somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্রাক্মনেরা কৌলীন্য প্রথার দোহাই দিয়ে সামাজিক সুবিধা আদায় করতে লাগলেন।ক্রমে এই কৌলীন্য প্রথা থেকে সৃষটি হল কন্যাকে উচ্চবর্নে বিবাহ দেবার রীতি,যার অবশ্যম্ভাবী ফল হল বহুবিবাহ

২৬ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিনয় ঘোষের লেখা “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর” পুস্তকের ১১০ পৃষ্ঠায় লেখা আছে,”ব্রাক্মনেরা কৌলীন্য প্রথার দোহাই দিয়ে সামাজিক সুবিধা আদায় করতে লাগলেন।ক্রমে এই কৌলীন্য প্রথা থেকে সৃষটি হল কন্যাকে উচ্চবর্নে বিবাহ দেবার রীতি,যার অবশ্যম্ভাবী ফল হল বহুবিবাহ।এক একজন কুলিন ব্রাক্মন বহু কন্যার পাণি গ্রহন করতে লাগলেন।
ঋতুমতি হবার আগে বিবাহ দেবার বাধ্যবাধকতা ও বিবাহ দিতে না পারলে পিতামাতার যে সামাজিক অসম্মান হত তা থেকে নিস্কৃতি দেবার জন্য কুলিন ব্রাক্মনেরা এই সব কন্যাদের বিবাহ করতেন।অতএব বিবাহ বেশ লাভজনক ব্যাবসা হয়ে উঠল।কুলিন ব্রাক্মন কন্যাদের অসহায় পিতা মাতার দু তিন ডজন স্ত্রী থাকা সত্বে ও ৭০/৮০ বছরের বৃদ্ধ কুলীন ব্রাক্মনদের উপযুক্ত পাত্র বিবেচনা করতেন।মৃতপ্রায় ৮০ বছরের ও অধিক বয়স্ক বৃদ্ধের সাথে নিতা্ন্ত বালিকা কন্যাদের বিবাহ হত মৃত্যুর আগে সে বৃদ্ধের লাভ হত সামান্য কয়েকটি টাকা।“
কুলীন ব্রাক্মনদের মধ্যে অনেকে এ প্রথার বিরোধিতা করেছিলেন তাদের মাঝে পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশে) রাসবিহারি মুখোপাধ্যায় ছিলেন বিশেষ উল্লেখযোগ্য।তিনি তার জীবন চরিতে যা লিখেছেন তা থেকে সামান্য কিছু তূলে ধরা হল।
তিনি লিখেছেন,”পিতাঠাকুর মহাশয় আমাকে অতি শৈশবাবস্থায় রাখিয়া স্বর্গারোহন করেন।তখন পিতৃব্য শ্রীযুক্ত তারক চন্দ্র মুখোপাধ্যায় মহাশয় আমার অভিভাবক ছিলেন।দারিদ্রতাবশত আমাকে অল্পকালের মাঝেই তিনি ৮টি বিবাহ করান।বহুবিবাহে সম্মতি থাকিলে বোধহয় আমাকে শতাধিক রমণির পাণী গ্রহন করতে হত।নিরুপায় হয়ে আরো ৬টি বিবাহ করিতে হইল,তাহাতে আমার ঋন পরিশোধ ও ভরণপোষনের সংস্থা হইলে আমি হোসেন শাহির জমিদারিতে আশ্রয় গ্রহনপূর্বক তহশিলদারি কর্মে নিযুক্ত হই।
(রাসবিহারি মুখোপাধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত)
এছাড়া আরো অনেক দৃষটান্ত আছে যে যার দ্বারা প্রমান করা যেতে পারে যে কৌলিন্য প্রথা সমাজে ভীষন আকার ধারন করেছিল।যেম্ন,”(ক)একটি ব্রাক্মনের যদি ত্রিশটি স্ত্রী থাকে তবে প্রতি মাসে কয়েকদিনের জণ্য শ্বশুরালয়ে গিয়ে থাকলে আর খেয়ে ও ঊপহার পেয়ে থাকলে ,জীবিকা অর্জনের কোন চেষটা না করে তার সারা বৎসর কেটে যেতে পারে।বহুবিবাহ প্রথার ফলে
কুলীন ব্রাক্মনেরা এক নিস্কর্মা,পরভুকশ্রেনি হয়ে ঊঠেছে,এবং বিবাহের মত একটি সামাজিক ও ধর্মিয় অনুষঠানকে নীতি হীনতার ঊৎস করে তুলেছে।
(খ)” অতএব অনেক কুলীন ব্রাক্মনের জীবনধারণের একমাত্র ঊপায় হল বহূবিবাহ করা
(গ)কুলীনরা বৃদ্ধ বয়সে ও বিবাহ করে। অনেক সময় স্ত্রীদের সঙ্গে তাদে্র দেখা সাক্ষাতই হয় না অথবা বড়জোর ৩/৪ বছর পরে একবারের জন্য দেখা হয়।
(ঘ)” এমন কথা শোনা যায় যে একজন কুলীন ব্রাক্মন ১ দিনেই ৩/৪ টি বিয়ে করেছেন।
(ঙ)”কোন কোন সময়ে একজনের সব কয়টি কন্যার ও অবিবাহিত ভগিনীদের একই সঙ্গে বিবাহ দেয়া হয়।
(চ)”কুলিনের ঘরের বিবাহিত বা কুমারী কন্যাদের খুব দুঃখের
মাঝে দিন কাটাতে হয়। কুলীনদের এ ধরনের বহু বিবাহের ফলে ব্যাভিচার,গর্ভপাত,শিশুহত্যা ও বেশ্যাবৃত্তির মত জঘণ্য সব অপরাঁধ সংঘটিত হয়।“

(উপরের (ক) থেকে (চ) পর্জন্ত উদ্ধৃতিগুলো শ্রী বিনয় ঘোষের লেখা ঐ ““ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর” নামক পুস্তক থেকে নেয়া হয়েছে।
এছাড়াও এমন সব ব্যক্তির কথা জানা গেছে যারা ৮২,৭২,৬৫,৬০ ও ৪২ টি কন্যার স্বামি এবং এ সমস্ত স্ত্রীদের যথাক্রমে ১৮,৩২,৪১,২৫ ও ৩২ টি করে পুত্র সন্তান এবং ২৬,২৭,২৫,১৫ ও ১৬টি করে কন্যা সন্তান ছিল।মোট কথা কৌলিন্য প্রথা এক শ্রেণীকে একশত খণ্ডে বিভক্ত করে বিভেদের প্রাচির রচনার ফলে মানুষের মানবিকতাকে দারুনভাবে অপমানিত করা হয়েছিল এবং মানুষের স্বাধীন অধিকারের মূলে কুঠারাঘাত করা হয়েছিল।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষাকে না বলুন। মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করুন।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২

শুধু ভারত বিদ্বেষই না।

মাদ্রাসাগুলোতে কোনও ব্যতিক্রম ছাড়াই মোল্লারা ইসলামের দোহাই দিয়ে,

/নিজের দেশ তথা নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রতি বিদ্বেষ করা শেখায়।

/মোল্লারা তাদের মাথায় এই ধারণা খুব অল্প বয়সেই ঢুকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×