মা হাসিনা,
শরীরটা একদমই ভাল নাই। যত বয়স হচ্ছে ততই নিজের কাছে যেন নিজে হেরে যাচ্ছি। আজকে তোমাকে লেখা আমার চিঠির ২য় পর্ব শুরু করব একটা বিরক্তি দিয়ে। মা গো, বঙ্গবন্ধুর মত একজন নেতা বাংলাদেশে এর কখনই আসবেন না এটা আমরা সবাই জানি আর নিজের পিতা হিসেবে যে তুমি কতটা গর্বিত সেটাও আমরা জানি কিন্তু সমস্য হলো সব জায়গাতেই বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধু করে তুমি তাকে সবার চক্ষুশুল করে দিচ্ছো। সেদিন বাসে যাচ্ছি...আমার পেছনের সিটে এক বাচ্চা তার বাবাকে বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখায় বলতেছিলো, ‘বাবা, বাবা, উনি কে’...বাবা উত্তর দিলো, ‘বঙ্গবন্ধু’...বাচ্চা বলল, ‘উনাকে সব জায়গায় দেখি কেনো?’...বিব্রত বাবা চারপাশ দেখে আস্তে করে উত্তর দিলো, ‘দেশ টা উনার মেয়ের...আর কোন কথা বলবানা তুমি চুপ!!!’। তাই বলি সবখানে উনাকে টেনে এনে তুমি কাজটা মোটেও ভাল করো না মা মনি। বঙ্গবন্ধু আমাদের ভালবাসায় আছেন...অন্তরে আছেন সুতরাং এইসব হাস্যকর বিষয়গুলা বাদ দিলে ভাল করবা। মানুষ বিরক্ত এগুলা দেখে।
বিটিভি দেশের সাধারণ মানুষের টাকায় পরিচালিত টিভি। এখানে মানুষ তাদের মনের মত অনুষ্ঠান দেখতে চায় সারাদিন তোমার পরিবারকেই দেখতে চায়না। একটা ব্যাপার মাথায় রেখো মা...জোড় করে মানুষের ভালবাসা আদায় করা যায় না। বঙ্গবন্ধু তার অসামান্য ভালবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করেছিলেন সুতরাং তোমাকেও সেটা করতে হবে। বিটিভির যা অবস্থা তাতে এটাকে কোন আমলে স্বামীর টিভি আবার কোন আমলে বাপের টিভি বলা যায়।
বেশ কিছুদিন আগে টিভি দেখতেছি আর ভাত খাচ্ছি...হঠাত তোমার একটা উক্তি শুনে গরম ভাত মুখের মাঝে আঁটকায় গেলো...রীতিমত জিহবা পুড়ায় ফেললাম। তুমি পরিস্কার বললা কবি কাজী নজরুল ইসলাম নাকি বঙ্গবন্ধুকে দেখে লেখায় উৎসাহ পেতেন। কোন সন্দেহ নাই জাতীয় কবির শেষ বেলায় বঙ্গবন্ধু তাকে সম্মান জানানোর ব্যবস্থা করেছেন...দেশের নাগরীকত্ব দিয়েছেন...তাকে বাংলাদেশে এনেছেন...কিন্তু মা গো, তোমার এই কথাটা শুনলে কবি তার নাগরীকত্ব সত্যি সত্যিই বিসর্জন দিয়ে দিতেন। মানুষ এগুলা দেখে হাসে মা মনি। এভাবে দুর্বল মন্তব্য আর করো না।
মা রে,
আইন জানলেই যে সে দেশের একটা গুরুত্বপুর্ণ মন্ত্রনালয় পাবে সে ধারনা কিন্তু ঠিক না। তাকে আইন জানার পাশাপাশি একটা বড় হৃদয়ের অধিকারীও হতে হবে। সাহারা খাতুন তোমার মন্ত্রীসভার সবচেয়ে খারাপ নির্বাচন। উনি কিছু কিছু কাজ ভাল করলেও প্রায় প্রায় খেই হারানো মন্তব্য করে বসেন। ফেলানী হত্যাকান্ডের মত এতটা দুঃখজনক ঘটনার পর উনি বলেছিলেন ফেলানী নাকি আমাদের দেশের না। উনাকে কথা বেশি বলার থেকে ভাল কাজ বেশি করতে বলবা।
আমি ব্যাক্তিগতভাবে হরতাল,ধর্মঘট পছন্দ করিনা কিন্তু মা মনি হরতাল আসলেই তুমি যে নতুন আইন বানায় বসছ...সেটা কিন্তু এক সময় তোমার গলার কাঁটা হয়ে আসবে। পথের থেকে লোক ধরেই যে আইনের ফাঁদে ফেলছো...সেটা কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্যায়।
পুলিশ বাহিনীকে তোমাদেরই ঠিক করতে হবে। তাদের কাজ দেশের আইন শৃংখলা রক্ষা করা কিন্তু তাদের কে যদি তুমি বিরোধী দলকে দমনে কাজে লাগাও তাহলে মানুষ তাদের প্রতি আস্থা হারায় ফেলবে।পুলিশের বিরুদ্ধ্যে কোন অভিযোগ পেলে সাথে সাথে সেটার প্রতি ব্যবস্থ্যা নিও...সাহারার মত ওভার রিএক্ট করো না।মনে রাখবা দোষে গুনেই মানুষ...তাই পুলিশেরও দোষ থাকতে পারে...তাদের বিরুদ্ধ্যে অভিযোগ তদন্ত করা মানে নিজ সরকারের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়ে যাওয়া না...বরং এটা সততার একটা নিদর্শন।
মা রে,
বেশ কিছুদিন আগে তোমার একট কাজে আমি খুবই হতাশ হয়েছিলাম। তোমার দলের সাবেক একজন ক্যাডার ‘বিপ্লব’ কে কিভাবে তুমি রাষ্ট্রীয় ক্ষমার সুযোগ দিলা? মানুষ তাহলে কিভাবে আদালতে সুবিচার প্রত্যাশা করবে? আমার হাতে সুযোগ আছে বলেই আমি সেটার সুযোগ নিয়ে একজন খুনিকে ছেড়ে দিবো? তাহলে বেগম খালেদা জিয়া যদি পরবর্তিতে আসেন তখন তিনিও তো একই কাজ করবেন...!!!। আমরা বলতো মা...কাদের প্রতি বিশ্বাস রাখব? কাদের উপর দেশ গড়ার ভারটা দেব? এটা তোমাকে ভালবাসার প্রতিদান মা মনি?
মা রে,
আদালত একটা পবিত্র জায়গা। মানুষ এখানে আসে সুবিচারের প্রত্যাশায়। কিন্তু আজকাল আদালত হয়ে গেছে নাটকের জায়গা। দেশের অনেক বড় সম্মানের জায়গা সুপ্রিম কোর্ট আমরা নোংরা বানিয়ে ফেলেছি...সেখানে হাতাহাতি,ভাংচুর,গালাগালি হয়। সেখানে সারারাত পুলিশ ঘিরে থাকে আরেকজন আইনজীবিকে ধরার জন্যে...শেষে একটা রফা হয়। মা গো...এই নোংরামি গুলা কি না করলেই না? এমন একটা সময় এসে যাবে...মানুশষ বিরক্ত হয়ে নিজেরাই নিজেদের হাতে বিচারের ক্ষমতা নিয়ে নেবে।
মা রে,
আবার ফিরে আসি আবুলের জায়গায়। বি আর টি সি তে ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা অনেক গুলা ভলভো সার্ভিস চালু করেছিলেন। বাস গুলা শুধু সুন্দরই ছিলো না...এটা আমার দৃষ্টিতে ঢাকা অন্যতম আরামদায়ক একটা বাহন ছিলো। শুধু মাত্র চড়ব না তোর গাড়িতে এমন একটা ভাব দেখায় আবুল সাহেব বন্ধ করে দিলেন সেটা। ভলভো গুলা এখন গ্যারাজে পরে আছে...দেশের মানুষ জানে না...তাদের কামাই থেকে দেয়া করের টাকায় কেনা বাস গুলাকে খুবলে খুবলে খাচ্ছে কারা? কি হতো এই বিলাসিতা না দেখায় বাস গুলা ঠিক করে চালালে? চীন থেকে আমদানী করা বর্তমানের বাস গুলার অবস্থ্যা কতটা ভাল? কতদিন টিকবে সেগুলা? তাই বলি মা রে, ভলভো গুলা শুধুমাত্র জিদের বশের ফেলে নষ্ট না করে সেগুলা ঠিক করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ওন্তত দিয়ে দেয়া যেতে পারে...তাতে লক্কর ঝক্কর বাসে চড়ে আমার বাচ্চাগুলার জিবননাশের ঝুঁকিটা অন্তত কমবে। তাদেরও তো ইচ্ছা জাগে একটু আরামে তাদের ক্যাম্পাসে আসবে...আবার ক্লাস করে আরামে ফিরে যাবে !!!।
মা গো,
তোমাকে লিখতে বসলে উঠা বড় কষ্টের কাজ। ফিরে আসব আবার অনেক বিষয় নিয়ে।ভাল থেক মা মনি। আল্লাহ হাফেজ।
ইতি,
তোমার গেদু চাচা।
১৮-১০-২০১১ ইং।
মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা গেদু চাচার খোলা চিঠির ২য় পর্ব।
মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে লেখা গেদু চাচার খোলা চিঠি।(১)
মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে লেখা গেদু চাচার খোলা চিঠি।(১)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



