somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামিহার জন্য প্রার্থনা

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ৮:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বন্ধু সম্পা। ওর প্রথম সন্তান সামিহা। সামিহা বড় হয়েছে, শাড়িও পরে। আর এই সামিহাকে নিয়ে সম্পার অনেক স্বপ্ন, অনেক গল্প, আকাশ ছোঁয়া আশা।
গত কয়েক মাস ধরে যেকোন আলাপের মাঝেই সম্পা ওর মেয়ের কথা বলত। বলত টেনশনের কথা। দোয়া চাইত। দোয়া চাইত স্বপ্ন পুরণের।
শুক্রবার সম্পা ফেসবুকে একটি পোষ্ট দেয়। ‘ আমার বড় মেয়ে সামিহা এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’ শুধু আমি নই, আরো অনেকে সামিহার জন্য দোয়া করেছে। কমেন্ট করেছেন। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।
পোস্টে সম্পা তার মেয়ের একটি ছবিও জুড়ে দিয়েছে। লাল শাড়ি পরা। চোখে তার দূর আকাশের স্বপ্ন।
কিন্তু হায়! একই দিনে কয়েকঘন্টা পর আরো একটি খবর এল অজ্ঞাত স্থান থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। আগে জানান হয়েছিল এসএসসি পরীক্ষার মধ্যেও ‘শান্তিপূর্ণ’ অবরোধ চলবে। এবার জানান হল রোববার থেকে ২০ দলের ৭২ ঘন্টার ‘শান্তিপূর্ণ’ হরতাল।
আমাকে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ফোন করল সম্পা। জানাল, হরতালের কথা শুনে ওর মেয়ে সামিহা কাঁদছে। কারণ সোমবার থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনটি ৭২ ঘন্টা হরতালের মধ্যেই পড়েছে। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, অবরোধের মধ্যেই এসএসসি পরীক্ষা চলবে। এবার কী হবে?
সম্পা বার বার জানতে চায়, হরতাল কী হবেই? পরীক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত কী কোন ছাড় দেবে না? না দিলে আমার মেয়ের কান্নাতো থামবে না।
আমি কোন জবাব দিতে পারিনি। শুধু বলেছি, দোয়া করি তোর সামিহার জন্য। প্রার্থনা করি এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সবার কান্না যেন থামে।
সোমবার থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বসার কথা ১৫ লাখ পরীক্ষার্থীর। আমি জানি সম্পার মেয়ের এই কান্না ১৫ লাখ শিুশুর কান্না। ওরা জানে না ওদের কী অপরাধ। ওরা কেন পরীক্ষা নিয়ে আতঙ্কে থাকবে? কেন ওদের পরীক্ষা নিয়ে থাকবে সংকট, কেনইবা ওদের জীবনে নেমে আসবে অনিশ্চয়তা?
জানি জবাব আসবে। টকশোতে কেউ কেউ নিরপেক্ষতার ভান করে যার যার দলের পক্ষে কৌশলে অবস্থান নেবেন। আর হরতাল যারা ডেকেছেন তারা ‘গণতন্ত্রের’ জন্য আরও একটু কষ্ট স্বীকার করতে বলবেন। হরতাল বিরোধীরা হুংকার ছাড়বেন। হরতালের দিন হরতাল বিরোধী মিছিলে রাজপথ কাঁপাবেন।
কিন্তু তাতে সম্পার মেয়ে সামিহার কী লাভ! কী উপকার হবে ১৫ লাখ পরীক্ষার্থীর! আর তাদের পরিবারের সদস্য, বাবা-মা কী বলে সন্তানকে বোঝাবেন।
২.
এই টানা অবরোধ-হরতাল আর বিপরীতে সরকারের কঠোর অবস্থান- এর মাঝখানে কারা? মাঝখানে সামিহার মত শিশুরা, বার্ন ইউনিটের ঝলসান মুখ, বোমায় দগ্ধ কঙ্কাল আর আমার মত সাধারণ মানুষ।
প্রাচীণ কালে রাজায় রাজায় যুদ্ধ হত। সম্মূখ সমরে সেনাপতিরা নিহত হতেন। সৈনিকরা সামনা-সামনি যুদ্ধ করতেন। হয় জয়, নয় মৃত্যু। সাধারণ প্রজারা থাকতেন যুদ্ধের বাইরে। নিরাপদ দূরত্বে। মসনদ দখলের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষকে সহিংসতার বলি হতে হত না।
প্রার্থনা করি সেই যুগ যেন আবার ফিরে আসে। প্রার্থনা করি সেই যুদ্ধ যেন আবার চালু হয়। তাহলে সামিহারা এর শিকার না হয়ে ‘যুদ্ধ’ উপভোগ করতে পারবে।
কেউ হয়তো আমাকে বলবেন , আপনি কী বর্বর মধ্যযুগে ফিরে যেতে চান? কেউ হয়তো বলবেন, গণতন্ত্র ছেড়ে রাজতন্ত্র! এতো পিছন দিকে হাঁটা। হয়তো তাই। তবে আমার জবাব, সেই যুগে শিশু সামিহারা কাঁদতনা। বার্ন ইউনিটে ট্রাকের হেলপার সালাহউদ্দিনের স্ত্রীর স্বপ্ন মমি হত না।
এ কেমন যুগ? যে যুগে মানুষ পোড়ে মন পোড়ে না! সামিহা কাঁদে তবুও কাঁদেনা বড় নেতার ‘বড়’ মন। প্রার্থনা করি এমন এক সময়ের যখন সামিহারা হাসবে আর তাঁরা কাঁদবেন। সামিহার লাল শাড়ি পরা দূর আকাশের স্বপ্ন ফিকে হবে না। সেটা যদি মধ্য যুগ হয়, আমি তা-ই চাই।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×