somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অদৃশ্য জীবন

০১ লা আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একজন বালক অদৃশ্য এক নাটাই -সুতো দিয়ে আকাশে এক অদৃশ্য ঘুড়ি উড়ায়;
প্রতিদিন বাড়ির পাশের মাঠটিতে বিকেলে বেলায়।
‌অফিস থেকে ফিরতি পথে প্রায় প্রতিদিনই বিকেলে তার সাথে দেখা হয় আমার,
কিন্তু কথা হয়না কখনো।

অফিস ফেরত বিকেলটা আমি তার ঘুড়ি উড়ানো দেখি মাঠে বসে,
আশ্চর্য হই আমি,
চলতি পথের মানুষজন কেউই তাকে দেখতে পায় না!
শুধু কেনো যেন আমিই দেখতে পাই তাকে।

বালকটিকে যখন খুব বিষন্ন হতে দেখি,
তখন বুঝতে পারি আজ তার ঘুড়ির সুতো কেঁটে গেছে।
আনন্দিত হলে বুঝতে পারি সেদিন সে ঠিকমতো ঘুড়ি মাটিতে নামিয়েছে,
অথবা অন্য কারো অদৃশ্য ঘুড়ি কেটে দিয়েছে।

সূর্য ডুবার পর দু’জনেই হাঁটতে হাঁটতে বাড়িতে ফিরি নিঃশব্দে।
ফিরতি পথে আচমকা হারিয়ে যায় বালকটি সব সময়।
কোন বাড়ির ছেলে সে জানা হয়নি কখনো।

যেদিন আমি বাড়ির ফেরার পথে এক পরিচিত অন্ধ ভিখারীর ভিক্ষাপাত্রে, অমোনযোগের ভাব ধরে ইচ্ছে করে লাথি মেরেছি,
ঠিক সেদিন থেকে বালকটিকে আর মাঠে দাঁড়িয়ে ঘুড়ি উড়াতে দেখিনি কখনো!
আমি প্রতিদিন সময় করে বিকেলে মাঠে এসে বসে থাকি,
তবুও বালকটির দেখা আর পাইনি তারপর।

হারিয়ে যাওয়া বালকটি আর তার ‌অদৃশ্য ঘুড়ি এখন আর আমাকে রাতে ঘুমোতে দেয়না তারপর থেকে,
বসে থাকি ‌অ-ঘুমে সারারাত।
সেই সব অ-ঘুমের গভীর রাতে
আমি কখন যে অদৃশ্য নাটাই সুতো নিয়ে চলে যাই সেই মাঠে,
একবারও টের পাইনা।
একসময় নিজেকে আবিস্কার করি.
রাতের আকাশে এক অদৃশ্য ঘুড়ি উড়াচ্ছি সেইখানেই দাঁড়িয়ে,
বালকটি ঠিক যেখানে দাঁড়াত।
এই আমিও যেদিন আকাশ থেকে সেই ‌অদৃশ্য ঘুড়ি মাটিতে নামাতে পারি
-সেদিন আমি বেঁচে থাকি,
যেদিন ‌অদৃশ্য ঘুড়ির ‌অদৃশ্য সুতো ছিড়ে ঘুড়ি উড়ে যায় রাতের আকাশে
-সেদিন আমি মরে যাই।
শুধু বিষন্ন এক চাঁদের আলোতে পরিচিত সেই অন্ধ ভিখারী বসে বসে আমাকে পাহারা দেয়।

এখন এভাবেই প্রতিরাতেই আকাশে ‌অদৃশ্য ঘুড়ি উড়িয়ে
আমি কোনোদিন বেঁচে থাকি,
আবার কোনোদিন মরে যাই
-এক ‌অন্ধ ভিখারী শুধু আমার জীবন মৃত্যু পাহারা দেয়।
————————————————
রশিদ হারুন
০১/০৮/২০২০
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১২:২৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য : বৌ এর ভালবাসা !!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১২:২২

গত শুক্কুরবারের কেস। ছুটির দিন সক্কাল সক্কাল জমিয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে সবে সামু খুলে বসেছি, ঝড়ের বেগে ওষুধের বাক্স হাতে গিন্নীর আগমন..."এই নাও, একটা ক্যালপল খেয়ে নাও।"
এ্যান্টেনাতে কাগ, আমি তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতির অর্ধেক সম্পদ আমলাদের পেটে চলে যায়।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১২:৫৭


আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশে দুর্নীতি হবে এটা স্বাভাবিক। না হওয়াটা অস্বাভাবিক। কিন্তু দুর্নীতিরও তো একটা সীমা থাকে। একজন স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি'র সামান্য ড্রাইভার সে শত শত কোটি সম্পদের মালিক!... ...বাকিটুকু পড়ুন

হালচাল -১

লিখেছেন জাহিদ হাসান, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৭:১০



১। গতকালকে ঢাকা থেকে বাসে করে গাজীপুর আসা-যাওয়ার পর ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছি। সারা শরীরে অনেক ব্যথা করতেছে।কারণ সারাটা রাস্তায় খালি জ্যাম আর জ্যাম।
সায়েদাবাদে জ্যাম, মতিঝিলে জ্যাম, কমলাপুরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরকমও হয়!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:০৯



একবার অস্ট্রেলিয়ার এক বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে একজন বাংলাদেশী জয়েন করলো বিক্রয়কর্মী হিসাবে। প্রথমদিনে পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করলো সে।

সারাদিনের কাজ শেষে সন্ধ্যা ৬টার সময়ে তার বস তাকে ডাকলো।

বস:... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাতা আবিষ্কার

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৫১


কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জুতা আবিষ্কার' কবিতার ছায়া অবলম্বনে একটি রম্য কবিতা

রাজামশাই কহিলেন শোন কান খুলিয়া,
মন্ত্রী উজির বুদ্ধি বাহির কর সকলে মিলিয়া।
বর্ষার বারি আর প্রখর রোদ লাগিবে কেন গায়,
বৃষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×