somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রশিদ হারুনের শেষ কবিতা

০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৫ রাত ২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কবিতা লেখনের নিরানব্বইতম ব্যর্থ চেষ্টায় হতাশ হইয়া,
কবি রশিদ হারুন সারারাইত পুশকনির পারের কড়ই গাছটার শইলে হেলান দিয়া আসমানের দিকে চাইয়া থাকতে থাকতে একসময় দেখল
-আসমান লাল হইয়া পাকনা আমের রঙের মতন লাগতাছে।

সূর্যের মনে লয় ঘুম ভাঙল!
অথচ কবি হারা রাইত না ঘুমাইয়া আসমানের পানে চাইয়া বুকের মইধ্যে ভাব আনতে গিয়া -দুই চউখ লাল করছে হিন্দু বাড়ির বউগো মাথার সিন্দুরের মতো।

কিছু ছিড়া সাদা কাগজ পুশকনিতে ভাসতাছে মরা বরফের লাহান।
আচমকা আগুনের গোলার মতোন কি যেনো একটা মাডিতে পড়ল। রশিদ হারুনের ভয় পাওনের কতা, অথচ ভয়ত দূরের কতা, হে একবার চাইয়াও দেখলনা। আগুনের গোলা থেইক্ক্যা গায়বি আওয়াজ বাইর অইলো,
-“আমি আজরা‌ইল, মহান খোদার নির্দেশে আপনার জান কবজ করতে এসেছি,
আপনি কি প্রস্তুত?”
রশিদ হারুন একটুও ডরাইলো না,
হে কইল,
-আফনে কি জানেন না, আমি কাইল সূর্য ডুবার পর রাইত শুরু অইতে না অইতেই মইরা গেছি!
কবিতার একটা কতাও আমার বুক পিঞ্জিরায় নাই।
এই ছোডখাড হাড্ডিভরা বুকটাত কবিতা না থাকলেই আমার মরন হয়।
মরা মাইনষেরে আফনে আবার কেমনে মারবেন!”

আজরাইল ফেরেসতা খুবই ধন্দে পইড়া গেলেন।
মরা মাইনষের জান আবার কবচ কেমনে করবেন!

হেই সময় রশিদ হারুন কইলো,
- “আফনে কষ্ট কইরা যখন আইয়াই পরছেন, তহন নাইলে একটু জিরান, আমি আরেকবার আপনার লাইগ্যা শেষ চেষ্টা করি।"
আজরাইল ফেরেসতা খুবই পেরশানী হইয়া তব্দা খাইয়া অপেক্ষা করতে লাগলো।

তারপর রশিদ হারুন পুকুরে পানিতে অনেকক্ষণ যাবত সাঁতার কাটল।
এহন সাদা কাগজগুলানের দিকে চাইয়া দেখল মইধ্যে মইধ্যে আসমানের মেঘের লাহান লাগতাছে।
সাঁতারাইতে সাঁতারাইতে হুনলো- চারিদিক থেইকা ফজরের আজান শুরু হইছে-
পানির আওয়াজের সাথে সাথে কানে ভাইস্যা আইতাছে
-“আস সালাতু খাইরুম মিনান নাউম....”
রশিদ হারুন ভিজা শরীরে পুকুরের পারেই বইয়াই ফজরের নামাজ পড়ল।
সেইখানে বইয়াই একশতম চেষ্টায় শেষ কবিতাডা লেখল,
মাত্র একটি কতায়।
“খোদা!"

তারপর হেয় আজরাইল ফেরেসতারে ডাইক্যা কইল,
“আমি আবার বাইচ্চা উঠছি। আফনে চাইলে এইবার আমার জানডা লইতে পারেন।
আজরাইল ফেরেসতা অনেকদিন পর আবারও বিষণ্ণ হইয়া একটি জান নিয়া খোদার আরশের দিকে উইড়া যাইতাছেন।
অনেকদিন পর পর উনারও মনডা খারাপ হয় কিছু মানুষের জন্য।
———————————————
রশিদ হারুন
১৯/০৬/২০২০
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৫ রাত ২:১৭
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা: আমরা সবাই ইনসাফের লোক—যতক্ষণ না নিজের স্বার্থ ছাড়ার প্রশ্ন আসে!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

একজন মানুষ অসুস্থ বোধ করছেন। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাতর কণ্ঠে বলছেন, একটু বসতে দেবেন? শরীরটা ভালো লাগছে না। আশপাশে মানুষ আছে, আসন আছে, চলমান ট্রেন আছে—শুধু তাঁর জন্য একটু জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×