somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুরনো নীতির সঙ্গে নতুন নীতির সংর্ঘষের বলি সুজাতা

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে ভালো কাজের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে নীতির প্রশ্নে নানা বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন সুজাতা সিং। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে প্রযোজনীয় সংশোধনে অনীহা দেখিয়েছিলেন বলে সুজাতা সিংয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। গত কয়েক মাসে সেই বিরোধ তীব্রতা পেয়েছে ইসরায়েল ও ডেনমার্কের প্রশ্নে। শেষ পর্যন্ত প্রায় মধ্যরাতের এক বৈঠকে তাকে অপসারিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইচ্ছেতেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারত সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে প্রচলিত বেশ কয়েকটি নীতি ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করার জন্যই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অখুশির কারণ হয়েছিলেন তিনি। আর তাই পররাষ্ট্রসচিব বদলের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও প্রধানমন্ত্রী বার্তা দিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। একটি সূত্রে বলা হয়েছে, বারাক ওবামার সফল ভারত সফরের ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই সুজাতা সিংকে সরিয়ে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সৌহার্দ্যের নতুন বার্তা দেয়া হয়েছে। আর তাই কংগ্রেস এই অপসারণের সঙ্গে ভারতীয় কুটনীতিক দেবযানী খোবড়াগাড়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আক্রমন শানিয়েছে। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতীয় কুটনীতিক দেবযানী ভিসা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেই সময় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে সুজাতা সিং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা তুলে নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। এতে অখুশি ছিল মার্কিন সরকার। আর তাই ওবামার ভারত সফরের আগেই সুজাতা সিংকে সরে যাবার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তাকে সম্মানসূচক সাংবিধানিক পদ দেবার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সুজাতা তিন দিনের জন্য ভাবনার সময় নিয়েও পরে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেন বলে সাউথ ব্লক সূত্রে জানানো হয়েছে। ওবামার ভারত সফর পর্বে জয়শঙ্করকেই প্রধানমন্ত্রী প্রাধান্য দেন, উপেক্ষা করেন পররাষ্ট্র সচিবকে। তবে সর্বশেষ যে ঘটনায় সুজাতা সিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর তথা প্রধানমন্ত্রীর বিরোধ তীব্র হয়েছিল সেটি ছিল ভাইব্র্যান্ট গুজরাট সম্মেলনে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রশ্নে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ব্যাক্তিগতভাবে অসন্তুষ্ট হয়েছেন। গুজরাট সরকার ভাইব্র্যান্ট গুজরাট সম্মেলনে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীকে অতিথি করতে চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীরও তাই ইচ্ছে ছিল। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রকের আপত্তিতেই তা সম্ভব হয়নি। কিম ডেভি সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগে ডেনমার্কের সঙ্গে কোনও উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ না রাখার নীতিতে পররাষ্ট্র সচিব অবিচল ছিলেন। এর ফলে ডেনমার্কের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আলোড়ন তৈরি হয়। ইসরায়েলের প্রশ্নেও পররাষ্ট্র মন্ত্রক পুরনো অবস্থানে অনঢ় থেকে ব্রিকস সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে ইসরায়েল সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছিল। কিন্তু মোদী সরকারের আসার পর ইসরায়েলকে ভারতের সহযোগীদের তালিকায় প্রাধান্য দিয়েছিলেন। একই ভাবে ভারতের পুরনো অবস্থান অনুযায়ী রাষ্ট্রসংঘের মানবিক অধিকার রক্ষা সম্মেলনে ভারত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল। ভোটদানে অনুপস্থিত থেকে মুখরক্ষার চেষ্টাও করেনি পররাষ্ট্র মন্ত্রক। অথচ নতুন সরকারের নীতিই হচ্ছে ইজরায়েলের প্রতি খানিকটা নরম মনোভবাব নিযে চলা। এই সব ঘটনাকে সামাল দিতে স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী নিউইয়র্কে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানুয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের আরও অভিযোগ ছিল, মোদীর জাপান সফরের সাফল্যকে এগিয়ে নিযে যাওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র সচিবের দ্বিধা ছিল । এই সব কারণেই গত মাস ছয়েক ধরে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নতুন সরকারের নীতির সঙ্গে পুরনো অবস্থানের ব্যাপক ফারাকই অচলাবস্থা তৈরি করেছিল। তবে বিদায় নেবার মুহূর্তে অপসারিত পররাষ্ট্র সচিব তার সহকর্মীদের কাছে পাঠানো বার্তায় স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠান তৈরিতে কোনও ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নিতে পারেন। কিন্তু ব্যক্তি কখনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বড় হতে পারেন না। তবে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, জয়শঙ্করকে নতুন পররাষ্ট্র সচিব করে প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রকে নিজের কর্তত্ব প্রতিষ্ঠা করলেন। জয়শঙ্করের কাজে নরেন্দ্র মোদী অনেক দিন ধরেই খুশি। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মোদী যখন চীন সফর করেছিলেন তখন জয়শঙ্কর চীনে রাষ্ট্রদূত ছিলেন্। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয রাষ্ট্রদূত হিসেবে জয়শঙ্কর যেভাবে ভুমিকা রেখেছেন তাতেও খুশি ছিলেন মোদী। আর ওবামার সফর ফলপ্রসু করার পিছনেও জয়শঙ্করের ভুমিকা ছিল যথেষ্ট। মোদী তাই তার নতুন পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে তাল মেলাতেই জয়শঙ্করকে নতুন পদে বসিয়েছেন। এই ভাবেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকেও তিনি বার্তা দিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×