somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আরো ঊনিশে নভেম্বর প্রয়োজন

২১ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে ইনডেমনিটি প্রথম দেয়া হয় রক্ষীবাহিনীকে। ১৯৭৪ সালে, বঙ্গবন্ধুর সরকারের সময়। ৭৪ সালে আনা ওই সংশোধনী কার্যকর দেখানো হয় ৭২ সালের ১ ফেব্রুয়ারী থেকে।

রক্ষীবাহিনী সংশোধনী আইনের ১৬(ক) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে বলা হয়, রক্ষীবাহিনীর সদস্যরা তাদের যে কোনো কাজ সরল বিশ্বাসে করেছেন বলে গণ্য করা হবে এবং এ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোন কামলা দায়ের, অভিযোগ পেশ কিংবা আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাবে না।

রক্ষীবাহিনীর হাতে নিহত হয় ৩০ হাজারের বেশী আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ।

বাঙালি কখনও কাপুরুষ ছিল না। ১৫ই আগস্টের হত্যাকান্ড কাপুরুষোচিত নৃশংসতম হলেও রক্ষীবাহিনীর নির্মম ইতিহাসই বাঙালিকে সেদিন নির্বিকার করে রেখেছিল। সেই বাঙ্গালি, যারা বঙ্গবন্ধুর এক ডাকেই জীবন দিয়েছিল একসময়।

রক্ষীবাহিনীর নির্মম ইতিহাসের কারণেই পচাত্তরের ২৪ আগস্ট মওলানা হামিদ খান ভাসানি বলেছিলেন, "মুষ্টিমেয় সংখ্যক লোক মুজিব সরকারের সহায়তায় বিদেশী শোষকদের সঙ্গে আঁতাত করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ দেশের বাইরে পাচার করে দিয়েছে। তিনি দুর্নীতিবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তাদের কঠোর সাজা দেওয়ার দাবি জানান।" (দৈনিক বাংলা)

মওলানা ভাসানি কখনই কাপুরুষ ছিলেন না। বঙ্গবন্ধুর শত্রুও ছিলেন না।

যারা ১৫ই আগস্টের ওপারের ইতিহাসের সামনে কালো চাদর টেনে, প্রায় ৩২ হাজার মানুষের খুনের বিচার এড়িয়ে শুধু বঙ্গবন্ধুর খুনের বিচার করেই আইনের শাসন নিশ্চিত করতে চাইছেন, তারা নিজেদেরই সর্বনাশ করছেন।

ভারত প্রধানমন্ত্রীকে সাবধান করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীসহ সবাই সচকিত হয়ে উঠছেন ১৫ই আগস্টের খুনীচক্র ও তাদের বংশধর, মতাদর্শের লোকদের ব্যাপারে। কড়া চোখ রাখা হচ্ছে এদের উপর।

কিন্তু কারাগার ও প্রবাসে অর্ধমৃত জীবন নিয়ে যেসব খুনীরা বেঁচে আছেন, প্রধানমন্ত্রী বা তার পরিবারের জন্য কোন খুনী শাবক তারা রেখে যেতে চাইবেন, এমনটা আমার বিশ্বাস হয় না। খন্দকার মোশতাক আওয়ামী লীগেরই শীর্ষতম নেতাদের একজন ছিলেন। এখনও কোন অজানা মুহূর্তে হায়েনা হয়ে ওঠার মতো নেতা দলের মধ্যেই হয়তো আছে। সময়ই তা বলে দেবে।

ইনডেমনিটি কখনই ভালো নয়। বঙ্গবন্ধুর ইনডেমনিটি নয়, খন্দকার মোশতাকের ইনডেমনিটিও নয়। ১৯ নভেম্বর দিয়ে হয়তো একটি ইনডেমনিটির পাপমোচন হয়েছে, কিন্তু আরেকটি ইনডেমনিটিও নিজ প্রয়োজনেই ইতিহাসের মোড়ে মোড়ে নিশ্চিত আরেকটি ১৯ নভেম্বর খুঁজে ফিরবে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×