somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষ সুইসাইড করে কেন?

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ সুইসাইড করে কেন?
যখন সে মনে করে তার সব শেষ, তাকে কেউ ভালোবাসে না, তাকে কেউ টেক কেয়ার করে না, তাকে আর কেউই আগের মত প্রায়োরিটি দেয় না, হারানোর কষ্ট সহ্য করতে না পেরে, কিংবা প্রচণ্ড ডিপ্রেশনে। হ্যাঁ সাধারণত এসব কারনেই কেউ আত্মহত্যা করে।

আচ্ছা সুইসাইড করলেই কি সমস্যা সমাধান হয়ে গেল?
উঁহু, জীবনেও না। বরং এর দ্বারা তুমি তোমার প্রিয় মানুষের আরও অনেক বড় ক্ষতি করে গেলা। অনেকেই বলে সুইসাইড করতে নাকি সাহস লাগে? আমি বলি এটা স্রেফ মাতলামি ছাড়া কিছু নয়। বেঁচে থাকতে সাহস লাগে, হিম্মত লাগে।

ধরে নিলাম, কেউ আত্মহত্যা করার জন্য ৯৯ভাগ প্রস্তুতু। গলায় দড়ি বেঁধে নিল, নয়তো বিষ পান করবে বলে বোতল হাতে নিল, নয়তো অনেক কষ্টের জমানো টাকা দিয়ে কেরোসিন তেল কিনে গায়ে ঢেলে দিলো। শেষ বারের মত নীল দিগন্তকে আরেকবারের জন্য দেখে নিচ্ছে, আর অজর ধারায় চোখ দিয়ে পানি ঝরছে সব হারানোর দুঃখে। ঠিক সে মুহূর্তে হঠাৎ করে তার মনে হল পৃথিবীর কেউ না কেউ তাকে অনেক বেশি ভালোবাসে। কোন এক কল্পনাতে সেই মানুষটি তাকে অনেক সুন্দর স্বপ্ন দেখিয়েছিল। সে আত্মহত্যার জন্য ৯৯ ভাগ প্রস্তুত থেকেও সে সেখান থেকে বাস্তব জীবনে ফিরে এল। তার মনে হয়েছে তার বাঁচা দরকার। পৃথিবীকে দেওয়ার মত তার কাছে এখনও অনেক কিছু আছে। এমনটাও হতে পারে। কিন্তু সমস্যা টা বাধে যখন কেউ সুইসাইড করার এটেম্পট নিয়ে সেখান থেকে আর ফিরে আসতে পারে না। ব্যাপার টি কতটা ভয়াবহ, একবারও ভেবেছ?

সত্যি বলতে কি একবার প্রচণ্ড হতাশার কারণে আমিও ফাইনাল ডিসিশন নিয়েছিলাম যে সুইসাইড করবো। আমার খুব খারাপ লাগছিল। নিজের অজান্তেই আমি কান্না করছিলাম। কেমন যেন উন্মাদ হয়ে যাচ্ছিলাম। তখনই একটি লেখায় চোখ আঁটকে যায়। লেখাটি হচ্ছে,
‘’Its a new day, Its a new minute, Its a new second. Life is beautiful. Enjoy yourself. U r beautiful as just the way you are. Don’t waste your time by thinking bullshit. Mind it, Nobody is perfect, and I am that Nobody’’

এই লেখাটি পড়ার পর আমি আমার সিদ্ধান্ত বদলে ফেললাম। আমি সুইসাইড করবো না। আমাকে বাঁচতে হবে। আমাকে আমার মত করে বাঁচতে হবে। পৃথিবীতে এখনও অনেক কিছু দেখার বাকি আছে। আমি হারবো না। শেষ নিঃশ্বাস অবধি আমি পৃথিবীর গায়ে আঁচড় কাটবো। আজ আমি যে স্বপ্নের পেছনে ছুটছি, তা সেদিন দেখেছিলাম। আর এখন দিব্যি যুদ্ধ করে যাচ্ছি। নিজের সাথে, মনের সাথে, জগতের সাথে। জীবনের সাথে! আমাকে যে অনেকদুর যেতে হবে!

তুমি কার জন্য জীবন শেষ করছ? তার জন্য? যার কাছে এক মুহূর্তের জন্যও তোমার মূল্য ছিল না। তার জন্য? ‘লেট ইট গো ইয়ার। লিভ দ্যা ফাকিং লজিক’। ৭০০ কোটি মানুষের পৃথিবীতে ২-১ জন মানুষ তোমাকে অপছন্দ করে করলে তোমার কিছু যায় আসে না। বাকিরা তো তোমাকে ভালোবাসে। তাদের কথা ভেবে বেঁচে থাকো। বাঁচার মত করে বাঁচ। লড়াই করে বাঁচ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৩৭
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×