এই নিখিল রজনী একলা আমার,
গোধূলির ঐ দূর আকাশের শশী তারা সবই যেন আমার,
দ্বী-প্রহর রজনীতে এই অন্ধকার গলির সরকার যেন শুধুই আমি,
ঐ ল্যামপোষ্টের শ্যাঁওলাবৃত খুটিগুলো আমার নিকট আত্মীয়।
সীমান্তের ঐ আবছা আলোর বাতিগুলো আমার অতি আপনজন,
নিঝুম রাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন আধাঁর পৃথিবীর চোখ ফাকি দিয়ে
ওরা আমায় সঙ্গ দেয়, সঙ্গ দেয় রাতভর।
সোডিয়ামের আলোয় নিজেকে তখন আর একলা মনে হয়না।
ওরা আমার বন্ধু বটে !
জগৎ মাতা আজ মাতাল ঘুমে বিভোর,
তার সমস্ত আস্তা এই প্রহরী।
আর আমি প্রহরীর স্মৃতির ক্যানভাসে অনাহারি ঐ কুকুরটি,
ফেলানিকে বাঁচাতে গিয়ে তার আর ফেরা হয়নি সেদিন।
চিরতরে ডুবে গেছে নয়নের দীপ্ত রবি।
কুকুরটিই ছিল প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধা,
মৃত্যু উপত্যাকায় এমন অজস্র যুদ্ধার মেলেনি সার্টিফিকেট,
অথচ ঐ প্লাটোনিক সত্তার দাপনে কুকুর স্বভাবে মানব মুখোশে
অনেকেই নিচ্ছে জাল দলিলের সুবিধা।
হৃদয় হাঁসফাঁস করে কলিজার প্রতিটি পরতে পরতে চিড়চিড় করে উঠে
না জানি কুকুরটির ন্যায় অগোচরে মরে পচে মাটি হতে হয় !
ঐ নান্দনিক ইমারাত আমাকে রাস্তায় ঠেলে দিয়েছে,
আপন রক্ত বেঈমানী করেছে,
তবে জগত মাতার আস্তা শুধুই আমি।
এই গভীর জঙ্গল আমাকে ঠাই দিয়েছে,
দিয়েছে অফুরন্ত ভালোবাসা।
তার কোমল বক্ষের পরশে আজ ফেলছি স্বস্তির নিঃশ্বাস।
তাই সশ্রদ্ধভরে নিরাপত্তার দূত হয়ে,
শত্রুর কামানের সম্মুখে
এই নিশি গভীরে রই সদা প্রস্তুত,
বুকের তজা রক্ত ঢেলে লিখে দিতে
"হে ঘুমন্ত জগৎ মাতা আমি তোমায় ভালোবাসি"।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৬ রাত ৯:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




