somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আখিরাতহীন বাস্তবতা

১৫ ই মে, ২০১২ দুপুর ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুনিয়ার এই ছোট্ট জীবনে মানুষের নিরন্তর সংগ্রাম – শুধু ভালভাবে বেঁচে থাকার। যে দিকে তাকাই মনে হয় যেন এই দুনিয়ায় স্থায়িত্ত লাভের জন্য মানুষের হাহাকার । যার এক আছে সে দুই চায় , যার দুই সে চায় তিন এরপর...... এভাবে চলতেই থাকে। তাই জীবনও তাকে আরও পাবার জন্য লালায়িত করে তোলে , সারাজীবন তার পিছনে মানুষকে দৌড়ে নিয়ে বেড়ায়।
তবে আমার দেশের মত দরিদ্র দেশে এই সংগ্রাম নিজের বেসিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। যেখানে সরকার দরিদ্র জনগনের হাড়মাশ চোষার জন্য শকুনের মত ক্ষমতায় আসে আর নিরীহ ইঁদুর জনগোষ্ঠী এর থেকে বাঁচার জন্য , নিজের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য প্রতিনিয়ত যুদ্ধ চালিয়ে যায় – শকুন – ইঁদুর যুদ্ধ।
যেখানে চালের কেজি ৪০ টাকা, ডিমের হালি ৩৫ টাকা, লেবুর হালি ৩০ টাকা ...... সেখানে দ্রব্য মুল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে তাল রেখে মানুষের প্রানপন জীবন সংগ্রামটাও তাই বেঁচে থাকারই জন্য। পাশ্চাত্য দেশগুলো তে বাৎসরিক জিনিসের মুল্যমান বাড়ার হার কখনো ১%, কখনো ২% আবার কখনো ০%। অথচ ৪৮% দরিদ্র জনগোষ্ঠীর এই দেশে দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধির হার বছরে ১৪-১৫% । হায় দেশ! হায় জনতা! আর তাই অভাবে স্বভাব নষ্টের মত এই সাধারণ জনগোষ্ঠীর ন্যায় – অন্যায় বোধও অনেকটা নেই বললেই চলে। সততা, সত্যবাদিতা এখন অনেকটা শিকেয় তোলা শব্দ যার ব্যবহার সমাজের কোথাও চোখে পড়ে না ।
তবে উন্নত দেশগুলো আবার এদিক থেকে ভালো। পরিবার, মা বাবা না দেখলেও সে দেশে খোদার আসনে বসা শাসকগোষ্ঠী তাদের দেখাশুনা করে। সুতরাং কষ্ট করে একবার এমন দেশে জন্ম নিলেই হল ব্যস চিন্তা নেই - সব দায়ভার সরকারের। আর তাই এমন দেশে অভাবে স্বভাব নষ্টের অবকাশ নেই কারন যার যা পাওনা তার থেকে বেশী পাইয়ে দেয় সরকার। বৃদ্ধ বয়সে সেবিকা সহ চিকিৎসা ব্যবস্থা করে সরকার। আবার বেকারদের নিয়ে কোন পরিবারকে ভুগতে হয় না – তাকেও সরকারই দেখাশোনা করে।
আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য আসলে পাশ্চাত্য আর আমার দেশের পার্থক্য বয়ান করা নয়। সেই মূল কথাতেই আসি। এই দুই জায়গার একটা মিল আসে তা হল – সবাই ব্যস্ত দুনিয়া নিয়ে। যদিও বা ধরনে আছে ভিন্নতা। উন্নত দেশে যেখানে সরকার নাগরিকদের কে সবরকম সুবিধা দেয় তারপরও জীবন এত বেশী complicated আর সিস্টেমটাও এমন যে দিনের ২৪টা ঘণ্টাই ব্যয় হয় পার্থিব চাহিদা পূরণ করতে করতে। মাঝে মাঝে দিনে ২৪ ঘণ্টা আর বছরে ৩৬৫ দিনও যেন কম মনে হয় ... কাজের এক infinity loop এর আবর্তে মানুষ ঘুরতে থাকে। যার কোন শেষ নেই। আবার দরিদ্র দেশ বাংলাদেশের সিস্টেমের সার্বিক অব্যবস্থার কারনে সামান্য কাজ করতে লেগে যায় সারাদিন ... traffic jam, loadshedding, সরকারি অব্যবস্থা সব মিলিয়ে জন ভোগান্তি চুরান্ত। কিন্তু মজার বেপার হল দুই দেশের কাজের ফলাফল একই । ২৪ ঘণ্টা দুনিয়ার পিছনে দিয়ে যাও – যার ফলশ্রুতিতে দুনিয়াও মানুষের পিছা ছাড়ে না।
আমাদের ব্রেইন টা হল অনেকটা কম্পিউটার এর সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট এর মত – দুই ইনপুট ডেভাইস চোখ আর কান দিয়ে সে যা শুনে বা দেখে তাকেই সে প্রসেস করে। তাই যেখানেই থাকি না কেন কোন ভাবেই আমাদের ব্রেইন এমন কোন ইনপুট পায় না যাতে মনে হয় যে এই দুনিয়াটা অস্থায়ী – মানুষের অবস্থান এখানে visitor এর মত। অনন্ত পথের যাত্রীর সাময়িকভাবে থাকার জায়গা। পুঁজিবাদ তথা ধনতন্ত্র আর সমাজতন্ত্র - এগুলোর মূলমন্ত্রই ছিল মানুষকে দুনিয়া নিয়ে পুরদমে ব্যস্ত রাখা। এদিক থেকে এই সিস্টেম গুলোকে একরকম সফলই বলা চলে। মানুষের জীবনের complicacy এমন পরিমানে বেড়ে যাবে যে মানুষ এক জোয়াল টানা গরুর মত মাথা নিচু করে তার সমস্যা সমাধান করবে আবার এক নতুন সমস্যা তার সামনে এসে দাঁড়াবে – এ যেন এক চক্র যার শুরু জন্মলগ্ন থেকে আর শেষ হল মৃত্যতে।
যে জীবনের জন্য আমরা ২৪ ঘণ্টাই ব্যস্ত সেই জীবনের মুল্যমান কত টুকু? আখিরাত হল অনন্তকাল (infinity) আর এই দুনিয়ায় যদি কেও ১০০ বছরও বাঁচে তাহলে দুনিয়ার জীবনের মূল্যমান দাঁড়ায় ১০০/ infinity = 0। তাই বলে কি দুনিয়ার জন্য মানুষ একেবারেই সময় দিবে না – আসলে তা নয় ঠিক ততটুকুই দিবে যতটুকু প্রয়োজন। এই জীবনের জন্য আমাদের যত হাহুতাশ তার থেকে বেশী চিন্তা হওয়া দরকার ছিল চিরস্থায়ী জীবনের জন্য। যে জীবন অনন্ত কালের সেখানে কি করে ভালো থাকা যায় সেই চিন্তা হয়াটাই তো বুদ্ধিমানের কাজ – তাই নয় কি?
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×