somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জিএম হারুন -অর -রশিদ
আমার কারো কাছে নেই কোন অভিমানের দেনাপাওনা, নেই কোন কষ্টের হিসাব, তবুও লুকিয়ে থাকা হাহাকার পরম যতনে আগলে রাখি-- প্রথম পাওয়া চিঠির মত, আমি এই রকমই বন্ধু ।

পিতৃঋণ-১০

২৬ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অ-কবিতার দিনে অ-ঘুম আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে।
এমন সব অ-ঘুমের রাতে ভোরের দিকে ড্রইং রুম হতে পরিচিত মানুষের হাটার শব্দ আর কন্ঠ ভেসে আসে।
খুব ‌অস্থিরতা নিয়ে দৌড়ে ঘরে ঢুকলেই দেখি-
বাবা ধীরলয়ে হাঁটতে হাঁটতে
আমার লেখা কবিতার বই পড়ছেন।

একই ভরাট কন্ঠের সেই চওড়া বুকের টানটান ছয় ফুটের লম্বা শরীর,
সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা, কলপ দেওয়া কালো চুল- দাড়ি, চোখে কালো ফ্রেমের চশমা, বা’হাতে সেই পরিচিত সিকো ঘড়ি।

আমাকে দেখলেই হাসি মুখে তিনি একেকবার একেক কথা বলেন।

কখনো বলেন,
“ভুল হয়েছেরে, মস্ত বড় ভুল।
তোর ছোটবেলায় পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য বই পড়লেই শুধু শুধু বকতাম।
অথচ এসব বই পড়ে তুই কত্তো কিছু শিখেছিস,
আজকাল সুন্দর করে কবিতা লিখিস,
মানুষের জন্য লিখিস,
মাঝেমাঝে আমার কথাও থাকে।
আরকি জানিস?
সব বাবাদেরই একটা বড় দোষ,
তারা মনে করেন তারাই সংসারে সবচেয়ে বেশি জানেন।

নয়তো বলবেন,
কিসব আজেবাজে কবিতা লিখিস!

হয়তোবা বলেন,
এতো মন খারাপের কী আছে! আরেকদিন লিখিস, ঘুমোতে যা।"

এসব বলেই হাসতে থাকেন তিনি প্রতিবার।

এই হাসির শব্দ বুকে বাজতে বাজতে দূর মসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে আসে।
আজানের শব্দে হঠাৎ করেই বুকে ধাক্কা দিয়ে
-বাবা হাওয়ায় মিলিয়ে যান।

তখন মন খারাপ করে বারান্দায় গিয়ে বসে থাকি।
ভোরের বিরহী আকাশের দিকে তাকিয়ে
হঠাৎ দেখি অস্হির কিছু রঙবেরঙের শব্দ ছড়িয়ে ছিটিয়ে হাওয়ায় ভাসছে।
সেখান থেকে যখন যেটা দরকার টেনে নিই বুকে-
অ-কবিতার দিনে বুকে বাসা বাধে এক একটা পলাতক কবিতা।

সবাই বলে মৃত মানুষ ফিরে না!
আমার কেন যেন মনে হয়,
আমরা অনেক কিছুই জানিনা।
গত পনেরো বছর ধরে আমার মৃত বাবা আমার অ-সময়ে প্রতিবারই আমাকে টেনে তুলে দাঁড় করিয়ে দেন।

যেদিনগুলোতে বাবার সাথে দেখা হয়
সেইদিনগুলোতে ফজরের নামাজের সময় খোদার কাছে প্রার্থনার সময় বলি,
-“খোদা, সকল বাবার কথা আমি জানিনা,
তবে আমার বাবা,
-সব কিছুই আমার চেয়ে বেশি জানতেন।”
——————————
রশিদ হারুন
২৬/০৫/২০২০
আমার পিতৃঋণ কবিতা সিরিজের শেষ কবিতা এটি। কেমন হলো জানিনা? ধৈর্য্য সহকারে পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শান্তির ঠিকানা—পরিবার

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০




শান্তির ঠিকানা—পরিবার

ভালো থাকার জন্য অনেক কিছুই প্রয়োজন—অর্থ, সফলতা, সম্মান, স্বাচ্ছন্দ্য। কিন্তু এসবের মাঝেও যদি ঘরে শান্তি না থাকে, তবে মনের ভেতর কোথাও যেন একটা শূন্যতা থেকেই যায়।

বাইরের পৃথিবী যতই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাকে দিয়ে সেলস হবে না

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫৫

আমাকে বাংলাদেশের এক ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি তাদের সেলসে সহায়তা করার অনুরোধ করেছে। কোম্পানি ভালো, বাজে কোন রেকর্ড নেই। আমার কাজ হচ্ছে, আমার পরিচিত মানুষদের সাথে তাদের মার্কেটিং টিমের যোগাযোগ করায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×