আমি এক মৃত নগরীরর এখনো জীবন্ত একটি রাস্তার মোড়ের কথা বলছি। সেই শহরে আজও কিছু মুক্ত মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় - যারা এখনো বেঁচে আছে। কিন্তু কতজন বেঁচে আছে তার কোন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়না। কারন এদের সংখ্যা প্রতিনিয়তই পরিবর্তনশীল। আর তারা যে সকলেই এই শহরের আদি বাসিন্দা - এমন নয়। কেউ কেউ এসেছে ঐ অনেকদূরের পাহাড় শ্রেনীর ওপার থেকে, কেউ এসেছে উত্তরের রুক্ষ এলাকা থেক, কেউ বা এসেছে দক্ষিন থেকে- নৌকা করে, কারো গায়ে এখনও রেগে আছে গ্রামের সোদা গন্ধ। এছাড়াও আরও অনেকে এসেছে অনেক এলাকা থেকে।
কেউ এসেছে জীবিকার টানে, কেউবা ঘুরতে ঘুরতে পথ ভুলে। এদের মধ্যে ব্যাংকার যেমন আছে, বেকারও তেমন আছে। আছে মাস্টার, ডাক্তার আর লাইব্রেরীয়ান। কবি আর শিল্পি ছাড়াও আছে আইন ব্যবসায়ী আর নদীর মাঝি। আরও অনেকে আছে যারা কি করে তা আজও জানা হয়নি।
তবে যে যাই করুক কাজের মত তাদের বয়সেরও কোন উর্ধ্ব কিংবা নিম্ন সীমার বাধ বিচার ছিলনা। সারা দিন এরা শহরের মৃত মানুষের ভিড়ে মিশে থাকে। কিন্তু সন্ধ্যায় যখন মৃত মানুষেরা সারি সারি ঘরে ফেরে, তারা তখন চলে আসে সেই মহা স্থানে। তারা বাম দিক দিয়ে আসে, ডান দিক দিয়ে আসে; আসে উত্তর দিক থেকে, দক্ষিন দিক থেকে। তাদের আগমনের পদধ্বনীতে তখন জীবন্ত হয়ে উঠতে থাকে মোড়টি।
তাদের বসার জেন্যে কোন চেয়ার কিংবা মাদুরের ব্যবস্থা নেই। যদিওবা দু'একটা বেঞ্চি আছে, তাও সেই চা-ওয়ালাদের। ফুটপাথই তাদের একমাত্র ভরসা। বর্ষায় দোকানের সেড ছাড়া মাথা গোজার ঠাই নেই। তারপরও কারও মনে কোন অভিযোগ নেই। বরং তখন তারা ঝাল-পিয়াজ দিয়ে ক্ষিচুড়ি খাওয়ার গল্প বলে। শীতকালে ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে তারা সন্ধ্যা-রাত্রির কাঁচা রসের মিস্টি সুবাসের কথা বলে, তারা আসলে তাদের অতীতের কথা বলে। মাঝি বলে নদীর কথা, ফারাক্কা বাঁধের কথা। ভবঘুরে বেসুরা গলায় গায়- দেখা হয়নায় চক্ষু মেলিয়া__। কবি একটা কবিতা বলে। শিল্পী একটাটুকরা লাল দিয়ে দেয়ালের গায়ে একটা ছবি আঁকে, আইনের মানুষ হয়তো তখন আইনের কথা বলে। প্রকৃতি প্রেমী ভাবে, যদি লোডসেডিং এর সাতে সাথে উঁচু ভবন গুলোও মিলিয়ে যেত তবে দিগন্ত বিস্তৃত তারা ভরা আকাশ দেখা যেত...
এই ভাবে তাদের বাক্য গুলো, ভাবনা গুলো দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে, বিশ্ব ছাড়িয়ে মহাবিশ্বে ভ্রমণ করতে থাকে। কখনো তারা ১-১-১ না ০-১-০ তা নিয়ে বিতর্ক করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কথায় কথায় রাতও বেড়ে গভীর হয়। তখন তারা আবার ফিরে যায় মৃতদের মাঝে, শুয়ে পড়ে তাদের পাশে। তবে ফিরে যাওয়ার আগে তারা আগামীকাল আবার মিলিত হওয়ার কথা বলে। এই একই ধারা প্রবাহিত হয়ে আসছে অতীত থেকে। এবং একই ধারা বর্তমান হয়ে এগিয়ে যাবে ববিষ্যতের দিকে। যদিও ভবিষ্যত অনিশ্চিত । কারন এদের মধ্যে অনেকেই বিদায় নিয়েছে, কেউ কেউ বিদায় নিয়েছে চিরতরে। আমাকেও বিদায় নিতে হয়েছিল একদিন...
যদি কোন দিন পথপরিক্রমায় তুমি হাজির হও সেই মৃত নগরীতে, সন্ধান করো সেই মিলনাস্থানটির। যেখানে তুমি পেতে পার অনেক প্রশ্নের অজানা উত্তর।।
আলোচিত ব্লগ
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।