somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জিএম হারুন -অর -রশিদ
আমার কারো কাছে নেই কোন অভিমানের দেনাপাওনা, নেই কোন কষ্টের হিসাব, তবুও লুকিয়ে থাকা হাহাকার পরম যতনে আগলে রাখি-- প্রথম পাওয়া চিঠির মত, আমি এই রকমই বন্ধু ।

আমাকেই ছুঁড়ে দিলাম টুকরো টুকরো করে

২৮ শে জুলাই, ২০২০ রাত ৮:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শহরের ব্যস্ত চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে
আমাকেই ছুঁড়ে দিলাম টুকরো টুকরো করে।
বুকের সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করে বললাম,
কারো দরকার পড়লে কুড়িয়ে নিতে পারেন আমাকে,
যার যেটুকু লাগবে,
একদম ফ্রি;
আমি আজই এই শহর থেকে চলে যাবো।
একজন ট্রাফিক পুলিশ দৌড়ে এসে বললেন,
-রাস্তায় দাঁড়িয়ে এসব অবৈধ কাজ চলবে না,
রাস্তায় নিজেকে ছুঁড়ে মারার লাইসেন্স দেখান,
আমি এক লাইনের একটি কবিতা লিখে দিয়ে দিলাম সাথে সাথে,
ট্রাফিক পুলিশ কবিতা নিয়েই চলে গেলেন সন্তুষ্ট হয়ে।
- একটি নতুন সাইকেলের জন্য আমার শৈশবের অনেকগুলো ঘুমহীন রাত নিলেন একজন কেরানী বাবা তার সন্তানের জন্য।
-আমার স্কুলের খালি টিফিন বাক্সটি নিলেন একজন মা, তার চোখের জল জমানোর জন্য।
-কিশোর বেলায় পোস্ট না করা আমার তেরো পাতার চিঠিটি নিলো লাল ফ্রক পড়া একজন কিশোরী,
এদিক ওদিক তাকিয়ে সে সোজা ফ্রকের ভিতর বুক বরাবর চালান করে দিলো সেই চিঠিটি।
-আমার প্রিয় হলুদ শার্টটি নিলো সদ্য কলেজে ওঠা এক কিশোর,
কাউকে কেয়ার না করে সে রাস্তায় দাঁড়িয়ে‌ই ইন করে শার্টটি পরলো।
-একজন বেকার যুবক তার বুক পকেটে খুব যত্ন করে রাখলো আমার জীবনের সব অ‌ন্ধ অপমান।
-আমার হারিয়ে যাওয়া বন্ধু শাহেদ এর একটি ছবি কুড়িয়ে চোখের সামনে ধরে রাখলো ঠিক শাহেদের মতোই দেখতে একজন।
-আমার অনেকগুলো অনুচ্চারিত
অভিমান তপ্ত পিচের রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে একজন নারী তার ভ্যানিটি ব্যাগে রাখলো।
-একজন ছদ্মবেশী কবি তার দু’মুঠো ভর্তি করে আমার সারাজীবনের হাহাকারগুলো নিজেরই পুরো শরীরে মাখতে লাগলো।
সূর্য ডোবার পর আমারই টুকরো যেটুকু বাকি ছিল;
তা কুড়িয়ে নিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম শহর ছেড়ে চলে যাবার জন্য,
আর আমার পিছনে পিছনে পিঁপড়ের মতো লাইন ধরে নিঃশব্দে হাঁটছে
—আমাকে কুড়িয়ে নেওয়া সেই সব মানুষেরা।
————————————————
রশিদ হারুন
২৭/০৭/২০২০
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:৩৫
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৪৫ বছরের অপ-উন্নয়ন, ইহা ফিক্স করার মতো বাংগালী নেই

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:০৫



প্রথমে দেখুন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো; উইকিপেডিয়াতে দেখলাম, ১০৩ টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আছে; ঢাকা ইউনিভার্সিটি যাঁরা যেই উদ্দেশ্যে করেছেন, নর্থ-সাউথ কি একই উদ্দেশ্যে করা হয়েছে? ষ্টেমফোর্ড ইউনিভার্সিটি কি চট্টগ্রাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ মাতানো ব্লগাররা সবাই কোথায় হারিয়ে গেল ?

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৪

ইদানিং সামু ব্লগ ব্লগার ও পোস্ট শূন্যতায় ভুগছে। ব্লগ মাতানো হেভিওয়েট ব্লগাররা কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন।কাজের ব্যস্ততায় নাকি ব্লগিং সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আমি কিছু ব্লগারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ৬৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৫



সুরভি বাসায় নাই। সে তার বাবার বাড়ি গিয়েছে।
করোনা ভাইরাস তাকে আটকে রাখতে পারেনি। তবে এবার সে অনেকদিন পর গেছে। প্রায় পাঁচ মাস পর। আমি বলেছি, যতদিন ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ অমঙ্গল প্রদীপ (পাঁচশততম পোস্ট)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:১৪

প্রদীপের কাজ আলো জ্বালিয়ে রাখা।
কিন্তু টেকনাফের একটি ‘অমঙ্গল প্রদীপ’
ঘরে ঘরে গিয়ে আলো নিভিয়ে আসতো,
নারী শিশুর কান্না তাকে রুখতে পারতো না।

মাত্র বাইশ মাসে দুইশ চৌদ্দটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া দেশে চাকরি সংকট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১১ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:২০



গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া সরকার মন্ত্রী পরিষদে কতোজান বিসিএস অফিসার আছেন? তাছাড়া সততার সাথে সোমালিয়া সরকার চাইলেও সঠিক ও যোগ্য মন্ত্রীপদে কতোজন বিসিএস অফিসার দিতে পারবেন?

(ক) মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় - একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×