অ্যাপলস টু অ্যাপলস চমত্কার খেলা। বিচারক সবুজ একটা কার্ড উল্টে দেখায়, আর বাকি সবাই তাদের হাতের সাতটা লাল কার্ডের যেকোন একটা বেছে নিয়ে খেলে। সবুজ কার্ডে বিশেষণ আর লাল কার্ডে বিশেষ্য, বিচারকের দায়িত্ব সবচেয়ে মানান সই লাল কার্ডটা বেছে নেয়া, এবং যার কার্ড এটা সে সবুজ কার্ডটা জিতে যায়। আমার জন্য কালকের দিনের হাইলাইট ছিল যখন একজন বিচারক "মেধাবী" খেলল। অন্যেরা এরিস্টটল এবং বিটোফেন খেলে মোটামুটি নিশ্চিন্ত ছিল বোধহয়, কিন্তু আমি যে "তোমার ডান দিকে যে বসে আছে" খেলে বসব (বিচারকের পাশে তার প্রিয় বান্ধবী বসে ছিল), এটা কেউ ভাবতে পারেনি, হাহা। এটা কি ব্ল্যাকমেলের পর্যায়ে পড়ে?
তবে অ্যাপলস খেলে থাকি প্রায়ই, কালকের আসরের নতুন আকর্ষণ ছিল "গিটার হিরো"। প্লে স্টেশনের গেম, বিচিত্র ব্যাপার একটা গিটার টাইপ বস্তু গলায় ঝুলিয়ে রক গানের তালে তালে স্ক্রীনে দেখানো কর্ড ধরতে হয়। কিছুক্ষণ ভাল বাজালে রক পাওয়ার পাওয়া যায়, তখন রক স্টারের ভংগিতে গিটারটা উঁচু করলে হেভি মেটাল ধরনের বাজনা বাজে, সংগে নানান গ্রাফিকাল ফুলঝুরি (কম্পিউটার ইন্টারফেসিং কোর্সের জন্য সৄজনশীল ধারণা)। উল্টো-পাল্টা বাজিয়ে বার বার "সং ফেইলড" মেসেজ আর "দর্শক"-দের দুয়ো কুড়িয়ে মন খারাপ খুব একটা হয়নি। বরং আগের রাতের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল, যখন একটা রক ব্যান্ডের কনসার্ট শুনতে সত্যিই নিউইয়র্ক পর্যন্ত গিয়েছিলাম।
স্টারস হচ্ছে "ইন্ডি রক" ব্যান্ড। ইন্ডিপেনডেন্ট থেকে ইন্ডি। আগে নিউ হেভেনেই পোলাপানের পাল্লায় পড়ে অন্যদুটি ব্যান্ডের অতি জঘন্য কনসার্ট দেখেছি। এটি অনেক ভাল হবে বলে আমার সংগীরা কথা দিয়েছিল, এবং এসব গান তারা যেহেতু অনেক কাল থেকেই শুনে আসছে কাজেই বিশ্বাস করে সংগে চললাম। বিস্ময়ের ব্যাপার, কনসার্টটা শুধু আমারই ভাল লেগেছে! এরকম বাজে কনসার্ট নাকি দুর্লভ। এর কারণ সম্ভবত আমার সংগীদের অভিঞ্জতা এবং বিচারের সূক্ষ্মতা, কারণ সাধারণভাবে দর্শকরা বেশ খুশি বলেই মনে হল। তা, ইন্ডি রকের বৈশিষ্ট কি? কে জানে, কারণ রক সম্বন্ধেই আমার জ্ঞান শিশুসুলভ। তবে চোখে যা পড়ল তা হল:
১. বেহালার ব্যবহার। ভালই লাগল।
২. মঞ্চে বেশ কিছু টেবিল ল্যাম্প, যেগুলো বিশেষ মুহূর্তে জ্বলে ওঠে।
৩. রাজনৈতিক বক্তব্য। ডিক চেনিকে উদ্দেশ্য করে গান, "আশা করি তুমি মাতাল আর তোমার মেয়ে গে"।
৪. সাধারণ রকে যেমন উদ্দাম নাচানাচি চলতে থাকে এক্ষেত্রে তা নয়। দর্শকরা স্রেফ গানের তালে তালে দুলতে থাকে।
মিলনায়তনটা দুর্দান্ত লাগল। দারুণ উঁচু আর বড় তো বটেই, নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় পাশে থাকার মতই "হিপ"। আর যাকে বলে "ডার্ক", এই হরর ছবিটার কথা মনে করিয়ে দিল। গায়কদের মধ্যে ছেলেটা যেমন সাধারণমানের, মেয়েটা তেমনই চমত্কার, অনেকটা ক্র্যানবেরিস-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। গানের কথাও খারাপ না, "এলেভেটর, এলেভেটর, টেক মি হোম..."।
আলোচিত ব্লগ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন
=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।