একেকটা ফেসবুক পোস্ট দেখলে সাধারণ বাঙালিদের কলিজার বরফ ঠিকই গলে পানি হয়ে যায়। ফেসবুকের নিউজফিডে এমন হাই-ফাই প্রবাসী ফিলোসফি আর খাঁটি বিনোদন না থাকলে জীবনটা একদম ত্যানা ত্যানা লাগত! হে সুইজারল্যান্ডের বরফসম্রাট, আপনার পোস্টের ফ্লো যেন এভাবেই চিরকাল বজায় থাকে!ধন্যবাদ জানাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




