।ব্যস্ততম রাস্তা ঘাটে ওয়েলকাম, ওয়েলকাম বলে চিল্লানো ওজন, উচ্চতা ও প্রেসার মাপার যন্ত্রে 10 টাকা দিয়ে একদিন পরীক্ষা করে দেখলাম আমি ওভার ওয়েট(আম্মাআআ) (কত পাউন্ড সেটা বলব না
)। ভর্তি হলাম শরীর গঠনে মিঃ বাংলাদেশ খেতাব প্রাপ্তের মালিকানা ও তত্বা বধানে পরিচালিত বাসার কাছের এক জিমে। কয়েক মাস নিয়মিত ব্যায়াম করার পর কর্মব্যস্ততা আর আলসেমীর কাছে পরাজিত হলাম। ফলাফল বাসায় ব্যায়ামের যাবতীয় ইনস্ট্রুমেট আমদানী।কয়েকদিন রুটিন মাফিক ব্যায়াম করার পর আবার আলসেমীর কাছে পরাজিত হলাম(আম্মাআআ)। সর্বশেষ শরীরকে কষ্টদিয়ে ডায়েটিং। হীতে বিপরীত। না খাওয়ার যন্ত্রনায় আর কিছু ভালো লাগছে না। সো, ব্যাক টু দি প্যাভিলিয়ন। মানে খাও, দাও ফূর্তি কর (ক্লোজআপহাসি)। এমন দুঃসময়ে আজকে নেট ভ্রমনে একটি আশার আলো দেখলাম। অথর্াৎ যারা দিন দিন মুটিয়ে যাচ্ছেন তাদের জন্য সুসংবাদ আছে
।
ক্যালিফোর্নিয়ার স্ক্রিপস গবেষণাগারের বিজ্ঞানীরা এই প্রথম উদ্ভাবন করলেন শরীর মুটিয়ে যাওয়ার প্রতিরোধমূলক ভ্যাকসিন। ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিকঅব সায়েনসের পত্রিকায় তাদের এ যুগান্তকারী উদ্ভাবনের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে(ক্লোজআপহাসি)।
স্ক্রিপস গবেষণাগারের বিজ্ঞানী কিম জান্ডা ও তার সহযোগীরা 3টি সিন্থেটিক ভ্যাকসিন তৈরী করেছেন এবং সেগুলে া পুরুষ ইঁদুরের শরীরে প্রয়োগ করেছেন। তারপর ইঁদুরগুলোকে নিয়মিত স্বাভাবিক খাবার দিয়ে কিছুদিন পরে দেখা গেছে যে ইঁদুরের শরীরে কম চর্বি জমেছে এবং তাদের ওজনও বেড়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম। আর তাতেই উল্লসিত কিম বলেন, "ওজন আর চর্বি যদি শরীরে না জমে তাহলেই মুটিয়ে যাওয়ার মত বিশ্বজনীন সমস্যার সমাধান সম্ভব"।
কিম বলেন, "মানুষ ও সব স্তন্যপায়ী প্রানীকে মোটা করার প্রধান অপরাধী ঘ্রেলিন নামক এক বিশেষ হরমোন। ঘ্রেলিনের জন্য খিদে পায় এবং ওজন বাড়ে। জিএইচআর নামক যে প্রতিষেধকটি তৈরী করা হয়েছে সেটি শরীরে প্রয়োগ করলে এন্টিবডি তৈরী হয়। যেটি পযর্ায়ক্রমে শরীরে সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় এবং ঘ্রেলিনের ওজন বাড়ানোর কর্মক্ষমতা হ্রাস করে। এতে বিপাক হার কমে, বেড়ে যায় শক্তির ব্যবহার। ব্যস, এতেই কাঙ্খিত উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যায়"।
এখন প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ঘ্রেলিন হরমোন কী? 1999 সালে এই ঘ্রেলিন নামক গ্যাস্ট্রিক হরমোন আবিষ্কৃত হয় যা মানুষের পাকস্থলীর ফান্ডাস অংশের দেওয়ালে বিদ্যমান। জ্বরের সময় আমাদের অরূচি লাগে এর কারন তখন এই ঘ্রেলিন নিঃসরণকারী কোষগুলো অক্ষম হয়ে পড়ে। ওবেস্টাটিন নামক আরেকটি গ্যাস্ট্রিক হরমোন আবিষ্কৃত হয় 2005 সালে। দু'টি হরমোনের উৎস একই জিন। ওবেস্টাটিন ঘ্রেলিনের উলটো কাজ করে। অথর্াৎ খিদে কমিয়ে দেয়। কিন্তু ঘ্রেলিন এতই সক্রিয় যে মানুষের খিদে সহজে কমে না। এই জিআরএইচ ভ্যাকসিন উদ্ভাবন সে দিক থেকে নিঃসন্ধেহে মানুষের খুবই বড় সাফল্য।
জিআরএইচ ভ্যাকসিনের জনক কিম জান্ডা নিজে কিন্তু এই মুহূর্তে এতটা আত্মবিশ্বসী হতে পারছেন না
। কারন তিনি নিশ্চিত নন ভ্যাকসিনটি মোটাদের ক্ষতি করবে কি না। আবার কিমদের বিরূদ্ধে সমালোচনাও শুরূ হয়েছে যথেষ্ট। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষক স্টিফেন ব্লুম বলেছেন, "নিঃসন্ধেহে কাজটি উৎসাহজনক। কিন্তুইঁদুরের জন্য যা ভালো মানুষেরজন্য তা কতটা ফলপ্রসূ তা খতিয়ে দেখতে হবে"।
এই প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের খবরে সবচেয়ে উত্তেজিত (বাঁচাওওও) ঔষধ প্রস্তুতকারক কোম্পানীগুলো। তারা দ্রূত এই ভ্যাকসিন বাজারে এনে মানুষের দোড়গোঁড়ায় পৌঁছে দিতে চাইছে। আর ভ্যাকসিনটির জন্য অপেক্ষায় আছে আমর মত হাজার হাজার মুটোরাও
।
সূত্রঃ
!@!6251
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৭:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




