somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাগো গো ভগিনী

৩১ শে মার্চ, ২০১২ সকাল ৭:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক ইচ্ছা ছিল বিশ্ব নারী দিবসে এই লেখাটা দিবো । কিন্তু সময়ের অভাবে লিখতে পারিনি। যাই হোক বিশ্বের সকল শ্রেণী , পেশা আর ধর্মের সব নারীর প্রতি আমার সালাম আর সশ্রদ্ধ ভালবাসা দিয়ে শুরু করছি।
“নারী” শব্দটার মাঝেই রয়েছে এর গুঢ়তত্ত্ব । নারী একাধারে মা, মেয়ে, কন্যা , বোন আরও অনেক কিছু। আবার অবস্থান ভেদে তার ভুমিকাও আলাদা- প্রতিটি ভুমিকা অনন্য ,অসাধারন কোনটিকে ছোট করে দেখার উপায় নেই। নারী মমতাময়ী মা, দায়িত্বশিলা বোন আবার আদরের কন্যা। কিন্তু দুঃখের বিষয় অনেক নারীই নিজের মর্যাদা অনুধাবন করতে না পেরে সমাজ বা পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রভাবে বা চাপে এমনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করে বা বলা ভাল করতে বাধ্য হয় যাতে তার যে শুধু মর্যাদাহানি হয় তাই নয় সে নিজেও তার ভুমিকা সম্পর্কে সন্ধিহান হয়ে পড়ে।
বিশ্বের অন্যতম উন্নত পশ্চিমা একটি দেশের একটি ছোট্ট পরিসংখ্যান বলি যেখানে প্রতি মিনিটে তিন জন নারী ধর্ষণ এর শিকার আর এদের মধ্যে টিনএজ মেয়েরা অন্যতম। কিন্তু এগুলো তাদের মিডিয়া বা পত্রিকাতে প্রকাশ হয় না। কারন যারা বিশ্ব পরিচালনা করে, যারা নারীদের পূর্ণ অধিকার দাতা(!) তারা তাদের ভিতরের ফাঁপা অংশটা দেখাবে কেন? আরও একটি মজার বেপার হল এই সব দেশে বিবাহ আর তালাকের হার সমান । মানে যারাও বা বিবাহ করে তাদের বিয়ে টেকে না বেশিদিন। সে কথায় পরে আসি। নারীদের পূর্ণ অধিকার দেবার নামে এই সব দেশে যা প্রচলিত বা যে আইন তাদের সমাজ করে রেখেছে তার কিছু চিত্র নিচে তুলে ধরছি –
১) এই সব দেশে নারীদের পুরুষের সমান অধিকার দেয়া হয়। আপাত দৃষ্টিতে এটাকে ভালই মনে হয়। কেননা একজন নারী হিসেবে আমারও একই দাবি। কিন্তু এটা করতে গিয়ে সমাজ এক অজানা বোঝা এক নারীর ঘাড়ে চাপিয়ে দেয় আর তা হল তাকে কর্মক্ষেত্রেও পুরুষের পাশাপাশি সমান যোগ্যতা দেখাতে হবে – তবেই না হবে সমঅধিকার !! যার ফলশ্রুতিতে একজন নারী একাধারে স্ত্রী , মা , কর্মজীবী হিসেবে তার ভুমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়ে প্রথম দুটি ভুমিকাকে মূল্যহীন মনে করে কারন এর সাথে তার ব্যাক্তি জীবন জরিত কিন্তু তৃতীয় টিকে সে অবহেলা করতে পারে না কারন এটা তার সামাজিক জীবনের সাথে জরিত। যার ফলে ভাঙছে সংসার --- আর দায়িত্ব এরাতে অনেকেই আবার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ায়।
২) সমাজ তথাকথিত ফ্যাশান এর নামে নারীর সৌন্দর্য প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে তাকে কিছু বাধাধরা পোশাক দিয়েছে। এগুলোর আবার সুন্দর নাম আছে comfortable, modern, civilized dress. তাই সামারে রাস্তায় বের হলে বোঝা যায় এই civilized ড্রেস তাদের কোন প্রস্তর যুগে নিয়ে গেসে!
৩) এখানে প্যারেন্ট অনেক প্রকার বা বলা ভাল অনেক ভাবেই প্যারেন্ট হওয়া যায়। এটা আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি । বাচ্চাকে স্কুলে দিতে গেলে যে ফর্ম পুরন করতে হয় তাতে আমি married option টা খুজে পাইনি। যারা স্বাভাবিক ভাবে বাবা বা মা (?) তাদের কে life partner option টা দিতে হয়। আরও অনেক বাবা মার অপশন ছিল – registered parent, grand parent .... । মানে হল প্যারেন্ট হবার জন্য বিয়ে করাটা জরুরী নয়। বিয়ে বহির্ভূত আরও নানা প্রকারে প্যারেন্ট হওয়া যায় যা এই দেশীয় আইন এগুলোর বৈধতা দিয়েছে বিভিন্ন নামে।
৪) পর্ণগ্রাফি এদেশে একটি বৈধ ব্যবসা। ফলে নারী/ পুরুষ তাদের দেহ প্রদর্শন ও অন্যান্য যৌন অপকর্মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে। যে পেশায় কোন মেধার প্রয়োজন নেই খালি দেহ বিক্রি করে আয় হয় ফলে অনেকেই আয়ের সহজ উপায় হিসেবে এই অন্ধকার জীবনকে বেছে নেয়। আর এই পেশার মূল আয়টা আসে নারী দেহ ব্যবসা থেকে। সবচেয়ে মজার বেপার হল এগুলোকে তারা অন্যায় বলে না কারন এগুলো নাকি হিউম্যান রাইটস !! এরই পথ ধরে আসে ড্রাগ addiction , উস্রিঙ্খলতা ------ অবশেষে frustration.
যাই হোক এই সব উদাহরন দিতে গেলে লিখে শেষ করা যাবে না । তবে আমার এই তথ্যগুলো দেবার পিছনে একটা কারন আছে । আমাদের মত গরীব দেশগুলো - যাদের কাছে পশ্চিমা দেশ হল স্বর্গরাজ্য তাদের সব অনুসরন করব জীবনের আদর্শ মনে করে- সেই তাদের কাছেই এর প্রকিত চিত্র তুলে ধরার প্রয়াশে আমার এই লেখা। শুধু সাধারণ মানুষ কেন আমাদের দেশের দেশ পরিচালক শাসক গোষ্ঠী, সমাজের বড় বড় লেখক, সাহিত্যিক সবারই যেন এক অজানা প্রচারনা পশ্চিমা দেশ গুলোর অন্ধ অনুসরন করতে পারলেই আমরা জাতি হিসেবে উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে পারবো । তাই অনেকেই যারা আমরা জাফর ইকবাল স্যার , শাহরিয়ার কবিরের মত সমাজ সংস্কারকদের অন্ধ অনুসরন করি তাদেরও জানা দরকার তারাও কিন্তু আমার বর্ণনায় যে পশ্চিমাদের কথা বললাম তাদেরই অন্ধ অনুকরন করেন বিশেষত নারীদের ব্যাপারে – তাদের চিন্তা চেতনায়, লেখায় আর কর্মে এমন ভাবই ফুটে উঠে।
এরই পথ ধরে এখন দেশের বিভিন্ন চ্যানেলে হচ্ছে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা যা কিনা চলছে মাল্টিন্যাশনাল বিভিন্ন কোম্পানির স্পন্সরে। কয়েকদিন আগে শুনলাম “মিস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ” নামে এক প্রতিযোগীতার কথা। এ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে অনেক লেখাও পরলাম। যাই হোক সৌন্দর্য প্রতিযোগীতায় এখন আর কেও পিছিয়ে নেই – শিক্ষিত, অশিক্ষিত , অর্ধশিক্ষিত সবাই! এগুলোর মাধ্যমে একটি মেয়েকে বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে যে সৌন্দর্যই হল তার পুঁজি—আর অনেকেই ফলাফল বিবেচনা না করে আয় রোজগারের এক সহজ উপায় হিসেবেএ পথে আসতে আগ্রহী হয়(অনেক্ টা বিদেশের পর্ণগ্রাফির মত আয়ের সহজ উপায় হিসেবে )। আরও এক ধাপ এগিয়ে আছে বাংলাদেশের নাটক আজকাল অনেক নাটকেই লিভ টুগেদার কে খুব artistic ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয় । তার উপর ডিশ এর প্রভাব তো আছেই ।
যাই হোক এভাবে চলতে দিলে এমন একটা সময় হয়ত আসবে যখন পশ্চিমা দেশ গুলোর মত পরিবার গঠনের হার শুন্যের কোঠায় গিয়ে দাঁড়াবে , পর্ণ গ্রাফিকে সরকার বৈধতা দিতে বাধ্য হবে । কারন যে ভাবে এখনকার প্রজন্ম ব্রেইন ওয়াশড হচ্ছে তাতে এমন ভবিষ্যৎ বানী যে কেও চোখ বন্ধ করে দিতে পারে। সুতরাং আদর্শ তাকেই মানতে হবে যার বর্তমান ফলাফলও ভাল আর যার ভবিষ্যৎ ফলাফল অন্তঃসারশূন্য নয় । আর এমন আদর্শই হল ইসলাম – যা কিনা অন্ধকার থেকে মানুষকে আলোর পথে নিয়ে আসে, যা হতাশা ছেয়ে যাওয়া যুবতীকে সাফল্যের পথ দেখায়। তাই আর কথা নয় জাগো গো ভগিনী – সত্য কে জানো , সত্য কে বোঝ আর অন্তরেও সত্যের লালন কর ।
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×