সকালের সূর্য দুপুরে তেজ দেখাবে এটা স্বাভাবিক, তেজ যত বেশী হবে উত্তাপ তত বেশী ছড়াবে এটা স্বাভাবিক, উত্তাপ যত বেশি ছড়াবে ঘাম তত বেশী ঝরবে এটাও স্বাভাবিক। এই সবের মুলেই হচ্ছে ''পরিশ্রম''। যে যত বেশি পরিশ্রম করবে সে ততদুর বেশি যেতে পারবে।
যে ২ কদম বেশি হাঁটবে সে ২ কদম বেশি এগোবে। যে বেশি পড়বে সে বেশি জানবে। যে বেশি পরিশ্রম করবে সে বেশি কিছু পাবে। ব্যাপার গুলো তো এরকম ই। তাই নয় কি ??? তবে একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে '' উইদাউট রেজাল্ট হার্ড ওয়ার্কিং ইজ ভেলুলেস''। এর জন্য সাথে যোগ করতে হবে ''বেষ্ট এফোরট''। শুধু পরিশ্রম করলেই সব হয় না, যদি তাই হত, তাহলে গাধা হত বনের রাজা।
অনেকেই ভাবেন বড় বড় মানুষরা তো শুরুতে আমার মতই ছিলেন। তাই আমি ও একদিন অনেক বড় হব। একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে নিজেকে বড় ভাবা আর বড় হওয়া এই দুইটা কিন্তু এক জিনিস না। মাথায় রাখতে হবে,
---স্কুল পালালেই রবীন্দ্রনাথ হওয়া যায় না।
---বাবরি চুল রাখলেই নজরুল হওয়া যায় না।
---বাবার টাকা উড়ালেই মাইকেল মুধুসুদন হওয়া যায় না।
---ভার্সিটি ড্রপ আউট করলেই স্টিভ জবস/জুকারবার্গ হওয়া যায় না।
---বগলের নীচে ডিমে তা দিলেই টমাস আলভা এডিসন হওয়া যায় না।
---বই বাঁধাই এর দকানে চাকরি করলেই মাইকেল ফ্যারাডে হওয়া যায় না।
তাঁরা এত কঠিন অবস্থায় থেকেও তাঁদের প্রমাণ করতে পেরেছেন। কারণ তাঁরা নিজেদের উপর আস্থা রাখতে গিয়ে ভুল করেন নি। তাঁরা জানা আর অজানার মাঝে পার্থক্য তা জানতেন। যেটা আমাদের কাছে আজ অবর্তমান।
''রবি ঠাকুর'' বলেছেন, 'পারবো না এটা একটা খোঁড়া যুক্তি কিন্তু কেন পারবো না এটা হচ্ছে পুরুষকার যুক্তি।''
আমি সবসময় ই বলি, আমরা কিছু করতে পারি না কারণ আমরা নিজেরাই জানি না জানা আর অজানার মাঝের তফাৎটুকু। তাই আমাদের সমস্যা বের করতে পারি না আর তাই সমাধান ও খুজে পাই না। আর দোষ দিতে থাকি ভাগ্যের।
''সিনেকা'' বলেছেন, ''সৌভাগ্য অনেকের সাথে দেখা করার জন্য প্রতীক্ষা করেন কিন্তু কেবল তার সাথেই দেখা করেন যে কঠোর পরিশ্রম করে।''
ব্যাপার টা আসলেই তাই।
আপনাকে আগে ঠিক করতে হবে আপনি কিসে বিশ্বাস করেন?
প্রেম, ভালোবাসা নাকি বন্ধুত্বে ? তারপড় তারপেছনে লেগে পড়ুন। আমি আপনি যারা এখনও গ্রাজুয়েশন করছি তাঁদের হয়তো এখনও যোগ্যতা অর্জন করার বয়স হয় নি। কিন্তু যোগ্য হয়ার মত যথেষ্ট বয়স আমাদের হয়েছে। এই যোগ্য কে যোগ্যতায় রূপ দেওয়া কেবল সময়ের দাবী মাত্র! হ্যাঁ, আশেপাশের মানুষগুলো সমালোচনা করবেই, তাতে কান দেওয়ার দরকার নেই। আর হ্যাঁ, লোভ/হিংসা/বিদ্রূপ এই অভ্যাস গুলো ঝেড়ে ফেলতে হবে।
আর সবশেষে একটা কথাই বলবো আপনি যে ই হন না কেন, নিজের আদর্শ ভুলে গেলে চলবে না কিন্তু ! কারণ এটাই আপনার শিকড়। আর নিজের উপর শতভাগ বিশ্বাস রাখতে হবে। নিজে কিছু করতে পারবেন না, তাও বিশ্বাস রাখতে হবে যে আপনি হয়তো এখন পারবেন না, কিন্তু ভবিষ্যতে পারবেন। কিন্তু অবশ্যই নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। আর লিখাটি শেষ করবো ড্রাইভেন এর উক্তি দিয়ে।
''ড্রাইভেন'' বলেছেন, ''যারা বিশ্বাস করে যে তারা জয় করতে পারে, কেবল তারাই জয় ছিনিয়ে আনতে পারে।''
আপনার কাছে সর্বশেষ প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে আপনি নয় কেন ???
-----গোলাম রাব্বানী
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ভোর ৪:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



