somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃআত্নজা(The Daughter)-৩

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১০:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আত্মজা-১
আত্মজা-২
বউ-বাচ্চাকে রেখে দিনে দিনেই ফিরে আসল কামাল।সকাল সকাল রওনা দিয়েছিল।শ্বাশুড়ী মানে ইতি-ইরার নানী অনেক করে সেধেছিলেন যেন আজকের দিনটা থেকে যায়। মেয়ের জামাই বলে কথা।আদর-আপ্যায়ন কম করেনা ওরা।কিন্তু কামালের পছন্দ হয় না ঐবাড়িতে পড়ে থাকা,দুপুরে খেয়েই রওনা দিয়ে দিল।

আসার আগে মনোয়ারা বারবার বলছিল একরাত থেকে যেতে।পরদিন ভোরেই নাহয় চলে যাবে।

সেকথা শুনল না কামাল।
‘ইতি কোথায়।দেখা করে যাই?’
‘ওরা কি আর আছে?দিগবিদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে দুই বোনে মিলে।এখন গেছে ছিপ বড়শি নিয়ে মাছ ধরতে।তুমি থেকে গেলে পারতে’-স্বামিকে অনুরোধ করল মনোয়ারা।বেশ খুশি খুশি।নিজের মায়ের বাড়ি আসলে খুশি হবার-ই কথা।

কামাল দুই মুহুর্ত ভাবল,একবার মনে আসল থেকেই যায়।পরে চিন্তা করে দেখল,এখন খারাপ না লাগলেও পরে আফসোস হবে,এরচেয়ে ফিরে যাওয়া যাক।

সন্ধ্যার আগে আগে ফিরে আসল।যাতায়াতে ঘন্টা দুয়েক লেগে যায়। বাসায় ফিরে তালা খুলে মনটা খারাপ হয়ে গেল কামালের।খা খা করছে বাসা।

জামাকাপড় খুলে বিছানায় বসে পড়ল।খালি বাসায় মন খারাপ লাগছে খুব।কিছুক্ষণ শুয়ে থেকে জামা গায়ে দিয়ে আবার বেরিয়ে পড়ল।চা-সিগারেট খেয়ে এদিক-সেদিক করে পার করে দিবে কিছুসময়।

মাগরিবের আযানের আগে আগে ঘরে ফিরল।মেয়েদুটোর কথা মনে পড়ছে।ইতিটা গুটগুট করে বাবা ঘরে ফিরলে পেছন পেছন ঘুরঘুর করে।মায়া লাগে।বড় মেয়ে ইরার কথাও।মেয়েটাকে একটু বেশিই অবিচার করে।কামাল অনেকদিন ধরেই ব্যাপারটা উপলব্ধি করে আসছে।

ওর বন্ধু ইকবাল তো নিজের মেয়ের জন্য পাগল,সারাক্ষণ মেয়ের এটা লাগবে,ঐটা লাগবে। মেয়েকে গান শিখাবে ,আরো ভালো স্কুলে ভর্তি করাবে এইসব আলাপ করে।কামাল ধীরে ধীরে উপলব্ধি করে এই যে সম্পর্কের ব্যপারটা মানে রক্তের সম্পর্ক এটা যে কি ভীষণ গাঢ়! নাহয়,এই একলা ঘরে অমন করে নিজের মেয়েদুটির কথা ছাড়া কিছুই ভাবতে পারছে না কেন সে!

ওযূ করে জায়নামায নিয়ে বসল কামাল।নামায নিয়মিত পড়ে যে এমন নয়।

নামায শেষে অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে রইল।

ফোনটা আসল সাড়ে সাতটার দিকে।

লাস্ট টিপের বাসে চড়ল কামাল। ফোন টা পাওয়ার পর এক মুহুর্ত অপেক্ষা করেনি।পরনে যা ছিল তাই পরে বের হয়ে গেছে।ইতি-ইরার নানুবাড়ি থেকে এসেছে ফোন।

জানালার পাশে বসে যেতে যেতে মনে মনে শুধু দোয়া পড়ছিল। আর চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় গড়িয়ে পড়ছিল পানি।

‘ভাই,আপনার কি হয়েছে?’-পাশের ভদ্রলোক জানতে চাইল।
‘আমার মেয়েটার খুব অসুখ ভাই’
‘কি অসুখ?আপনি এখন কাঁদছেন কেন?’
‘ওরা বলেনাই আমাকে’

স্টপেজ এ নেমে রিকশা নিবে।উদ্ভ্রান্তের মত হাঁটল কামাল।

ওরা এখানে কি করছে?
ইরার নানু বাড়ি থেকে কয়েকজন এসে দাঁড়িয়ে আছে এই রাস্তায়।কামাল কে দেখতে পেয়েই ছুটে আসল।ওকে ধরল।

‘কি হয়েছে ইরার?’
‘কিছু না ভাইজান।চলেন আপনি চলেন’

‘আমাকে ধরা লাগবে না!আমার মেয়ের কি হয়েছে বল আমাকে!’
কেউ কথা বলে না।

ওরা এমন করছে কেন?নিশ্চয়ই খারাপ কিছু।নাহলে ওরা আমাকে এইখানে নিতে আসবে কেন?

বাড়িতে ঢুকে হকচকিয়ে গেল।প্রচুর মানুষের মাথা।ভীড় হয়ে আছে।ওকে যাবার পথ করে দিল সবাই।

সিড়ি দিয়ে উঠে বারান্দার একপাশে এসে থামল কামাল।কি হচ্ছে না হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না।এত মানুষ কেন?ওরা কই! ইতি ,ইরা,ওদের মা!
হতভম্বের মত তাকালো সামনে।ঐ তো মনোয়ারা!মনোয়ারাকে চেনা যাচ্ছে না।পাগলের মত লাগছে দেখতে।এক মহিলার কোলে শুয়ে।
কামালকে কেউ ধরে আছে।

কামাল বার দুই ঢোক গিলল।হে আল্লাহ ! না-তুমি এটা কি করলে ,বলে মেঝেতে শোয়ানো ইরার লাশের পাশে দুইপা ছড়িয়ে বসে পড়ল কামাল।
ইরার মৃতমুখ টা কোলে নিয়ে গগনবিদারী চিৎকারে ফেটে পড়ল কামাল।
(চলবে)
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×