১.
কয়েকদিন আগে সাবান আর হ্যান্ডওয়াশ কিনতে গেছিলাম। লাইফবয় যেহেতু ব্যবহার করা হয়, সেটাই দিতে বললাম দোকানদার ভাইকে, সাথে লাইফবয়ের হ্যান্ডওয়াশ রিফিলও। ১০০ গ্রামের এই সাবান আর হ্যান্ডওয়াশ রিফিলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এই কর্পেোরেট প্রতিষ্ঠানটি। আগে সাবানের দাম ছিল ৩০ টাকা, এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩২ টকায়। হ্যান্ডওয়াশ রিফিল আগে বিক্রি হতো ৫৫ টাকায়, এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টকায়। দোকানিকে বললাম, ভাই দাম বেড়ে গেলো? সে জানালো, দুইদিন আগেও দাম ঠিক ছিল। করোনার প্রভাবে কোম্পনিগুলো এসব পণ্যের দাম বাড়ায় দিছে। অথচ এই দুইদিনে কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনে করোনার কোনো প্রভাব পড়ার কথা না। কেননা তখনো সেভাবে দেশে অবরুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। পণ্যের দাম বাড়ানোর মূল কারণ চাহিদা বৃদ্ধিও।
২.
মন খারাপ করে বাসায় ফিরলাম। সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি না হতেই নিত্য দ্রব্যাদির দাম বাড়ছে! সামনে কী হবে, এমন অনিশ্চয়তা নিয়ে ফেসবুকে প্রবেশ করে আমি থ! লাইফবয় করোনার সচেতনতা তৈরিতে প্রচারণা চালাচ্ছে। আমার টাইমলাইনে তাদের এমন একটি ভিডিও আসলো। প্রথম আলো আর বিডিনিউজের ওয়েবসাইটে নিউজ পড়তে গেলাম, সেখানেও লাইফবয়ের করোনা সচেতনতার বিজ্ঞাপন! টিভি খুলে ইউটিউব দেখতে বসলাম। সেখানে লাইফবয়, স্যাভলন এই কোম্পানিগুলোর জীবাণু ধ্বংসের বিজ্ঞাপন! এগুলো দেখে মনটা আরও খারাপ হয়ে গেলো। বিজ্ঞাপনে তারা টাকা খরচ করছে, মানুষকে জ্ঞান দিচ্ছে- হাত ধোয়ার, কিভাবে হাত ধুইতে হয় তা শেখাচ্ছে। উল্টাদিকে মানুওষের পকেট ফাঁকা করতে দাম বাড়ায় দিচ্ছে।
৩.
অনেক প্রতিষ্ঠানের খবরও দেখতে শুরু করলাম, কেউ হাসপাতাল বানাচ্ছে, কেউ সরকারকে পিপিই দিচ্ছে। এরকম পরিস্থিতির দিনকয়েক পর কিছু প্রতিবেদন রীতিমতো মন খারাপ করায় দিলো। অনাহারী মানুষদের আহাজারি, কান্নাজড়িত মুখ দেখে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। দেশের অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে দিনের রোজগারের ওপর নির্ভরেশীল মানুষদের হাহাকার বাড়ছে। কেননা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তারা। যারা ভিক্ষা করতেন, ফুটপাতে শুয়ে থাকতেন- তারা আরও অসহায় হয়ে গেছেন। দেশের সাধারণ মানুষ নানাভাবে তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসছেন, এমন খবরও দেখা গেলো। কিন্তু বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষকে সাহায্যের জন্যে, সেবা মান উন্নয়নের জন্য এগিয়ে এসেছে-এমন কোনো খবর দেখলাম না, কোনো ঘটনাও জানতে পেলাম না। অথচ ঠিকই এই দুঃসময়ে সাধারণ মানুষের পকেট ফাঁকা করে নিজেদের ব্যবসার পুঁজি ঠিকই বাড়িয়ে নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, প্রচলিত গণমাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে অনেক টাকা বিনিয়োগ করছে। মানুষকে সচেতন করা দরকার। এটা অবশ্যই ঠিক। কিন্তু এটা তো তাদের বৈপরীত্য আচরণ। সংকটে পণ্যের দাম বাড়িয়ে ‘মানুষকে সচেতন করার নামে ব্র্যান্ডিংয়ে’ অর্থ বিনিয়োগ।

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১০:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




