দুনিয়ার এই ছোট্ট জীবনে মানুষের নিরন্তর সংগ্রাম – শুধু ভালভাবে বেঁচে থাকার। যে দিকে তাকাই মনে হয় যেন এই দুনিয়ায় স্থায়িত্ত লাভের জন্য মানুষের হাহাকার । যার এক আছে সে দুই চায় , যার দুই সে চায় তিন এরপর...... এভাবে চলতেই থাকে। তাই জীবনও তাকে আরও পাবার জন্য লালায়িত করে তোলে , সারাজীবন তার পিছনে মানুষকে দৌড়ে নিয়ে বেড়ায়।
তবে আমার দেশের মত দরিদ্র দেশে এই সংগ্রাম নিজের বেসিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। যেখানে সরকার দরিদ্র জনগনের হাড়মাশ চোষার জন্য শকুনের মত ক্ষমতায় আসে আর নিরীহ ইঁদুর জনগোষ্ঠী এর থেকে বাঁচার জন্য , নিজের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য প্রতিনিয়ত যুদ্ধ চালিয়ে যায় – শকুন – ইঁদুর যুদ্ধ।
যেখানে চালের কেজি ৪০ টাকা, ডিমের হালি ৩৫ টাকা, লেবুর হালি ৩০ টাকা ...... সেখানে দ্রব্য মুল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে তাল রেখে মানুষের প্রানপন জীবন সংগ্রামটাও তাই বেঁচে থাকারই জন্য। পাশ্চাত্য দেশগুলো তে বাৎসরিক জিনিসের মুল্যমান বাড়ার হার কখনো ১%, কখনো ২% আবার কখনো ০%। অথচ ৪৮% দরিদ্র জনগোষ্ঠীর এই দেশে দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধির হার বছরে ১৪-১৫% । হায় দেশ! হায় জনতা! আর তাই অভাবে স্বভাব নষ্টের মত এই সাধারণ জনগোষ্ঠীর ন্যায় – অন্যায় বোধও অনেকটা নেই বললেই চলে। সততা, সত্যবাদিতা এখন অনেকটা শিকেয় তোলা শব্দ যার ব্যবহার সমাজের কোথাও চোখে পড়ে না ।
তবে উন্নত দেশগুলো আবার এদিক থেকে ভালো। পরিবার, মা বাবা না দেখলেও সে দেশে খোদার আসনে বসা শাসকগোষ্ঠী তাদের দেখাশুনা করে। সুতরাং কষ্ট করে একবার এমন দেশে জন্ম নিলেই হল ব্যস চিন্তা নেই - সব দায়ভার সরকারের। আর তাই এমন দেশে অভাবে স্বভাব নষ্টের অবকাশ নেই কারন যার যা পাওনা তার থেকে বেশী পাইয়ে দেয় সরকার। বৃদ্ধ বয়সে সেবিকা সহ চিকিৎসা ব্যবস্থা করে সরকার। আবার বেকারদের নিয়ে কোন পরিবারকে ভুগতে হয় না – তাকেও সরকারই দেখাশোনা করে।
আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য আসলে পাশ্চাত্য আর আমার দেশের পার্থক্য বয়ান করা নয়। সেই মূল কথাতেই আসি। এই দুই জায়গার একটা মিল আসে তা হল – সবাই ব্যস্ত দুনিয়া নিয়ে। যদিও বা ধরনে আছে ভিন্নতা। উন্নত দেশে যেখানে সরকার নাগরিকদের কে সবরকম সুবিধা দেয় তারপরও জীবন এত বেশী complicated আর সিস্টেমটাও এমন যে দিনের ২৪টা ঘণ্টাই ব্যয় হয় পার্থিব চাহিদা পূরণ করতে করতে। মাঝে মাঝে দিনে ২৪ ঘণ্টা আর বছরে ৩৬৫ দিনও যেন কম মনে হয় ... কাজের এক infinity loop এর আবর্তে মানুষ ঘুরতে থাকে। যার কোন শেষ নেই। আবার দরিদ্র দেশ বাংলাদেশের সিস্টেমের সার্বিক অব্যবস্থার কারনে সামান্য কাজ করতে লেগে যায় সারাদিন ... traffic jam, loadshedding, সরকারি অব্যবস্থা সব মিলিয়ে জন ভোগান্তি চুরান্ত। কিন্তু মজার বেপার হল দুই দেশের কাজের ফলাফল একই । ২৪ ঘণ্টা দুনিয়ার পিছনে দিয়ে যাও – যার ফলশ্রুতিতে দুনিয়াও মানুষের পিছা ছাড়ে না।
আমাদের ব্রেইন টা হল অনেকটা কম্পিউটার এর সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট এর মত – দুই ইনপুট ডেভাইস চোখ আর কান দিয়ে সে যা শুনে বা দেখে তাকেই সে প্রসেস করে। তাই যেখানেই থাকি না কেন কোন ভাবেই আমাদের ব্রেইন এমন কোন ইনপুট পায় না যাতে মনে হয় যে এই দুনিয়াটা অস্থায়ী – মানুষের অবস্থান এখানে visitor এর মত। অনন্ত পথের যাত্রীর সাময়িকভাবে থাকার জায়গা। পুঁজিবাদ তথা ধনতন্ত্র আর সমাজতন্ত্র - এগুলোর মূলমন্ত্রই ছিল মানুষকে দুনিয়া নিয়ে পুরদমে ব্যস্ত রাখা। এদিক থেকে এই সিস্টেম গুলোকে একরকম সফলই বলা চলে। মানুষের জীবনের complicacy এমন পরিমানে বেড়ে যাবে যে মানুষ এক জোয়াল টানা গরুর মত মাথা নিচু করে তার সমস্যা সমাধান করবে আবার এক নতুন সমস্যা তার সামনে এসে দাঁড়াবে – এ যেন এক চক্র যার শুরু জন্মলগ্ন থেকে আর শেষ হল মৃত্যতে।
যে জীবনের জন্য আমরা ২৪ ঘণ্টাই ব্যস্ত সেই জীবনের মুল্যমান কত টুকু? আখিরাত হল অনন্তকাল (infinity) আর এই দুনিয়ায় যদি কেও ১০০ বছরও বাঁচে তাহলে দুনিয়ার জীবনের মূল্যমান দাঁড়ায় ১০০/ infinity = 0। তাই বলে কি দুনিয়ার জন্য মানুষ একেবারেই সময় দিবে না – আসলে তা নয় ঠিক ততটুকুই দিবে যতটুকু প্রয়োজন। এই জীবনের জন্য আমাদের যত হাহুতাশ তার থেকে বেশী চিন্তা হওয়া দরকার ছিল চিরস্থায়ী জীবনের জন্য। যে জীবন অনন্ত কালের সেখানে কি করে ভালো থাকা যায় সেই চিন্তা হয়াটাই তো বুদ্ধিমানের কাজ – তাই নয় কি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



