somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হতাশা কাটিয়ে উঠতে হয়.... নিজের জন্য জীবনের জন্য....

০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

...ও যখন চলে গিয়েছিল- বেশ অবাক হয়েছিলাম, বেশ...। এই পৃথিবীতে মানুষ এতটা সহজে বিশ্বাস ভেঙে দিতে পারে, যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। বুকের ভেতরটা পোড়তে লাগলো ভীষণ। দিনের পর দিন। মাসের পর মাস। নির্ঘুম রজনি কাটতে লাগলো। খাওয়া দাওয়া এক প্রকার বন্ধ। বাঁচার জন্য যেটুকু প্রয়োজন শুধু সেটুকুই চলছিল।

কথাবার্ত একপ্রকার পাক্কাই ছিল। আমরা পালিয়ে যাবো কোনোও এক অজানার উদ্দেশে। জানতাম সিদ্ধান্তটা অনেক কঠিন ছিল- তবুও নিয়ে ছিলাম। ভালোবেসে ছিলাম বলে। ভেবে ছিলাম, জীবনে যত কষ্টই হওক মেনে নিবো। যত বাঁধাই আসুক অতিক্রম করবো। তবুও বেঁচে থাকবে আমাদের ভালোবাসা। চির অমলিন অম্লান করে আমাদের ভালোবাসাকে আগলে রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ছিল হৃদয়জুড়ে....।

অবশেষে পারি নি। একদিন হঠাৎ করেই একটি ফোন এলো। খবরটা শুনার পর ফুটপাতের উপরই বসে পড়লাম। মনে হলো একটি সূচালো তীরের ফলা উড়ে এসে বুকের গভীরে বিঁধেছে আমার।

অঝর ধারায় জল গড়িয়ে পড়ছে আমার দু'চোখ দিয়ে। আগামী কাল সকালে ওর বিয়ে। কিভাবে কি হয়েছে তার কিছুই জানতে পারি নি আমি। সব কিছু ফেলে রাতের অন্ধকারে ছুটে গেলাম। যেভাবে হওক ওকে নিয়ে পালিয়ে যাবো।.....

সেদিন বৃষ্টি ছিল। ঝুম বৃষ্টি। আকাশে মেঘের গর্জন ছিল। একটা মাঝ-বয়সি সুপারি গাছ শিকড় থেকে আলগা হয়ে মেইন লাইনের তারের উপর হেলান দিয়ে পড়ে ছিল। দলাপাকানো ভারী আাঁধারে চারদিক ঢেকে ছিল।
সেই গাঢ় অন্ধকারের বুক ছিড়ে ছিড়ে হাঁটছিলাম আমি। একবুক আশা নিয়ে হাঁটছিলাম আমি।..

অজানা আশঙ্কায় বুকটা দুরু দুরু কাঁপছিল। চুপচুপে ভেজা শরীর নিয়ে কাদা-মাটির উপর দ্রুত পা ফেলে ফেলে হাঁটছিলাম।

বৃষ্টি থামছিল না কিছুতেই। থামছিল না আকাশে মেঘের গুড়ুম গুড়ুম গর্জনও। বাঁশঝাড়ের বাঁশগুলো একে অপরের উপর আচড়ে পড়ছিল। কড়ই আর রেন্ডি গাছের ভাঙ্গা ডালপালাগুলো এলোমেলোভাবে পড়েছিল।

কাছের কোনো বাড়ি থেকেই ভেসে আসছিল মরা-কান্না। এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে এই ঝড় আর ঝুম বৃষ্টির রাতে বিদায় নিয়েছিল হয়তো কেউ একজন।

পোড়া চোখ দুটো দিয়ে অনবরত জল গড়িয়ে পড়ছিল আমার। বানের জলের মতো ধেয়ে আসা নোনা-জল বৃষ্টিজলের সাথে মিলে মিশে একাকার।

কিছু একটা বিধে ডান পা-টা রক্তাক্ত হয়েছিল। হাঁটু দুটো ক্রমশ অবশ হয়ে আসছিল। সেই ঝড়ের রাতে, সেই ঝুম বৃষ্টির রাতে, জমাটবাধা গাঢ় অন্ধকারের বুক ছিড়ে ছিড়ে সবকিছু ধুমড়ে মুচড়ে ছুটে চল ছিলাম।

কিন্তু পারি নি....। আমি পারি নি। শূন্য হাতে আমাকে একাকীই আবার ফেরত আসতে হয়ে ছিল।..

তারপর তিনটি বছর কেটে গেল।.. একে একে তিনটি বছর।

একদিন ফোন এলো ওর। ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কাঁদছে শুধু। আমার কান্না আসছিলো না কিছুতেই। অথচ ওর বিয়ের পর প্রায় মাস ছয়েক এক প্রকার অচেতনই ছিলাম।....

সেদিন কান্না আসছিল না কিছুতেই আমার। কেন না ততোদিনে দু:খ আর হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি।

... জানতে চাইলাম, কেমন আছ?

কান্না ভেজা কণ্ঠে বলল- ও ভালো নেই। একদম ভালো নেই।

আমি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম।.... হাড় কাঁপানো গভীর এক দীর্ঘশ্বাস।.....

....ওর বিয়ে হবার পরের তিনটি বছর আমি কায় মনে চেয়েছিলাম ও ভালো থাকুক। নামাজের পর মহান আল্লাহ তালার কাছে দোয়া করেছি- ও ভালো থাকুক। ভালোবাসার মানুষটি ভালো থাকবে- এর চেয়ে আনন্দের এর চেয়ে ভালো লাগার আর কি হতে পারে আর?....

কিন্তু কেন যেন ও ভালো ছিল না। সে কথা বিধাতাই ভালো বলতে পারবেন। কথায় আছে ‌"মন ভাঙ্গা আর মসজিদ ভাঙ্গা সমান অপরাধ"- হয়তো সে অপরাধে অপরাধী ছিল ও বিধাতার কাছে।

আমি সারাক্ষণ মনমরা হয়ে বসে থাকতাম- আর ভাবতাম। এই পৃথিবীতে কি করে পারে মাুনষ!! রমনা কিংবা সোহরাওয়ার্দীর নরম দুর্বা ঘাসের উপর শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। দুচোখের কোণ বেয়ে তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে কানের লতি বেয়ে ঘাসের উপর পড়তো শুধু। পাখি হয়ে ওড়ে যেতে ইচ্ছে হতো কখনও কখনও...।

আমাদের সেই জোছনা রাতগুলোই বেশি পীড়া দিতো.... বাঁধানো পুকুর ঘাটে বসে গল্প করতে করতে রাত শেষ হয়ে কখন যে ভোর চলে আসতো- টেরই পেতাম না একদম। হায় স্মৃতি......

আসলে হঠাৎ পাওয়া যে কোনেও আঘাতই সামলে নেয়া কষ্টকর। আমার বাবা তার এক বন্ধু পরামর্শে আমাকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট এ নিয়ে গিয়ে ছিলেন। ওষুধ পত্র খেলাম কিছু দিন। গাদা গাদা ঘুমের ওষুধ আরকি...।

আমি তখন অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। টি এস সি তে সাইকো থেরাপি নিতে গেলে ক্লিনিক্যাল সাইকোলোজি ডিপার্টমেন্ট এর এক আপু আমার কথা শুনে নিজেই কেঁদে ফেললেন। বেচারি একটা। হা হা হা।

.....সবার ধারণা ছিল আমি সুইসাইড করবো। কিন্তু না। সবার ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমি। নিজের সাথে নিজে লড়েছি। নিজেকে নিজে বুঝিয়েছি। কেউ একজন যদি আমাকে ছাড়া সুখি হতে পারে তবে হওক। তাতে দোষের কি! আমিও নিজেকে নিয়েই নিজে সুখি হবো একদিন.....

কিন্তু কষ্টটা তখন লেগেছে বেশি, যখন জানতে পারলাম ও সুখে নেই। ওর চোখের কোণে জল জমা থাকে সবসময়। ওকে সাপোর্ট দিলাম। মানসিক সাপোর্ট। যেটা খুব বেশি প্রয়োজন ছিল সে সময়। কেন না ও তখন ফুট ফুটে একটা কণ্যা সন্তানের মা।.....

সুখে না থাকুক। অন্তত ওর সংসারটা টিকে আছে এখনও। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিই বা হতে পারে আমার জন্য!!....

শেষ কথা: ঘুরে দাঁড়াও। বাঁচতে শিখো।...











সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ৩:০৩
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×