somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

না ফেরার দেশে চলে গেলেন কবি সাঈদ আখন্দ।

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৯:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সাঈদ আখন্দ (Sayeed Akhand) নব্বই দশকের কবি। দৈনিকের সাহিত্য পাতায় তার খুব একটা উপস্হিতি ছিলনা কিছুদিন ধরে, তবে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দৈনিকে একসময় তিনি সরব ছিলেন। তিনি ছিলেন নিভৃতচারী কবি ও সংগঠক।

আমি সাঈদ আখন্দের অনেক কবিতাই পড়েছি। তার কবিতায় দেশ-কাল, রাজনীতি, সমাজের বৈষম্য, মানবিক মূল্যবোধ, প্রেম ও দ্রোহ সমসাময়িকতায় স্হান পেয়েছে পরম্পরায়। সহজ, সরল, নিজস্ব এক কাব্যচেতনায় তিনি কবিতা লিখতে পছন্দ করতেন।

সাঈদ আখন্দের কবিতায় রয়েছে এমন এক চৌম্বক শক্তি যা পাঠককে আক্রান্ত করে আশ্চর্যরকম মোহাবিষ্টতায়। কবিতা যে শুধু শিল্পের জন্য শিল্প নয়- হ্বদয়ের ফল্গুধারায় স্বত:স্ফুর্ত স্ফুরণ, সমাজ বিনির্মাণের হাতিয়ার সে স্বাক্ষর রেখে গেছেন তার কবিতায়। তার কবিতায় উদ্ভাসিত হয়েছে শক্তিশালী কাব্যভাবনা ও স্বকীয় কাব্যচেতনার নিরন্তর প্রয়াসে। ইদানিংকার আধুনিক কবিতা যেখানে সাধারণ পাঠকের কাছে একধরনের ভীতি ও আতন্ক, সেখানে সাঈদ আখন্দের কাব্যভাষা যে কোনো পাঠককেই কবিতার দিকে নিয়ে যায়।

তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্হের মধ্যে রয়েছে-
বৃষ্টিধারায় রক্তের স্রোত (১৯৯৩)
প্রেমিক ও বিপ্লবী (২০০১)
পুড়ে যাই প্রেমে ও আগুনে (২০০৩)
বেঁচে আছি সন্তাপে-সম্ভোগে (২০০৫)
স্বপ্ন ভাসে রক্তজলে (২০১০)
জলের আগুনে জ্বলে পড়শীর মুখ (২০১৩)

কবিতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি 'জসীমউদ্‌দীন পুরস্কার ১৪০৩, দক্ষিণ বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি পদক-১৪০৬, কবি জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার-২০০১, খুলনা রাইটার্স ক্লাব পদক-২০০২-এ ভূষিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের কাব্যান্দোলনে তিনি সক্রিয় জড়িত ছিলেন।

তার সর্বশেষ ও ষষ্ঠ কাব্যগ্রন্হ 'জলের আগুনে জ্বলে পড়শীর মুখ' প্রকাশিত হবার পর একদিন ঢাকায় কাঁটাবনের কনকর্ড এম্পোরিয়ামের তার কার্যালয়ে আমাকে বইটি দিলেন। বইটি পড়তে পড়তে আমি অভিভূত হয়েছি। তার বইয়ের পোস্তানিতে আমাকে লিখে দিয়েছিলেন আমার প্রতি তার শুভ কামনাটুকু।

সাহিত্যের সহযাত্রী
হাসান ইকবাল
প্রিয়বরেষু
আমৃত্যু সুন্দরের সাথে থাকুন-
-সাঈদ আখন্দ
২০/০৯/২০১৩

আমি যতবারই তার কাছে যেতাম সদালাপী এই মানুষটি আমার লেখা কবিতার ব্যবচ্ছেদ করে দিতেন, ভুলগুলি ধরিয়ে দিতেন। হতো ঘন্টার পর ঘন্টা লেখালেখি নিয়ে আড্ডা।

সাঈদ আখন্দের জন্ম জামাল পুর জেলার সদর উপজোলার নান্দিয়ায়। বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক। তার দুই সন্তান রয়েছে অতন্দ্র ও অনন্ত। গত ১ জানুয়ারি ২০১৫ তিনি কমলাপুরে সাইকেলে চড়ে আসার সময় চলন্ত কাভার্ড ভ্যান জোড়ে ধাক্কা দিলে তিনি মৃত্যুবরন করেন।

তার মৃত্যুর খবরটা পেলাম আমি অনেক দেরীতে। তারপর কনকর্ড এম্পোরিয়ামে তার জন্য শোকবার্তা দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিলাম। অনেককেই ফোন করলাম, আমার মুঠোফোনে তার নাম্বারটির দিকে তাকালাম। আর কোনোদিন কথা হবেনা।

তার অকালে চলে যাওয়াতে তার পরিবারের সাথে আমরাও ব্যথিত। আমরা একজন সাহিত্যের সহযাত্রীকে হারালাম। অতন্দ্র ও অনন্ত হারালো তার প্রিয় বাবাকে।

হাসান ইকবাল
১০ জানুয়ারি ২০১৫,শনিবার।
শাহবাগ, ঢাকা।




সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৯:৪৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×