somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভৌতিক অভিজ্ঞতা-৪

২০ শে মার্চ, ২০১৪ বিকাল ৪:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ট্রেনটা বেশ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
বাংলাদেশের ট্রেন এত দ্রুত চলে জানা ছিলোনা।

সৈয়দপুর থেকে পোড়াদহ যাচ্ছি, সাথে সদ্য বিবাহিত বন্ধু ও তার নববধু, বন্ধুটি নিলফামারীতে চাকরি করে, তার বিশেষ অনুরোধে ঢাকা থেকে সরাসরি কুষ্টিয়া না গিয়ে প্রথমে নিলফামারী এসে পরে ট্রেনে করে যাওয়া মূল উদ্দেশ্য রাতে ট্রেন ভ্রমনের নির্মল আনন্দ উপভোগ।

আট নয় ঘন্টার জার্নি, প্রথম ঘন্টা সবাই মিলে গল্প করে কাটালাম, সময় যত গড়াচ্ছিল ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা কমে আসছিল, কাছাকাছি গন্তব্যের যাত্রী যে পরিমানে নেমে যাচ্ছে তার থেকে উঠছিল অনেক কম।

একটানা বসে থাকা কষ্টকর তাছাড়া ট্রেনের আসন গুলো খুব একটা আরামদায়ক নয়, হাটাহাটি করার জন্য উঠলাম।
ট্রেনের মধ্যে সামান্য আলো টিম টিম করে জ্বলছে , পায়ে হাটার যায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে মালামালের বস্তা রাখা, দুরের যাত্রীরা বেশিরভাগই ঘুমিয়ে পড়েছে।

অর্ধেক আসন খালি পড়ে আছে, জানালার পাশে একটা খালি আসন খুজতে লাগলাম, বাস কিংবা ট্রেন জার্নিতে সবচেয়ে আকাংখিত বস্ত হল জানালার পাশের আসনটি। তিন জনের বসার একটি আসন পুরা খালি তবে তার সামনের আসনটিতে কেউ একজন ঘুমাচ্ছে।
ঘুমাচ্ছে ঘুমাক, আমি গিয়ে বসে পরলাম জানালার পাশে তবে তার আগে বন্ধুকে বলে এলাম কোথায় আছি।

পাশে নতুন বউ বলে সম্ভবত একবার বলাতেই রাজি হয়ে গেল, না হলে কোন ভাবেই রাজি করা যেত না। হায়রে দুনিয়া বউ পাশে থাকলে বন্ধুকে আর মনে থাকে না।/:)

জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি, ট্রেনের খটকট আওয়াজ মনে হচ্ছে একটা ছন্দ পেয়ে গেছে, মাঝে মাঝে লম্বা হুইসেল সেই ছন্দে ব্যঘাত ঘটাচ্ছে, দিগন্ত বিস্তির্ন মাঠ হালকা ধোয়াটে হয়ে আছে কেমন যেন একটা পরাবাস্তব পরিবেশ। ট্রেনের স্পিকারে সুরা আর রহমান তেলওয়াত হচ্ছে, সব মিলিয়ে চমৎকার লাগছিল।

কোন এক স্টেশনে ট্রেনটা থেমে আছে এ সময় আমার সামনে শুয়ে থাকা লোকটা ধড়মড় করে উঠে বসে বলতে লাগল "কোন স্টেশনে আসলো ট্রেন হ্যা" ? আশে পাশে কেউ নেই শুতরাং আমাকেই উত্তর দিতে হবে, স্পিকারে অবশ্য বলেছে কোথায় থামতে যাচ্ছে আমি খেয়াল করি নি।

ভদ্রলোক একগাল হেসে বলল "এই পথে প্রথম যাচ্ছেন মনে হচ্ছে"?
আমি মাথা ঝাকালাম।
"ট্রেন এখন বগুড়ার শান্তাহার স্টেেশনে"
আমি শুধু বললাম "ও"।

ভদ্রলোকের বোধ হয় কথা বেশি বলার সমস্যা আছে-বলেই চলেছেন-

বুঝলেন ভাই সাহেব হিলি ক্রস করার সময় অন্যরকম একটা অনুভুতি হয়, নো ম্যানস ল্যান্ড দিয়ে ট্রেন চলে, দিনের বেলা হলে যদি হত সিমানা পিলার আর বি এস এফের ওয়াচ টাওয়ার দেখতে পেতেন।
ঈশ্বরদী স্টেশনে ভাপ ওঠা গরম পাওরুটি পাওয়া যায় সাগর কলা দিয়ে খাবেন মনে হবে বেহেস্তের খানা একেবারে।

আমি শুধু হ্যা হু বলে সাড়া দিয়ে যাচ্ছি, ভদ্রলোক কেন এই গরমের দিনে কোট পরে আছেন সেটা ভাবছি।

কথা বলাতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছি না বুঝতে পেরে থামলেন।

জানালা দিয়ে বাইরে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে আবার আমার দিকে ঘুরে ইতস্তত করতে লাগলেন।

বুঝলাম কথা না বলে থাকতে পারছেন না।

উৎসাহ দেবার সিদ্ধান্ত নিলাম, "প্রশ্ন করলাম কিছু বলবেন"?

চরম উৎসাহ নিয়ে কথা বলতে আরম্ভ করলেন " বাইরের পরিবেশটা দেখছেন, উত্তরান্চল ছাড়া এত বড় ফাঁকা মাঠ বাংলাদেশর কোথাও নেই, কলা গাছ গুলো কেমন ভূতের মত লাগছে দ্যাখেন দ্যাখেন, পাতা গুলো এমন ভাবে নাড়াচ্ছে মনে হয় কাছে ডাকছে।"

"ভাইসাহেব গল্প শুনবেন একটা, ভূতের গল্প"?

এই নিশুতি রাতে ভূতের গল্প! খারাপ লাগবেন।

হ্যা না কিছু বলার আগেই দেখি ভদ্রলোক গল্প শুরু করে দিয়েছেন :

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৪ বিকাল ৪:৫৮
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে” (দিনলিপি, ছবিব্লগ)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫


রোদের মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে....
ঢাকা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১২৩৩

"সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে" -- নিজ শিশুর মুখে একথা শুনে মানব শিশুর মায়েরা সাধারণতঃ কপট রাগত স্বরে এমন প্রতিক্রিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান নিজে কি পেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫


ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে — রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান আসলে কী পেল? ইরানের Shahed-136 ড্রোন ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি... ...বাকিটুকু পড়ুন

"মেলা সুন্দর হতো আমাদের শৈশবে, যখন বই ছিল স্বপ্নের প্রতিশব্দ" ~ বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলা ট্রিবিউনকে দেয়া আমার সাক্ষাৎকার

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৮



প্রশ্ন: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?

সাজিদ উল হক আবিরঃ গত বছরখানেক ধরে দুটো বইয়ের কাজ করছিলাম। একটা আমার দ্বিতীয় উপন্যাস, সরীসৃপতন্ত্র; দ্বিতীয়টি, মিলান কুণ্ডেরার উপন্যাস দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল্লাদ খামেনি বাঙ্গুদের কাছে হিরো

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১২



বাঙ্গুদের কাছে খামেনি হিরো কারণ সে ইউএসের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিল। কিন্তু বাঙ্গুরা কখনোই জানবেনা এই খামেনির ইরান ২০০৬ সালে তাদের এয়ারস্পেস আমেরিকার জন্য খুলে দেয় যাতে সাদ্দামের বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধ বিরোধী কবিতা: তোমরা বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো

লিখেছেন অর্ক, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪২



আর আমি ভীষণ দুঃখ পেলাম দেখে
দল বেধে বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো
কুয়াশাচ্ছন্ন বরফসাদা হিম রাত শীতের
তোমরা বিরাটকার কালো আলখাল্লা পরা
উলের ভারি দস্তানা ও মুজো হাতে পা’য়ে;
পাশবিক উল্লাসে শীর্ণকায় শিশু বিড়ালটিকে
কামড়ে আঁচড়েহাঁচড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×