বিশাল উঁচু তিন তলা বিশিষ্ট এক নৌকা এক দেশ হতে আর এক দেশে যাত্রা করিতেছিল। কয়েকদিন, কয়েক সপ্তাহ চলার পর যাত্রীগণ বুঝিলো কোথাও একটা সমস্যা হইয়াছে এখনো গন্তব্যে পৌছাইতে পারিনা কেন? ইতিমধ্যে নৌকার খাবার পানি শেষ। এমন কোনো পাত্র বা দড়ি নাই যা দিয়ে পানি তুলবে। দুইদিন পর নৌকার নিচতলার কাতর যাত্রীগণ স্বিদ্ধান্ত নিলো তারা নৌকাটি ফুটা করবে তাতে করে যে খাবার পানি পাওয়া যায় তা দিয়ে পিপাসা নিবারণ করিবে।
নিচতালার যাত্রীদের এই স্বিদ্ধান্তের খবর দোতালার যাত্রীদের কাছে গেলো, তারা হৈ হৈ রৈ রৈ করে উঠলো। আরে গাধার দল, নৌকা ফুটা করলে যে পানি আসবে তাতে তো নৌকা ডুবে সবাই মারা পরবে। নৌকা ফুটা করা যাবেনা। নিচতলা এবং দোতালার এই দ্বন্দের খবর তিনতালার যাত্রীদের কাছে গেলো। তিনতালার যাত্রীগন এই খবর শুনে যারপরনাই বিরক্ত! আরে নিচতালার যাত্রীগন তাদের নিচতলা ফুটা করবে পানির জন্য এতে দোতালার যাত্রীগন বাধা দেবার কে? না না এটা বড্ড বাড়াবাড়ি, দোতালার যাত্রীগন মানবাধিকার লংঘন করছে।
এমন অবস্থায় মিটিং বসলো।
নিচতালার যাত্রীদের কথা তারা পানির পিপাসায় কাতর সামান্য একটা ফুটা করলে পানির পিপাসা দুর হয় নৌকার সব যাত্রীদের। আর আমাদের নিচতলা আমরা ফুটা করব, দোতালা বাধা দেওয়ার কে?
দোতালার যাত্রীগন প্রতিবাদ জানিয়ে বলল, পানির পিপাসা তোমাদের, আমাদের এবং তেনাদের সাময়িকভাবে না হয় মিটিলো, কিন্তু এই ফুটা দিয়ে যে প্রবল বেগে পানি আসিবে তাতে তো পুরা নৌকা ডুবে সবাই মারা পরবে। নিচতালা হৈলেও পুরা নৌকা আমাদের অংশ, নৌকা ফুটা করা যাবেনা।
নিচতালা আর দোতালার এই দ্বন্দে সবাই তাকাইলো তিনতালার যাত্রীগনের দিকে, তারা কি বলে!
তিনতাালার যাত্রীগন জানাইলো, নৌকা ফুটা করলেও তাদের আপত্তি নাই, না করলেও আপত্তি নাই। তারা কারও মানাবাধিকার লংঘন করতে চায় না।
তিনতালার যাত্রীদের এমন কথায় যেহেতু নিচতালার যাত্রীগন এক প্রকার সাহস পাইলো, তাই তারা নৌকা ফুটা করলো পানির জন্য। দোতালার যাত্রীদের বাধা কাজে আসলো না।
ফুটা দিয়ে পানি আসতে থাকলো। পানির পিপাসা মিটতে লাগলো।
ফুটা দিয়ে পানি আসতেই লাগলো। অতি পানিতে নৌকা ডুবে একে একে নীচতালা, দোতালা এবং তিনতালার যাত্রীগন মারা পরিতে লাগিল।
তিনতলার হে সুশীলগণ যে কোন এক পক্ষ নিন, দেশটাকে বাঁচান, দেশের খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে বাঁচান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





