আজ থেকে প্রায় ৬ বছর আগের ঘটনা । স্কুল-কলেজ জীবনের গণ্ডি শেষ করে তখন মাত্রই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই । স্কুল কলেজ বয়েজ শাখায় পড়ার কারনে মেয়েদের সাথে কথা খুব কম বলতাম । বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম ক্লাশেই আমার পাশে এক সুন্দরী রমণী বসে। সে আমার সাথে আলাপ শুরু করে দেয় আমি খুব সংকোচবোধ করছিলাম কথা বলতে কিন্তু তার সুন্দর ভাবে গুছিয়ে কথা যতই শুনছিলাম ততই মুগ্ধ হচ্ছিলাম । এভাবে চলতে চলতে আমি তার অনেক ভাল বন্ধু হয়ে গেলাম । সে প্রত্যেকদিনই আমার সাথে খুব রাগ হত আমি ঠিকভাবে পরিপাটি থাকি না, চুল ঠিকভাবে আচরাই না আরও যে কত কিছু , কিন্তু আমি তার এসব আচরন দেখেও বুঝতে পারি নি সে আমাকে পছন্দ করে। এভাবে সময় গড়াতে গড়াতে এক বছর অতিক্রম হয়ে যায় । আমাদের পরবর্তী ব্যাচের নবীন বরনের রিহার্সালের সময় আমি একটা জুনিয়ার মেয়ের নাচ দেখে মুগ্ধ হয়ে আমার বান্ধবীকে বলি তার ক্যামেরা সংযুক্ত মোবাইলে ওই নানেওয়ালির একটা ছবি তুলে আমাকে দিতে, কিন্তু সাথে সাথে পারব না বলে দিয়ে সে খুব দ্রুত রুম ছেড়ে বের হয়ে যায় আমি তাকে অনুসরণ করা শুরু করলে আমাকে সে ঝাড়ি দিয়ে পাঠিয়ে দেয় । এর পর দিন থেকে আমি যতই তার কাছে যাই সে আমার কাছ থেকে দূরে সরে যায় । সে আমাকে ফেসবুকেও ব্লক মেরে দেয় । এভাবে আরও ২ বছর কেটে যায় সে আর আমার সাথে কথা বলে না। চতুর্থ বর্ষে পড়াকালীন সময় আমাদের বিভাগের শিক্ষাসফরে আমরা ৮ দিনের জন্য বান্দরবান, কক্সবাজার, ও সেইন্টমারটিন সফরে যাই । সে এবং আমার আর এক বান্ধবী বাসে আমাদের সামনের সিটে বসে। ওই দিন রাতে ২ বছর পর আবার আমাদের কথা হয়। এরপর যতই সময় গড়াতে থাকে আমাদের মাঝে আগের মত বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হতে থাকে। যেখানেই সে যায় আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া শুরু করে । ক্লাসের সবাই বলতে শুরু করে বন্ধু তোর মনে হয় এবার একটা গতি হয়েই গেল। সমস্যা হয়ে দাড়ায় আমার এক বিভাগের বড় ভাই, দ্বিতীয় বর্ষে আমার সাথে রাগ করার পর আমার বান্ধবি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় ভাই এর সাথে সম্পরকে জড়ায়
যা আমরা কেউ জানতাম না। কক্সবাজার বসে একদিন সে তার রুমে আমাকে ডেকে পাঠায় আমি যাওয়ার পর সে আমার হাত ধরে কেঁদে ফেলে। সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে আমায় বলে আমি কেন আরও আগে তার সাথে সম্পর্ক টা তৈরি করলাম না কারন ওই ভাই এর সাথে তার কোর্ট ম্যারেজ করা হয়ে গেছে। আমি ওইদিন তাকে বুঝালাম যা হওয়ার তা হয়ে গেছে এ নিয়ে ভেবে আর মনে কষ্ট পাওয়ার কোন মানে হয় না। আজকে হঠাৎ ফোন দিয়ে বলে আগামি ৫ দিন পর তার বিয়ে , আমাকে যেতেই হবে, কিন্তু আমি তাকে যতই বলি আমার চাকরীর পরীক্ষা আছে সে বুঝতে চাচ্ছে না , সে বলে আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব , তুমি আসবেই আসবে অবশ্যই আসবে। আমি কি করব বুঝে উঠতে পারতেছি না , আপনারা দয়া করে একটা ভাল পরামর্শ দিন এই অবস্থায় আমি কি করতে পারি
যারা যারা কষ্ট করে আমার লেখাটা পড়েছেন সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


