somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাদিয়া..!!

১৬ ই জুন, ২০১১ দুপুর ২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি আমার জীবনে 'সাদিয়া' নামে আজ পর্যন্ত কোন অসুন্দরী মেয়েকে দেখিনি। সব সাদিয়া-ই সুন্দরী। কেউ আবার একটু বেশীই সুন্দরী, সুন্দরের সব সীমা এরা ছাড়িয়ে গেছে। তো আমাদের ইউনিতে বিবিএ তে পড়তো এক সাদিয়া। ভয়াবহ রকমের সুন্দরী। একটা কথা প্রচলিত আছে, সুন্দরী মেয়েদের ক্ষেত্রে নাকি শুধু সুন্দরটাই সম্বল, অন্যান্য আর কোন গুন তাদের মধ্য খুব একটা থাকে না। থাকলে সেটা এতটা গৌণ থাকে যে না থাকারই সমান।

কিন্তু সাদিয়া বেলায় সেটা ছিলো ভিন্ন। সে পড়াশুনায় ভালো (অন্তঃত তার রেজাল্ট সে কথাই বলে..যদিও এটা নিয়ে অনেক কান কথা শুনা যায়) । সে গান গাইতে পারে। ভাল ছবি আঁকতে পারে। আর তার বুদ্বিও মাশাল্লা অনেক ভালো ছিলো।

তার বুদ্বি ভালো এটা জানলাম কি করে? তার অনেক গুলো বয় ফ্রেন্ড দেখে। সাধারণত অনেক সুন্দরীকে দেখা যায় পোশাক পাল্টানোর মত কিছুদিন পর পর বয় ফ্রেন্ড পাল্টায়। সাদিয়া সেরকম ছিলো না। তার অনেকগুলো বয় ফ্রেন্ড ছিলো এবং সহজে বয় ফ্রেন্ড পাল্টাত না। সে সবগুলোকে নিয়েই চলত। তবে এক সাথে না। সকালে হয়তো একজন। দুপরে, বিকেলে কিংবা বিকেলের পরে আরেকজন। তার বয় ফ্রেন্ড ম্যানেজমেন্টে এই টাইম শেয়ারিং দেখেই আমরা নিশ্চিত ছিলাম..সাদিয়ার আসলেই অনেক বুদ্বি। :)


সাদিয়ার বয় ফ্রেন্ড সবাই ছিল বেশ বড় লোক। সবার নিজস্ব গাড়ী ছিলো। অবশ্য এতে আমাদের সুবিধাই হয়েছিল। তার বয়ফেন্ডগুলোর নাম না জানলেও গাড়ীর নামে তাদের নাম দিয়ে দিতাম। যেমন..যে ছেলে টয়োটা করোলা ব্যবহার করত তাকে বলতাম করোলা। একই ভাবে ক্যামরি, নিশান সানি, পাজেরোও ছিলো।

কারো দুষ্ট মনে হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে সুন্দরী সাদিয়া কে তার বয় ফ্রেন্ডরা কি নামে ডাকতো? নিশ্চয় সবাই এক নামে ডাকতো না। সুইটা হার্ট, ডার্লিং, হানি, বি, জান, জানু- এইগুলো কি ব্যবহার করতো? না কি অন্য কিছু?
দুঃখের সাথে জানাতে হচ্ছে..কি নামে ডাকতো সেটা আমরা জানতাম না..আর সাদিয়াও কখনো ঘটা করে সেটা কাউকে জানাইনি। তবে মাঝে মাঝে দেখতাম ৫' ১১" লম্বা এক জনকে.. সাদিয়া যখন ক্যাম্পাসের গেট দিয়ে বের হয়ে আসতো সে তখন "ও মাই লাভ! ও মাই লাভ!!" বলে চিৎকার করে এগিয়ে যেতো। :)

আমরা শুধু দুর থেকে দাড়িয়ে দাড়িয়ে এসব দেখতাম আর দীর্ঘশ্বাস ফেলতাম। সত্যি কথা বলতে কি..সাদিয়ার সাথে অন ক্যাম্পাস অথবা আউট অব ক্যাম্পাসে এই সব নিশান, পাজেরোদের দেখে আমরা প্রায়ই হিংসার আগুনে জ্বলে পুড়ে ছাই হতাম। মাঝে মাঝে আবার আফসোসও হতো, এই জন্য যে.. না হলাম সাদিয়া, না টয়োটা, নিশান কিংবা পাজেরো। নিদেন পক্ষে টাটা কিংবা মারুতি হলেও একটা সুযোগ নিতে পারতাম। /:)


সব যখন ঠিকঠাক চলছিলো তখন হঠাৎ একদিন ঘঠে এক অঘঠন। ঘঠনাটি ঘঠে ক্যাম্পাসের গেটে সাদিয়ার সকালের প্রেমিক নিশান আর দুপুরে প্রেমিক টয়োটার মধ্যে। নিশান চাইছিলো সাদিয়া আরো কিছুক্ষণ তার সাথে থাকুক। আর টয়োটা এক মিনিটও অপেক্ষা করতে রাজী না। সুতারং যা হবার তাই। প্রথমে তর্ক বিতর্ক। অতঃপর গালাগালি। গালাগালি শুনে বিনে পয়সায় এরকম রিয়েলিটি শো দেখার জন্য আমার মত আরো অনেকেই গ্যালারিতে আসন নেয়। না..তারা আমাদের নিরাশ করেনি। কিছুক্ষনের মধ্যেই গালাগালির সাথে শুরু হয় হাতাহাতি। লাথা লাথি। আর দু'জনের মুখেই রণ হুংকার..আয় শালার পো..দেখি সাদিয়া কার- তর না আমার?

আর গ্যালারি থেকে তখন কারো কারো তীর্যক মন্তব্য..'ছিনতাইকারীর দশ দিন হলেও পাবলিকের একদিন। এবার তুমি মজাটা বুঝো সাদিয়া। হি হি।'

[ ছবি: নেটে থেকে সংগৃহীত বৈদেশী মডেল এবং অভিনেত্রী। ]


আমি আমার জীবনে 'সাদিয়া' নামে আজ পর্যন্ত কোন অসুন্দরী মেয়েকে দেখিনি। সব সাদিয়া-ই সুন্দরী। কেউ আবার একটু বেশীই সুন্দরী, সুন্দরের সব সীমা এরা ছাড়িয়ে গেছে। তো আমাদের ইউনিতে বিবিএ তে পড়তো এক সাদিয়া। ভয়াবহ রকমের সুন্দরী। একটা কথা প্রচলিত আছে, সুন্দরী মেয়েদের ক্ষেত্রে নাকি শুধু সুন্দরটাই সম্বল, অন্যান্য আর কোন গুন তাদের মধ্য খুব একটা থাকে না। থাকলে সেটা এতটা গৌণ থাকে যে না থাকারই সমান।

কিন্তু সাদিয়া বেলায় সেটা ছিলো ভিন্ন। সে পড়াশুনায় ভালো (অন্তঃত তার রেজাল্ট সে কথাই বলে..যদিও এটা নিয়ে অনেক কান কথা শুনা যায়) । সে গান গাইতে পারে। ভাল ছবি আঁকতে পারে। আর তার বুদ্বিও মাশাল্লা অনেক ভালো ছিলো।

তার বুদ্বি ভালো এটা জানলাম কি করে? তার অনেক গুলো বয় ফ্রেন্ড দেখে। সাধারণত অনেক সুন্দরীকে দেখা যায় পোশাক পাল্টানোর মত কিছুদিন পর পর বয় ফ্রেন্ড পাল্টায়। সাদিয়া সেরকম ছিলো না। তার অনেকগুলো বয় ফ্রেন্ড ছিলো এবং সহজে বয় ফ্রেন্ড পাল্টাত না। সে সবগুলোকে নিয়েই চলত। তবে এক সাথে না। সকালে হয়তো একজন। দুপরে, বিকেলে কিংবা বিকেলের পরে আরেকজন। তার বয় ফ্রেন্ড ম্যানেজমেন্টে এই টাইম শেয়ারিং দেখেই আমরা নিশ্চিত ছিলাম..সাদিয়ার আসলেই অনেক বুদ্বি। :)


সাদিয়ার বয় ফ্রেন্ড সবাই ছিল বেশ বড় লোক। সবার নিজস্ব গাড়ী ছিলো। অবশ্য এতে আমাদের সুবিধাই হয়েছিল। তার বয়ফেন্ডগুলোর নাম না জানলেও গাড়ীর নামে তাদের নাম দিয়ে দিতাম। যেমন..যে ছেলে টয়োটা করোলা ব্যবহার করত তাকে বলতাম করোলা। একই ভাবে ক্যামরি, নিশান সানি, পাজেরোও ছিলো।

কারো দুষ্ট মনে হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে সুন্দরী সাদিয়া কে তার বয় ফ্রেন্ডরা কি নামে ডাকতো? নিশ্চয় সবাই এক নামে ডাকতো না। সুইটা হার্ট, ডার্লিং, হানি, বি, জান, জানু- এইগুলো কি ব্যবহার করতো? না কি অন্য কিছু?
দুঃখের সাথে জানাতে হচ্ছে..কি নামে ডাকতো সেটা আমরা জানতাম না..আর সাদিয়াও কখনো ঘটা করে সেটা কাউকে জানাইনি। তবে মাঝে মাঝে দেখতাম ৫' ১১" লম্বা এক জনকে.. সাদিয়া যখন ক্যাম্পাসের গেট দিয়ে বের হয়ে আসতো সে তখন "ও মাই লাভ! ও মাই লাভ!!" বলে চিৎকার করে এগিয়ে যেতো। :)

আমরা শুধু দুর থেকে দাড়িয়ে দাড়িয়ে এসব দেখতাম আর দীর্ঘশ্বাস ফেলতাম। সত্যি কথা বলতে কি..সাদিয়ার সাথে অন ক্যাম্পাস অথবা আউট অব ক্যাম্পাসে এই সব নিশান, পাজেরোদের দেখে আমরা প্রায়ই হিংসার আগুনে জ্বলে পুড়ে ছাই হতাম। মাঝে মাঝে আবার আফসোসও হতো, এই জন্য যে.. না হলাম সাদিয়া, না টয়োটা, নিশান কিংবা পাজেরো। নিদেন পক্ষে টাটা কিংবা মারুতি হলেও একটা সুযোগ নিতে পারতাম। /:)


সব যখন ঠিকঠাক চলছিলো তখন হঠাৎ একদিন ঘঠে এক অঘঠন। ঘঠনাটি ঘঠে ক্যাম্পাসের গেটে সাদিয়ার সকালের প্রেমিক নিশান আর দুপুরে প্রেমিক টয়োটার মধ্যে। নিশান চাইছিলো সাদিয়া আরো কিছুক্ষণ তার সাথে থাকুক। আর টয়োটা এক মিনিটও অপেক্ষা করতে রাজী না। সুতারং যা হবার তাই। প্রথমে তর্ক বিতর্ক। অতঃপর গালাগালি। গালাগালি শুনে বিনে পয়সায় এরকম রিয়েলিটি শো দেখার জন্য আমার মত আরো অনেকেই গ্যালারিতে আসন নেয়। না..তারা আমাদের নিরাশ করেনি। কিছুক্ষনের মধ্যেই গালাগালির সাথে শুরু হয় হাতাহাতি। লাথা লাথি। আর দু'জনের মুখেই রণ হুংকার..আয় শালার পো..দেখি সাদিয়া কার- তর না আমার?

আর গ্যালারি থেকে তখন কারো কারো তীর্যক মন্তব্য..'ছিনতাইকারীর দশ দিন হলেও পাবলিকের একদিন। এবার তুমি মজাটা বুঝো সাদিয়া। হি হি।'

[ ছবি: নেটে থেকে সংগৃহীত বৈদেশী মডেল এবং অভিনেত্রী। ]
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ৯:০৮
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাসালসুল (অনন্ত পশ্চাদগমন), প্রথম সৃষ্টি ও ‘আকল’: কুরআন-সুন্নাহর আলোকে একটি সতর্ক অনুসন্ধান

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭


ভূমিকা
সৃষ্টিজগতের অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের অন্যতম প্রাচীন প্রশ্ন হলো,সবকিছুর শুরু কোথায়? যদি প্রতিটি সৃষ্ট বস্তুর অস্তিত্বের জন্য তার আগে আরেকটি সৃষ্ট বস্তুর প্রয়োজন হয়, এবং সেই নির্ভরতার ধারা কখনো শেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরিয়ম খাতুন জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৮



মরিয়ম খাতুন। মাত্র ১৯ বছরের একটি মেয়ে। ৭৫ বছরের বুইড়া পাঁঠা গাজী নজরুলের লালসার শিকার হয়ে জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে। শুধুমাত্র একটি ছোটখাটো চাকুরী সুপারিশের জন্য গিয়েছিল। তখনই ১৯... ...বাকিটুকু পড়ুন

⌛️ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫



প্রাচীন গ্রিক দর্শনের মহান পুরুষ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান বা "নিজেকে জানো" তত্ত্বটি মানুষের ভেতরের ঘৃণা, গোঁড়ামি এবং অজ্ঞানতা দূর করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। সক্রেটিসের মতে, মানুষের সমস্ত নৈতিক স্খলন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো, পকেট খালি হলো সাধারণ মানুষের!

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩


জীবনটা আজকাল বড় অদ্ভুত নিয়মে চলছে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় এক রকম থাকে, আর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি দুনিয়াটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। গতকাল রাত বারোটা এক মিনিট থেকে জ্বালানি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যামিলি কার্ডের স্বার্থে তেলের দাম বৃদ্ধি মেনে নিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


দীর্ঘ সতেরো বছর পর আমরা পেয়েছি একটি নির্বাচিত সরকার । অনেকে ভালোবেসে ইহাকে জনগণের সরকার বলে থাকেন । জনগণের সরকারের উপর একটু আস্থা রাখুন । সরকারকে সময় দিন ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×