somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুসলমান ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রসঙ্গ

২৩ শে মে, ২০১৪ রাত ২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলামি বিশ্বে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে যে বিশ্ব পারিপার্শিক অবস্থার প্রেক্ষিতে ইসলাম ও মুসলমানদের বর্তমান পরিচয়টি কি হতে পারে?

এই ধরনের প্রশ্ন আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করে যখন দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ধমনিরপেক্ষ রাজনীতির সাথে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটানোর অপচেষ্টা করে। বাংলাদেশের মত দেশ যেটি মূলত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক আদর্শের ভিত্তিতে স্বাধীনতা অর্জন করে, সেই দেশেও সময়ে পরিবর্তনে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটানোর সকল ধরনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এটি সত্য যে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত তৎপরতা সহজেই সফলতার মুখ দেখবে না। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে নতুন করে জাতীয়তাবাদ ভর করা শুরু করেছে। যদিও স্বাধীনতার পর থেকে এই ধরনের জাতীয়তাবাদ সংক্রান্ত অনুভূতি রাজনৈতিক নেতাদের মনে দাগ কাঁটতে পারেনি।

এছাড়া ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এবং ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বাংলাদেশের নির্দিষ্ট একটি জনসংখ্যা মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে সেই শ্রেণীর মানুষ যারা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তারা এখন দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উঁকিঝুঁকি দেখে কিছুটা হলেও বিব্রতবোধ করছেন। এই ধরনের চ্যালেঞ্জর কারণে নতুন প্রজন্ম বিশেষ করে প্রগতিশীল মানুষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে বিশ্বের চতুর্থ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে আজ বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন উঠছে। সুতরাং বাংলাদেশের মুসলিম উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করাটা যৌক্তিক কি না তা ভেবে দেখতে হবে। এটি সত্য যে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলই ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করার চেষ্টা করেছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফলও হয়েছে। তাহলে কি বাংলাদেশে মুসলিম পরিচয়টি কি শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে?

মূলত সম্পর্কের ভিত্তিতেই মানুষের পরিচয়টি নির্ধারণ করা হয়। পরিচয়ের বিষয়টি আসলে সম্পর্ক ও খামখোয়ালীর উপর নির্ভর করে। তবে এটি অবশ্যই এই ব্যবস্থার জন্য নেতিবাচক। যেমন ধরেন, দাবা খেলার বিষয়টি। দাবা খেলাটি কিন্তু অন্যান্য খেলার চরিত্রের উপর নির্ভর করে। সুতরাং মনে রাখা উচিত প্রতিটি জিনিসই কিন্তু একে অন্যের সাথে জড়িত। এই মুহূর্তে এসে বাংলাদেশে মুসলিম সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে। কারণ বাংলাদেশের নির্দিষ্ট একটি অংশ চায় যে দেশের সামাজিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের মাঝখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ধর্ম। তাহলে প্রশ্ন হতে পারে একজন মানুষ যিনি নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ অথবা ধর্মীয় চেতনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান তাহলে তাদের কি হবে? তারা কি কখনো নিজেদের মুসলমান হিসেবে দাবি করতে পারবেন?

ইসলাম কি মুসলমানদের নিরপেক্ষ আদর্শ লালন করার অনুমতি দেয়? এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো উত্তর খুঁজে পাওয়াটা হয়ত কষ্টকর হতে পারে। তবে অনেকেই হয়ত এই ধরনের জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হবেন না অথবা বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাবেন।

কোনো কিছুর বিষয়ে বিস্তর আলোচনা করার আগে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ আদর্শ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মূলত ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির আদর্শ ধারণ করে। অন্য দিকে জামায়াত-ই-ইসলামীসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দলগুলো ধর্মের আদর্শকে রাজনীতিতে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে। পাশাপাশি বিএনপি জাতীয়তাবাদী এবং ধর্মীয় নিরপেক্ষতাবাদ রাজনীতির আদর্শে বিশ্বাসী। এটি সত্য যে রাজনৈতিক ফায়দা লুফে নেওয়ার জন্য দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ধর্ম ও নিরপেক্ষতবাদকে ব্যবহার করে। তবে এরশাদের জাতীয় পার্টি কোন আদর্শ লালন করে সেটি কিন্তু স্পষ্ট করে বলা যাবে না। তবে সব কিছু বিবেচনা করে বলা যায় দেশের মূলত দুটি ধারার আদর্শ প্রচলিত রয়েছে। প্রথমটি হল ধর্মনিরপেক্ষ এবং স্বপক্ষ জাতীয়তাবাদ এবং দ্বিতীয়টি হল ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদ যেটি ইসলামকে সমর্থন করে। তবে যারা এই দুই আদর্শের বাহিরে আদর্শ লালন করে তাদের বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

সুতরাং এই আধুনিক বিশ্বপরিক্রমায় নিজেদের অস্তিত্ব ও স্বার্থ রক্ষা করতে হলে নিজেদের আদর্শ স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। উদাহরণ হিসেবে ফ্রান্সকে উল্লেখ করা যেতে পারে। ৯/১১ এর পর থেকে দেশটিতে যেমন ইসলাম বিদ্বেষী আদর্শের জন্ম হয়েছে ঠিক তেমনিভাবে উদার ধর্মনীতি আদর্শের জন্ম হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হল দুটি ভিন্ন ভিন্ন আদর্শ যেগুলো একে অপরের প্রতিপক্ষ, দুটি আদর্শ কিন্তু সুন্দরভাবে সহবস্থান করছে।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট থেকে অনুদিত
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×