....আমার বউ আমাকে প্রায়ই বলে, ছোট্ট একটা জীবনে এতো টাকা দিয়ে কী হবে? এ বয়সে আমি এত লোড নিচ্ছি কেন? কেন আমি আমার নিজের প্রতি কোনো খেয়াল নিচ্ছি না? কেন সকালের নাস্তা খাবার কথা আমার মনে থাকে না? কেন দুপুরের খাবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে খাই। কেন রাত ১টা দেড়টায় বাসায় ফিরি? কেন ভোর সাতটা আটটায় তাদেরকে ঘুমে রেখেই বের হয়ে ফ্যাক্টরিতে যাই? কেন সকালে গোসল করলে দেরি হয়ে যাবে বলে, প্রায়ই রাতে গোসল সেরে রাখি। কেন ঈদের দিনও আমি ফ্যাক্টরি ভিজিট করি। কেন হরতাল অবরোধ কোনো কিছুই আমাকে আটকাতে পারে না। ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি তাকে ১৯৯৩ সালের একটা গল্প শুনাই।
৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে গিয়েছি। দুপুরে আমার বন্ধুরা হোটেলে বসে ভাত খাচ্ছে, আমি চেয়ে চেয়ে তা দেখেছি। প্রচণ্ড ক্ষুধায় চোখে জ্বল চলে এসেছিল, কিন্তু টাকার অভাবে 'ভাত' খেতে পারি নি। হোটেলেরে দরজা পর্যন্ত গিয়ে ফিরে এসেছি। কেউ কাছে ডেকে বলে নি, আয় তুইও আমাদের সাথে খা। বলেনি কেউ।...
পঞ্চাশ পয়সা বাস ভাড়া মারার জন্য কতো তালবাহানা করেছি এই জীবনে। কতো...। কন্ডাক্টর এর চোখ এড়াবার জন্য একবার বাসের এই মাথায়, আরেকবার ঐ মাথায় গিয়েছি।...
আমার বাবা সঠিক সময়ে বাড়ি ভাড়া দিতে পারেন নি বলে, বাড়ি ওয়ালা বলেছিলেন, "এইভাবে আর কতো দিন...। এইভাবে তো আর চলে না ভাই...।"
....আমার জন্মের সময়কার কথা শুনাই তাকে, ঠিক মতো মায়ের বুকের দুধ পেতাম না বলে। স্বল্প দামে আধাপোয়া করে ছাগলের দুধ রোজ করা হয়েছিল। মাস শেষে সেই টাকা দিতে পারে নি বলে। একসময় দুধ বন্ধ হয়ে যায় আমার জন্য।....
........আর আজ, প্রায় হাজার খানেক পরিবারের 'ভাতে'র ব্যবস্থা আমার বাবা করেছেন।
আমার জন্য রয়েছে আলাদা গাড়ি ও ড্রাইভার। বাবার জন্য আলাদা গাড়ি ও ড্রাইভার।
বাংলাদেশ ব্যাংকে ডলারের যে রিজার্ভ রয়েছে, তাতে সামান্য অবদান আমাদের বাপ-ছেলেরও রয়েছে।..... অভাবের জ্বালা আমি বুঝি। অর্থ না থাকলে কিভাবে অপমানিত আর অপদস্ত হতে হয় তা আমি জানি।
......একদিন যাদের কাছে আমরা ছিলাম অসামাজিক ও মূল্যহীন, আজ তারা দেখলে সালাম ঠুকে। কদর করে।......
আমার কথা শুনে সে কেঁদে ফেলে। অঝোর ধারায় কাঁদে সে।...
জানালার গ্রিল ধরে আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি। আমার চোখ জোড়াও ভিজে উঠে তারপর...।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





