somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জিএম হারুন -অর -রশিদ
আমার কারো কাছে নেই কোন অভিমানের দেনাপাওনা, নেই কোন কষ্টের হিসাব, তবুও লুকিয়ে থাকা হাহাকার পরম যতনে আগলে রাখি-- প্রথম পাওয়া চিঠির মত, আমি এই রকমই বন্ধু ।

নেতা, আপনাকেই বলছি

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয় নেতা
আমার বিপ্লবী অভিবাদন নিবেন,
আপনাকে আমি প্রায়ই টেলিভিশন আর পত্রিকায় দেখি,
আপনার স্বাস্হ্য আগের চেয়ে ভালো হয়েছে,
মুখের কালো দাগগুলো বোধ হয় এখন নাই,
আপনাকে যেহেতু আর রোঁদে পুড়তে হয়না,
তাই আপনি দেখতে আরো সুন্দর হয়েছেন।

আপনার সাথে দেখা করার জন্য অনেক চেষ্টা করছি,
বাসায় গিয়েছিলাম,পুলিশ ঢুকতে দিলোনা,
ফোন করেছিলাম অনেকবার, আপনার পুরোনো নাম্বারে,
আপনার ব্যাক্তিগত সহকারী প্রতিবারই ফোন ধরে বলে,
“ আপনি পরে ফোন করুন, স্যার এখন মিটিং এ”
আমি প্রতিবারই বলি,
“আমার নামটা বলবেন,আমাকে যেন উনি
এই নাম্বারে একটা ফোন দেন,
আমার খুব জরুরী দরকার।”

আপনার ফোন আর কখনোই আসলো না,
আপনা’কে বোধহয় আমার নামটা বলেনি আপনার ব্যাক্তিগত সহকারী,
বললে আপনি আমাকে নিশ্চয়ই ফোন করতেন।

আমি খুবই সমস্যায় পরেছি,
‘বিপ্লব’ শব্দ’টি আমি প্রথমে আপনার মুখ থেকে শুনি,
তখন আমি কলেজে ১ম বর্ষে,
আপনি আমাদের ছাত্র সংসদের নেতা ছিলেন,
সবার নায়ক ছিলেন শুধু আপনার প্রতিবাদী কথার জন্য,
খুব সুন্দর ভাবে কথা বলতে পারতেন আপনি,
শুধু শুনতেই ইচ্ছে করতো,
আপনার চলাফেরা, কথাবার্তা, সবই ছিলো আমাদের আদর্শ,
আপনার আপোষহীন চরিত্র আমাকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।

আপনি আমাকে যে ‘বিপ্লব’ শিখিয়েছিলেন,
সেখানে ছিলো শুধু সমাজ পরিবর্তনের কথা,
সম অধিকারের কথা, ধর্মনিরপক্ষ রাষ্ট্রর কথা,
ক্ষধার্ত মানুষের জন্য খাবারের গল্প,
‘মানুষ’ এর জন্য মানুষের ত্যাগের কথা,
আহা শুধু শুনতেই ইচ্ছে করতো,
নিজেকে তখন মনে হতো চরম ‘বিপ্লবী’।

আপনার হয়তো মন নেই,
আমি আমার অসুস্হ বিধবা ‘মা’এর চিকিৎসার টাকা
আপনার ‘বিপ্লবী ফান্ডে’ দিয়েছিলাম,
আপনি তখন আমাকে দেখিয়ে সবাইকে বলেছিলেন,
“ ওর দিকে তাকাও,
ও আজ আমাদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকলো,
দেশ হলো আসল মা,
একজন ‘মা’ মরে গেলে কিছু হবে না,
কিন্ত্তু দেশ মরে গেলে সবার ‘মা’ মরে যাবে”,
তখন আমার গর্বে বুক ফুলে উঠেছিলো।

আমার ‘মা’ বিনা চিকিৎসায় ঠিকই মরে গিয়েছিলো,
কারোই কিছু হয়নি, শুধু কষ্ট পেয়ে চিৎকার কেঁদেছিলো
আমার ছোট ভাই-বোন গুলো,
ওরাতো আর ‘বিপ্লব’ বুঝতো না,
আমারও কেমন যেনো কান্না পেয়েছিলো,
তবুও কাঁদিনি, যদি কেউ দেখে ফেলে,
আমি যে তখন চরম বিপ্লবী।

এই বিপ্লব বুকে নিয়ে সারাদিন আপনার সাথেই ছিলাম,
আপনার দেখানো রাস্তায় চলতে গিয়ে,
পুলিশ কেইস আর জেল জুলুমে লেখা পড়াটাও শেষ করতে পারলাম না।
জেলে বসেই শুনেছি আপনি সরকারী দলে যোগ দিয়েছেন,
আপনি এখন সরকারের বড় মন্ত্রী।

অনেক’দিন পর জেল থেকে বেড়িয়ে দেখি
একজন ও অভ্যর্থনা জানতে জেল গেটে নেই,
কেউ চিনলো না আমাকে,
শুধু দরিদ্র ভাই-বোন গুলো বুকে জড়িয়ে ধরেছিলো।

আপনাকে আমার জরুরী দরকার শুধু
একটি কথা জানার জন্য,
আপনি আমাকে যে বলেছিলেন,
“একজন ‘মা’ মরে গেলে কিছু হবে না,
কিন্ত্তু দেশ মরে গেলে সবার ‘মা’ মরে যাবে”
আমার যে এখন সারাদিন মা’র কথাই মনে পড়ে,
যে’দিন পত্রিকায় আপনার মা’য়ের সাথে সুন্দর হাসিখুসি
একটা ছবি দেখলাম,
সে’দিন আমার মা’র কথা বেশি মনে পড়লো,
আচ্ছা বলুনতো,
‘বিপ্লব’ কথার অর্থ কি বদলে গেছে
আমি যখন জেলে ছিলাম?”
আমার খুব সন্দেহ হয় আমি বিপ্লবী হতে পারিনি,
আপনি যে ভাবে বলেছিলেন,
নেতা,
আমার না সারাদিন শুধু মা’র কথাই মনে পড়ে।
“বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক”
———————————————————
রশিদ হারুন
২১/০৯/২০১৮

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৫০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিজয়ী

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিজয়ী
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

বিজয়ী কখনো কখনো হেরে যায়
হঠাৎ কেউ টপকে যায় তাকে
সেরা সবসময় সেরা থাকে না
পরাজিত হয়ে সে কাঁদে, ভেঙে পড়ে।
জয়লাভ প্রায় প্রত্যেকে আনন্দিত করে
আর হার প্রায় প্রত্যেকে দুখি করে।
আমরা কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিল্প ও সাহিত্যের নবজাগরণ: যুগপৎ আন্দোলন এবং মৌলিকতার স্বরূপ।

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২



সভ্যতার বিকাশ, সমাজের রূপান্তর এবং মানুষের আত্মিক উৎকর্ষ সাধনে শিল্প ও সাহিত্য এক অবিনাশী চালিকাশক্তি। একটি জাতির মননশীলতা কেমন হবে, তার নৈতিক ভিত্তি কতটা দৃঢ় তা নির্ভর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধার্মিক কে অনুসরণ করুন ভন্ডকে নয় ।

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮

আমরা প্রায়ই নিজেদের ধর্মপ্রাণ জাতি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি। কিন্তু প্রশ্ন হলো ধর্ম কি সত্যিই আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে পারছে, নাকি কিছু অসভ্য মানুষ ধর্মকে নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×