somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ওমর সাহিত্যিক
যখনই নিজের সম্পর্কে কিছু লিখতে বা বলতে বলা হয় তখন চুপ মেরে যাই আমি। আসলে আমি যেটা জানি বা বুঝি সেটা হল, আমি খুব সাধারণ। কেয়ে , পড়ে জীবন চলাই আমার কাজ। তবে ঘুড়তে ভালোবাসি অসম্ভব। নির্জন জায়গা আমার অত্যন্ত প্রিয়।

আজকের বিশ্ব ও আগামীর পৃথিবী ( ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ)

০৯ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পৃথিবীতে যুগে যুগে একটা পরিবর্তন আসে । আকস্মিক এমন কিছু প্রাণি বা ভাইরাস বা অনুজীব আসে অথবা এমন কোন প্রাকৃতিক পরিবর্তন হয় যার কারনে বদলে যায় পৃথিবীর প্রাকৃতিক বৈচিত্র । আজ থেকে ৬ কোটি বছর পূর্বে পৃথিবীতে ছিল ডায়নোসর নামক এক প্রাণী। বিজ্ঞানীদের মতে তাদের অনেক প্রজাতিই ছিল কিন্তু বাকী সব হেরে গেল, শুধু টিকে গেল একটি প্রজাতি । আজকের যে পাখি দেখা যায় তা ডায়নোসরের একটি প্রজাতি ।
বাকী প্রজাতিগুলো কেন টিকতে পারেনি ? পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে টিকে থাকার জন্য যে প্রস্তুতি দরকার ছিল তা বাকী প্রজাতির ছিল না।
আজকের পৃথিবীতে আমরা মানুষ রাজত্ব করছি। আবার যদি এমন কোন প্রাকৃতিক পরিবর্তন আসে মানুষ কি টিকে থাকতে পারবে? এর উত্তরটা আসলে জানা নেই। কারন সেই পরিবর্তনের সাথে মানুষ যদি খাপ খাইয়ে নিতে পারে তবেই সে টিকে থাকতে পারবে। ডারউইনের একটি মতবাদ আছে, “যোগ্যতমের জয়” । ডারউইনের মতে, যে সমস্ত প্রকরণ বা ভেদ জীবের জীবন সংগ্রামের পক্ষে সহায়ক এবং পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনমূলক, তারাই কেবল বেঁচে থাকবে এবং তাদের বংশবৃদ্ধি ঘটবে । অন্যরা কালক্রমে পৃথিবী থেকে অবলুপ্ত হবে ।

ডায়নোসর তো বিলুপ্ত হল। ডায়নোসরের একটি প্রজাতি টিকে গেল। সেখান থেকে পাখি আসল। মানুষ ভুল বুঝবে , ডায়নোসর থেকে কিভাবে পাখি এল? আসলে ডাইনোসর থেকে পাখি বলতে বুঝায়, যে প্রজাতিটি বর্তমানে পাখি হিসেবে আছে তখনও সেটি পাখিই ছিল। হয়তো বর্তমানের পাখির মত না। প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদে বলা আছে, “পৃথিবীতে যে-কোনও দুটি জীব কখনই অবিকল একই রকমের হতে পারে না । অর্থাৎ জীবের মধ্যে কিছু না কিছু পার্থক্য বা ভেদ থাকবেই । ডারউইনের ধারণা অনুসারে ছোটো ছোটো ধারাবাহিক পরিবর্তনই হল নতুন প্রজাতির জীবের উত্পত্তির জন্য দায়ী ।“সেই ছোট ছোট পরিবর্তনের হাত ধরে আজকের পাখিদের এই বৈচিত্র । আমার কথা হল, যে টিকে থাকতে পেরেছিল সেই টিকে গেল। কেন সে টিকলো? কারন প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার মত ব্যবস্থা পাখির ছিল। কেমন সেটা ? পাখিদের দেহের দিকে তাকালে বুঝা যায় পালক আবৃত দেহ ও উড়তে পারার সক্ষমতা । অতীত রেকর্ড ঘাটলে দেখা যায়, হঠাত করে পৃথিবিতে এক সময় তুষার যুগ শুরু হয়। তখন পাখি আকৃতির ডায়নোসর পালকের কারনে আর স্থান বদল করতে পারার কারনে টিকে যায়। তারপর মিউটেশনের কারনে দেহের মধ্যে ছোট ছোট ধারাবাহিক পরিবর্তনের রুপ হল আজকের ৯ হাজার প্রজাতির পাখি।

মানুষের পরিবর্তনটাও ঠিক এমনই । আমি মানুষের পরিবর্তনের ইতিহাস বলব না। আমি বলতে চাচ্ছি , এমন পরিবর্তনের সূত্রপাত কি আবার ঘটতে পারে ? উত্তর – হুম পারে। মানুষসহ সকল প্রাণি , সকল অনুজীব সর্বদাই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে টিকে থাকার জন্য। এই টিকে থাকার লড়াইয়ে যে জয়ী হয় সেই টিকে থাকে। মানুষ এতকাল লড়াই করে এসেছে । আজও করছে। করোনা নামক ভাইরাসের সাথে । মানুষের পরিবর্তন হচ্ছে। সকল প্রাণির পরিবর্তন হচ্ছে। তবে সেগুলো আকস্মিক , হঠাত্ , দৈব পরিবর্তন । বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই রেডিয়েশনের কারণে, ট্রান্সক্রিপশন কিংবা কোষ বিভাজনের সময়ে রেপ্লিকেশনের ফলে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন হয়, জীব মারা যায়, বিকলাঙ্গ হয়। মাতৃ জননকোষে মিয়োসিস কোষ বিভাজনের সময় [প্রোফেজ-১] ক্রসিং ওভার ঘটে। অপত্য কোষের ক্রোমোসোমের কিছু অংশে জেনেটিক পরিবর্তন হয়। পরিবর্তনটা কীরকম হবে, আগে থেকে বলা সম্ভব না। কারণ এটি একটি দৈব পরিবর্তন। এই দৈব (এবং অপ্রত্যাশিত) পরিবর্তনটাই মিউটেশন। এই মিউটেশন ঘটছে H IV ভাইরাসে প্রতিনিয়ত । সেজন্য সেটা মানুষের নিয়ন্ত্রনের বাহিরে। একই রকম বিজ্ঞানিদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে কোভিড ১৯ কিছুটা মিটেটেড। আর যদি তেমনই হয় তবে পৃথিবীর জন্য তা হুমকি স্বরুপ। আমার এই লেখা পর্যন্ত পৃথিবিতে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখের বেশি । বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে বলেই দিয়েছে যাদের ইমিউনিটি ( রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ) বেশি তারাই কেবল বাঁচতে পারবে । লক্ষণীয় বিষয়ও কিন্তু তাই। বিশেষ করে যাদের বয়স বেশি বা যারা শারিরীকভাবে দুর্বল তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এই ভাইরাসে। ধ্বংশ হবে মানুষ। যে মানুষগুলো বেঁচে যাবে তারা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হবে । এই বেঁচে যাওয়া মানুষগুলোর জিন, ক্রোমোজম, DNA, RNA , বংশগতীয় উপাদান ও কোষীয় সকল বস্তু তুলনামূলক উন্নত হবে। কারন তারা জয়ী হয়েছেছিল একটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায় । পরবর্তীতে এই উন্নত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন মানুষগুলো থেকে যখন প্রজনন সম্পন্ন হবে তখন একটি নতুন ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ তৈরি হবে। এরাও Homo sapience গোত্রভুক্ত হবে। কিন্তু বিগত কিছুদিনের মানুষের থেকে কিছুটা পার্থক্য সৃষ্টি হবে। আর এভাবে যখন লক্ষ্য বছর পার হবে , আরও প্রতিকূল পরিবেশ পাড়ি দিবে মানুষ তখন ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী ও একটু ভিন্ন হিসেবে তারা রুপান্তরিত হবে। আর যদি কদাচিত প্রতিকূল পরিবেশের সাথে হেরে যায় তবে মানুষও বিলুপ্ত হবে । কিন্তু মানুষ এতটা দুর্বল না। তারা সব সময় শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে। এটাও প্রকৃতি থেকে সম্পন্ন হয়। আবার প্রকৃতি এতটাই শক্তিশালী ইচ্ছে করলে মানুষকে ধ্বংশও করে দিতে পারে। তখন হয়তো জিতে যাবে অন্য কেউ, অন্য কোন প্রজাতি। ধীরে ধীরে বিস্তার করবে সারা পৃথিবীতে । রাজত্ব করবে পুরো পৃথিবীময়। আর এটাই প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ ।

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:৪২
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গানটি প্রিয় রাজীব নূর ও কবি স্বপ্নের শঙ্খচিলকে উৎসর্গ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:০৬

আমার খুব প্রিয় একটি কবিতার সাথে ব্লগার স্বপ্নের শঙ্খচিলের কবিতা মিলিয়ে গানটি বুনেছি।
শোনার আমন্ত্রণ রইলো।
============================

এই জল ভালো লাগে;
বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কদমের পাপড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


এ আষাঢ়ের চোখ কেমন জানি-
চৈত্রের হাওয়ায় কদম নয় যেনো
আগুন- আগুন- তবু ভেজে যাচ্ছে-
শান্তি চুক্তির গন্ধ বাতাস-বাতাসে;
আনন্দময় আষাঢ়ে কাম ভাবনায়
শুধু মাটির বুক গড়ে- গড়ে আসে
জলকাঁদার শ্রেষ্ঠ হাসি অথচ বসন্ত
কান্না... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×