somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জিএম হারুন -অর -রশিদ
আমার কারো কাছে নেই কোন অভিমানের দেনাপাওনা, নেই কোন কষ্টের হিসাব, তবুও লুকিয়ে থাকা হাহাকার পরম যতনে আগলে রাখি-- প্রথম পাওয়া চিঠির মত, আমি এই রকমই বন্ধু ।

ভোটের অর্থনীতি

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মাননীয়গণ,
এখন তো ভোটের বাজার,
আপনাদের সিজন,
দরদাম ঠিকমতো করবেন কিন্তু
তা না হলে ঠকে যাবেন!

মাননীয়গণ,
ভোটের বাজারে যারা মাল বিক্রি করতে এসেছেন
তাদের বলছি-
আবার কবে সিজন আসবে,
কে বাঁচবে কে মরবে বলাতো যায় না,
সুযোগ যখন পেয়েছেন
নিজের দামটা ঠিকমতো চাইবেন
তা না হলে পরে পস্তাবেন।
দাম নেবার সময় নোট- আসল না নকল দেখে নিবেন।
ভোটের সিজনে অনেক ক্রেতা নকল নোট ধরিয়ে দেয়,
যেমন দেয় কোরবানীর গরুর হাটে।
যার-তার দেওয়া জিনিস খাবেন না,
খেলে অজ্ঞান হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকার সম্ভবনা কমপক্ষে পাঁচ বছর,
হয়তোবা এই জীবনে আর আপনার জ্ঞান নাও ফিরতে পারে।
আজকাল ভোটের বাজার আর গরুর হাট অনেকটা একইরকম।

মাননীয়গণ,
ভোটের বাজারে যারা মাল কিনতে এসেছেন তাদের বলছি-
মাল দেখেশুনে যাচাই করে কিনবেন,
অনেককাল আগে ভালো মাল পাওয়া যেত ভোটের বাজারে,
তাদের কেনার মতো সম্পদ কারোই ছিলো না,
তাই এই বাজারে নিজেকে ফ্রী বিলিয়ে দিতেন তারা,
রাস্তাঘাটে ক্ষেতখামারে আমজনতার সাথে তারা নিজেকে বড় করতেন
তাই তাদের সারা শরীরেই ধুলাবালি লেগে থাকতো সবসময়।
অথচ খাঁটি ছিল তাদের শরীর মন-
যে কোনো কষ্ট অবলীলায় সহ্য করতে পারতেন তারা।

আজকাল ভোটের বাজারে সব মেকাপ দেওয়া সাঁজগোজ করা সিজনাল মাল!
চকচক করলেই যেমন সোনা হয়না,
তেমনি ভোটের বাজারে রাতারাতি চমকানো সিজনাল মাল খারাপ হবার সম্ভবনা খুবই বেশি।
ভাগ্যগুণে অনেকসময় ভালো মাল পড়ে,
তবে ভাগ্যের উপর বিশ্বাস না করে যাচাই করে নিবেন।
এই সময়ে গরু মোটাতাজাকরণ বড়ির মতো অনেকে ইলেকশন বড়ি খেয়ে আকর্ষণীয় মাল সেঁজে মেকাপ নিয়ে
নিজেকে বিক্রি করতে আসে।
এরা হাইব্রিড,
একটুও কষ্ট সহ্য করতে পারে না তারা।
আমজনতার কষ্ট কী তারা জানেই না!
একটু কষ্ট দেখলে‌ই কাকের মতো কা কা করে উড়াল দেয়,
এদেরকে বাংলা অভিধানে কাউয়া বলে,
কাউয়া ,সুযোগ পেলেই উড়াল দিবেই, দিবে
এটাই কাউয়ার ধর্ম-
এই ‌‌অধমের কথাটা মনে রাখবেন।
তাই আবারও বলছি
মাল কিনার আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করে কিনবেন,
তা না হলে পুরো পয়সাই পানিতে যাবে,
মানসম্মানের কথা না হয় বাদই দিলাম ।

মাননীয়গণ,
ভোটের বাজারে বিদেশি পয়সা ধার করে মাল কিনবেনও না- বেচবেনও না।
এই ভুল করলে কিন্তু পুরো মজা নিবে বিদেশিরা,
আপনি থাকবেন শুধু মাল টানা কুলি।
জ্বী হুজুর,
জ্বী হুজুর
বলতে বলতে পাঁচ বছর চলে যাবে
তবুও ধার শোধ হবে না,
আর সারাজীবন ‘জ্বী হুজুর’ এর শিকলের দাগ গলায় কালো হয়ে ফাঁসির মতো থাকবে।

মাননীয়গণ,
ভোটের বাজারে আপনারা যা খুশি বেচেন, কিনেন-
আমজনতার এখন আর কিচ্ছু যায় আসে না!
তারা এই ব্যবসার লাভ লোকসানের কিচ্ছু ভাগও চায় না।

আমজনতা শুধু আপনাদের কাছ থেকে গ্যারান্টি চায়,
তাদের পাতিল ভর্তি গরম ভাত যেন কেউ চুরি করে না নেয়।
——————
র শি দ হা রু ন
মন্ট্রিয়াল, কানাডা
১৫/১২/২০২৩
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১:৩৭
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যা মা তুই অসীমে... পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিস

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৪ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯


ইয়াসমিন থেকে রামিশা এরপর কে? আমরা কবে মানুষ হবো? ওরা ধর্ষণকারী, আর আমরা দর্শনকারী! ...বাকিটুকু পড়ুন

রসময় গালগল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



প্রতিদিন ভাবি তুমি এলে বেশ জমিয়ে করবো-
রসকষহীন কাঠখোট্টা গল্প!
আমার সঞ্চয়ে নেই কোনো রসময় গালগল্প-
যা থেকে পেতে পারো যৎকিঞ্চিত উষ্ণতা।

আমি ঠিক নিশ্চিত নই আদৌ তুমি আসো কিনা!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদযাত্রায় সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৪ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২১



ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে সারা বছরের কর্মব্যস্ততা পেছনে ফেলে শেকড়ের টানে নীড়ে ফেরার চিরন্তন আকুলতা। প্রিয় মুখগুলোকে বুকে জড়িয়ে অপার্থিব শান্তি অনুভব করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেঝ দা

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

লেখালেখি ভীষন বিরক্তিকর লাগে এখন। গাইতে গাইতে গায়েনের মত আমি লিখতে লিখতে লেখক হয়েছি। লেখালেখি নি কোন আশাবাদ বা প্যাশন আমার কস্মিনকালে ছিল না- এটা আমার নেহায়েত শখের বিষয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি এবং এনসিপির মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনাটি সত্যি; বিএনপি ও এনসিপির সম্পর্কের ভেতরে এখন স্পষ্ট টানাপোড়েন দৃশ্যমান। রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই বাড়ছে পারস্পরিক অস্বস্তি ও বাকযুদ্ধ। এনসিপির সাম্প্রতিক আচরণ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×