somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সব বন্ধুই 'বন্ধু' নয় :(

০৭ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১.
তখন কলেজে পড়ি। কলেজে হোস্টেল নাই। পরিচিত এক মামার বাসায় থাকি। বাসা আর কলেজে নিয়েই ছিল তখন আমার কুয়োর ব্যাঙের জীবন। সেই জীবনে মফস্বল থেকে আসা আমার বন্ধু সংখ্যাও তাই স্বাভাবিকভাবে খুব একটা ছিল না। সেই অল্প সংখ্যক বন্ধুদের একজন ছিল রুপম।
তো একদিন রুপম এসে হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে বলল, দোস্ত এটা রাখ।
জিজ্ঞেস করলাম, কি এটা?
বলল, আইভির বাসার ফোন নম্বর।
- আইভি? সে আবার কে?
- আমার বন্ধু রাফিনের কাজিন। ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে। হেভী সুইট মেয়ে।
- আমি কি করব?
- তুই কি করবি মানে? ফোন নম্বর দিসি, ফোন করবি। কথা বলবি।
- ঠিকাছে। দেখি।
- দেখি টেকি না। অবশ্যই করবি।


২.
বাসায় এসে আমার আর ফোন করতে মনে থাকে না। পরের দিন রুপমের সাথে দেখা হলে জিজ্ঞেস করে, ফোন করেছিস?
- না।
- কেন?
- মনে ছিল না।
- ধুর শালা!

আরো কিছু শব্দ ব্যবহার করে। এখানে আরে সেগুলো লিখলাম না।

শেষ পিরিয়ডের পর ক্লাস থেকে বেরুনোর সময় রুপম এসে মনে করিয়ে দেয় আজকে যেন ফোন করতে ভুলে না যাই। আমিও আর যাতে ভুলে না যাই সেজন্য মনে মনে জপতে থাকি..আইভি, আইভি।
সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে দু'য়েক বার মুখ ফস্কে বেরিয়েও আসে আইভি..আইভি..। কিছু পোলাপান দেখলাম ঘাড় ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দেয়।

সেদিন খাওয়া দাওয়া শেষে ফোন করতে গিয়ে দেখি মামা ফোনে কার সাথে কথা বলছেন। মামার কথা শেষ হতে না হতেই মামি এসে ফোনের দখল নিয়ে নেন। অন্যান্য দিন এমন হয় না। আজকে শালার কপালটাই খারাপ। মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।


৩.
পরের দিন আবার রুপম জিজ্ঞেস করে, কি রে কথা হইছে?
- না ।
- কেন? আবার ভুলে গেছিলি?
- না। ফোন বিজি ছিল।
সে বিরক্ত হয়ে বলে
- তোরে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। মদনা কোনহানকার।

হঠাৎ মনে হল, আমার কথা বলার ব্যাপারে রুপমের এত আগ্রহ কেন?
আমি তাই সরাসরি বললাম, তোর এত আগ্রহ কেন? বেশী আগ্রহ হলে তুই-ই কথা বল না।
রুপম তখন বলে, অ্যারে ব্যাটা! আমাদের সবার তো আছে। তোর নাই। তাই ভাবলাম যদি তোর একটা সিস্টেম করতে পারি।


৪.
বাসায় এসে সুযোগ খুঁজতে থাকি। একসময় পেয়েও যাই। বুকে সাহস নিয়ে ফোন করি। এক মেয়ে ফোন ধরে। জিজ্ঞেস করি..
- আইভি কি আছে?
- আপনি কে বলছেন?
- আমি আইভির ফ্রেন্ড।
- ও আচ্ছা!
- আইভি কে দেয়া যাবে?
- অবশ্যই। একটু লাইনে থাকেন।

আমি অপেক্ষা করতে থাকি। প্রতিটা সেকেন্ড মনে হয় যেন এক একটা ঘন্টার চেয়েও দীর্ঘ। বুকের ভিতর দ্রুম দ্রুম আওয়াজ শুনতে পাই।
একসময়..জানি না ঠিক কতসময় হবে..তবে মনে হয়েছিল সুদীর্ঘ বছর পরে সেই মেয়েটির কন্ঠ আবার শুনতে পাই। সে বলে, আইভির সাথে কথা বলেন।

তারপর............../:)/:)

তারপর যা, তা আর বলার মত না। এক মহিলা খুব সম্ভবত কাজের বুয়া হবে....চৌদ্দগোষ্টি তুলে এমন সব গালি গালাজ শুরু করে যা আমি আমার জীবনেও আগে কখনো শুনা তো দুরের কথা কল্পনাও করি নাই। বুলেটের গতিতে দুনিয়ার যত গালি ছিল সব তিনি আমার প্রতি নিক্ষেপ করতে থাকেন। গালি শুনে মনে হয়েছিল...তিনি এই লাইনে অনেকদিনের অভিজ্ঞ। আর আমারও বুঝতে বাকী রইল না রুপমের এত আগ্রহের কারণ কি ছিলো।


৫.
গালি খেয়ে ভাবলাম শালার ব্যাটা রুপমকে কে ধরে আচ্ছা করে প্যাদানি দিই। কিন্তু পরে চিন্তা করলাম প্যাদানি দিলে ঘঠনা জানাজানি হয়ে যাবে। তখন সবাই এটা নিয়ে হাসাহাসি করবে। আমি তাই চুপচাপ সবকিছু হজম করলাম।

কয়েকদিন পরে রুপম আবার জিজ্ঞেস করে, কি রে দোস্ত! ফোন করেছিলি?
আমি বলি, না দোস্ত! তোর দেয়া কাগজ হারিয়ে ফেলেছি।

তারও কয়েকদিন পরে আমাদের ক্লাসের আরেক বন্ধু কথা প্রসঙ্গে বলে, রুপম যদি কখনো কোন নাম্বার দিয়ে ফোন করতে বলে তাহলে ভুলেও ঐ কাজ করবি না।

'কিছু জানি না'- এমন একটা ভাব নিয়ে জিজ্ঞেস করি, কেন রে? কি হয়েছে?

- অ্যারে! আর বলিস না। শালার পো, কই থেকে আজাইরা এক মেয়ের নাম্বার নিয়ে এসেছে। ফোন করলে এক মহিলা আজে বাজে গালা গালি করে।

আমি হেসে বলি, তুই জানলি কেমনে? ফোন করেছিলি?

- ধুৎ! ঐ সব আজাইরা কাজে আমি নাই। আমারে একজন কইছিলো। আমি তর লগে শেয়ার করলাম আর কি।

আমি মুখে বলি, থ্যাংকু দোস্ত। আর মনে মনে বলি, শালা তর মত আমিও ধরা খাইছি। কিন্তু কেউ রে কইতে পারতেছি না। নিজে নিজেই হজম করতেছি।
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখনই কওমী মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৮


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখনই কওমী মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিন। এর জন্য যদি আকাশ ভেঙে পড়ে, তাহলে ভেঙে পড়ুক। এর কারণে যদি দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা-ই হোক। এখনই উপযুক্ত সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমজনতা আর রাজনীতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১৮

দেশটা এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে চায়ের দোকানের বেঞ্চি থেকে শুরু করে ফেসবুকের কমেন্টবক্স পর্যন্ত সবাই ভূরাজনীতির গোপন উপদেষ্টা। কেউ ন্যাটো বুঝে, কেউ "র" এর ফাইল পড়ে ফেলেছে বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনৈতিক দল গঠনের মতো জনপ্রিয়তা ইউনুস সাহেবের ছিলো না ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ২:২৬


মাঝে মাঝে আমি ইউটিউবে বা মাহফিলে গিয়ে হুজুরদের ওয়াজ শুনি। শোনার কারণটা ধর্মীয় যতটা না, তার চেয়ে বেশি হলো আমাদের সমাজের হুজুররা দেশীয় অর্থনীতি বা সামাজিক ইস্যুগুলো নিয়ে সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×