একজন ড: আবুল হাসামের গল্প
তার আবিস্কার
আবুল হাসামের মতে খাবার পানির বিষক্রিয়া হলো বিশ্বের সবচাইতে জঘন্য প্রাকৃতিক দূর্যোগগুলোর একটা এবং এর বিরুদ্ধে হাত গুটিয়ে বসে থাকার মতন মানুষ নন তিনি। সেজন্যই বলা যায় তার প্রায় একযুগের গবেষনার ফসল হয়ে এসেছে আর্সেনিক নিস্কাশনের এই বেশ সিম্পল ফিল্টার। তবে আর্সেনিক নিয়ে গবেষনা হাসেমের নিজের জন্য কোন অচেনা জগং ছিলো না। একজন গ্রাজুয়েট হিসেবে আমেরিকাতে ইলেকট্রোকেমিক্যাল কেমিষ্ট্রিতে তার নিজের কাজই তাকে তার নিজের জেলা কুষ্টিয়ার ভূ-গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের মাত্রাতিরিক্ত পরিমান সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। এই একই সময়ে গঙ্গা-ব্রপুত্র রিজিয়ন এবং পশ্চিমবঙ্গে আর্সেনিক বিষক্রিয়া নিয়ে কাজ করেছেন অনেক বিজ্ঞানী আর আর্সেনিকের পরিমান সম্পর্কে এসব অঞ্চলেও তারা প্রায় একই রকমের ফলাফল পেয়েছেন । আর্সেনিকের প্রধান সমস্যা হলো এর রং, স্বাদ, গন্ধ কোনটাই নেই, তাই একে খালি চোখে এর পরিমান বোঝা সম্ভব হয় না। কিন্তু এটা শরীরে নির্ধারিত সীমার চাইতে বেশি প্রবেশ করলে নার্ভ ড্যামেজ থেকে শুরু করে ক্যান্সার পর্যন্ত ঘটাতে পারে। তবে হাসামের গবেষনার লক্ষ্য অন্যদের চাইতে একটু ভিন্ন ছিলো আর তা হলো তিনি চেয়েছিলেন তার আবিস্কার করা যন্ত্রটি হবে সাধারন মানুষের ক্রয়মতার মধ্যে, কার্যকরী ও পরিবেশ সহনশীল। আর কারই ফসল হলো এই সনো ফিল্টার। তার এই ফিল্টারটির সাথে অনেকটাই মিল খুজে পাওয়া যাবে আর্সোনিক নিস্কাশনে এর আগে বহুল ব্যাবহৃত তিন কলসি ফিল্টারের। তার ফিল্টারে ব্যাবহার করা হয়েছে কয়েক স্তরের পদার্থ। এতে প্রাথমিক নিস্কাশনের কাজ করে ’কম্পোজিট আয়রন ম্যাট্রিক্স’ ( সিএমএ)। এই জিনিষটা তৈরী করা হয় কাষ্ট আয়রন থেকে এবং এটা বাইরে থেকে আনা লাগে না, লোকাল কারখানা থেকেই তৈরী করা যায়। প্রাথমিকভাবে ভূগর্ভস্থ আর্সেনিকের মৌলগুলো বিক্রিয়া করে এর ফেরাস হাইড্রোক্সাইড আয়নের সাথে এবং অক্সিডেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আর্সেনিককে দুর করে পানি থেকে। এই ফিল্টারে আয়রন ম্যাট্রিক্সের সাথে সাথে আরো ব্যাবহার করা হয় নদীর বালু, কাঠকয়লা এবং ভেজা ইটের টুকরা যার সাহায্যে আর্সেনিকের সাথে সাথে আরো নিস্কাশন করা যায় খাবার পানিতে অবস্থিত আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ ও অন্যান্য অজৈব পদার্থগুলো। সাধারনত তিনটা বালতি একটার উপর একটা বসিয়ে তৈরী করা হয় এই সোনো ফিল্টার যেখানে তৃতীয় বালতিতে জমা হতে থাকে বিশুদ্ধ পানি। তবে গ্রামাঞ্চলের জন্য এর আরো একটা মডেল আছে যেখানে তৃতীয় বালতির বদলে সেখানে একটা কলসি বসানো হয়। এটা খাবার পানি থেকে ৯৮% পর্যন্ত আর্সেনিক ও অন্যান্য দূষিত পদার্থ নিস্কাশন করতে পারে এবং এর দাম পড়ে ২০০০-৩০০০ টাকা। একটা ফিল্টার দিয়ে দুটো পরিবার তাদের দৈনন্দিন কাজ সারতে পারে এবং একেকটা ফিল্টারের আয়ূ হলো ৫ বছরের মতন। এর আরেকটা সুবিধা হলো এই ৫ বছরে একে কোন ধরনের পরিস্কার করার দরকার হয় না। মূলত ড: আবুল হাসাম এবং তার ছোটভাই ড: আবুল মূনির দুজনে মিলে এই ফিল্টার তৈরী করলেও তাদের আরেক ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আবুল বারাকাতও কিন্তু বসে নেই। তিনি গত দশ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন আর্সেনিক বিষক্রিয়াতে আক্রান্ত মানূষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা পর্যবেন এবং এই সনো ফিল্টারকে কি করে আরো সস্তা করা যায় সেই কাজে। তবে ড: সত্যিকারার্থে আলোচনাতে আসেন এই বছরের শুরুর দিকে। গত ফেব্রুয়ারিতেই তিনি ইউ এস ন্যাশেনাল একাডেমি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে অর্জন করেন ১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ২০০৭ গ্রেঞ্জার চ্যালেঞ্জ প্রাইজ । তবে এই এক মিলিয়ন ডলারের ৭০% তিনি দান করেন দরিদ্র জনগোষ্টির ঘরে আর্সেনিক ফিল্টার পৌছে দেবার জন্য, ২৫% হলো এ বিষয়ে আরো গবেষনা করার জন্য এবং ৫% দান করেন তার নিজের ইউনিভার্সিটির ফান্ডে। এ পুরস্কারটা দেয়া হয় মূলত ইলিনয়েসে লেক ফরেষ্টে অবস্থিত গ্রেঞ্জার ফাউন্ডেশনে উদ্যেগে আর এই বছর তাদের টার্গেট ছিলো আর্সেনিক সমস্যা সমাধানে এমন একটা পরিবেশবান্ধব ও ক্রয়সাধ্য ডিভাইস তৈরী করা যা কোন ধরনের বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যাবহার না করে কাজ করে।
বাংলাদেশের হাজারটার বেশি পরিবার এখন ব্যাবহার করছে এই সনো ফিল্টার। ড: হাসামের ইচ্ছা হলো এ ফিল্টারটাকে প্রথমে ইনডিয়া ও নেপাল এবং পরে দনি আফ্রিকাতে আর্সেনিক আক্রান্ত মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া। এক সাক্ষাতকারে হাসাম বলেন, ,মানূষজন তাকে বলে কিভাবে এই ফিল্টারটা ব্যাবহার করার পরে তাদের শরীরে আর্সেনিক বিষক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে আগের বিষক্রিয়ার চিহ্ন বিদায় নিয়েছে । এমনকি কোন কোন জায়গায় মহিলারা নাকি তাদের চুল ধোয়ার কাজে ব্যাবহার করছে এই পানি কারন এটা নাকি তাদের চুলকে সফট করে। তবে যাই হোক টাইমের চোখে ড: আবুল হাসাম হলেন সেই লোক যিনি বেশ ভয়ংকর একটা পরিবেশগত বিপর্যয়ের সহজ সমাধান বের করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি একে তো রা করেছেন অগনিত মানূষের জীবন তার সাথে সাথে বিশ্বের ১৩৭ মিলিয়ন মানূষকে আর্সেনিক বিষক্রিয়ার হাত থেকে মুক্ত করার পথ দেখিয়েছেন। কাজেই কেবল টাইমের চোখেই নয়, সারা বিশ্বের মানূষের চোখে ড: হাসাম হলেন সেই সব হিরোদের একজন যারা অকান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন একে মানূষের বাসযোগ্য করে তোলার কাজে।
একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?
হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।