উৎসর্গঃ Notre Dame Family
আমার দীর্ঘ জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া পৃথিবী নামক এই অদ্ভুত গ্রহের সবচেয়ে সুন্দর দেশে সবচেয়ে ভালো বাবা-মায়ের ঘরে জন্মগ্রহণ আর তারপরের পাওয়া হচ্ছে নটরডেম লাইফ।
ইদানীং প্রায়শই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি। বুঝিনা কেন এমন হয়! নিজেকে প্রশ্ন করি। উত্তর পাই না। নটরডেম কলেজের পাশ দিয়ে যাবার সময় কেমন জানি লাগে। আবেগটা বুঝতে পারিনা। একদিন হঠাৎ করে ঢুকে পড়েছিলাম ক্যাম্পাসে, সঙ্গে ছিল প্রিয় বন্ধু !@@!502575। হঠাৎ নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়লাম। দু্থজন পুরোনো গল্প করি, কলেজ থেকে বেরিয়ে হেঁটে যাই জসীম উদ্দিন রোড, কমলাপুর প্ল্যাটফর্ম ধরে দু্থজনে হাঁটি। কমলাপুরের যে রেস্টুরেন্টে রাত ২-৩টায় গিয়ে কালাভূনা দিয়ে পরোটা খেতাম সেখানে গিয়ে বসি। আহা! আমার রঙীন দিনগুলো। মাঝে মাঝে মনে হয় বুড়ো হয়ে গেছি- ভাবনা-চেতনায়।
কবিতা ভালোবাসি অসম্ভব। দু্থএক লাইন নিজেও লিখেছি। কলেজের সাহিত্য পত্রিকায় একটা কবিতা দিয়েছিলাম। সোহেল স্যার আর তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা কবিতায় এমনভাবে কলম নামের ছুরি চালিয়েছিল যে ছাপানো কবিতা হাতে আহাম্মকের মত চোখে জল এসেছিল- আমার সৃষ্টিকে আমূল বদলে দেয়া হয়েছে; আমার সন্তানকে আমি নিজেই চিনতে পারি না, কী কষ্ট! আবৃত্তি কাবের সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিল। একটা কর্মশালায় অংশগ্রহণও করেছিলাম। কলেজে একবার আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় পড়েছিলাম সুনীলের ুকেউ কথা রাখেনিচ্- দ্বিতীয় হয়েছিলাম। পরের বছর নিজের লেখা ুএকজন সামসুদ্দিন মাস্টারচ্ পড়লাম। পড়া শেষে সুশীল স্যার বললেন, ুআবার শেষের লাইনগুলো পড়োচ্। ভাবলাম আবৃত্তিতে ভুল হয়েছে- পড়লাম। পরদিন নোটিশবোর্ডে দেখি প্রথম হয়েছি। সামান্য পাওয়া, অথচ মুগ্ধতা! আসলে কোন প্রাপ্তিই ুদ্র নয়। কথা ছিল ঢাকা বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় কলেজের প্রতিনিধিত্ব করবো। করা হয়নি। রেডিওতে আবৃত্তি করার কথা ছিল। আমি জানতে পারি যেদিন আবৃত্তি সেদিন (অবশ্য নিজের দোষেই)। সেদিন মাত্র কুয়াকাটা ঘুরে ফিরেছি। রেডিওতে আবৃত্তি করা হয়নি। মারলিন ম্যাম খুব বকেছিলেন। ম্যামকে মনে পড়ে।
জহর স্যারের বাসায় গণিত পড়তে যেতাম। স্যার মাঝে মাঝে পান আনতে পাঠাতেন। স্যারের কথা খুব মনে পড়ে। মনে পড়ে জাহাঙ্গীর স্যারকে, টেরেন্স স্যার, মোকতার স্যার, মানিক স্যার, সুখেন্দু স্যার, বিশ্বজিৎ স্যার, আজমল স্যার, মিজান স্যার, ডিকে স্যার, সুশান্ত স্যার, মনোরঞ্জন স্যার, বিদ্যাসাগর স্যার, ল্যাব এর ব্রাদারদের এবং আরো কতোজনকে... কাউকে ভুলতে পারিনি।
মাঝে মাঝে মাঠে ক্রিকেট খেলতাম। কাসের টীমে জায়গা হতো না। ব্যাটিং করতাম না, বোলিং করতে গেলে প্রতি ওভারে গড়ে ১৫-২০ রান দেয় এমন বোলার কে চায়?
ক্যান্টিনে প্যাটিস খেতে অসম্ভব ভালো লাগতো। গ্রামের স্কুল থেকে আসা ছেলেরা অতি সুস্বাদু টমেটো(!!!) সসে চুবিয়ে চুবিয়ে সিঙ্গারা, বার্গার খেতো- দেখে হাসতাম। সেই গেঁয়ো সহপাঠীরা আজ কে কোথায় জানি না। মনে পড়ে যারা একসঙ্গে থাকতাম- মৃ, অমিত, সফিক, ছোটো বাবু, লজিক, মুনরি, আকাশকে... মনে পড়ে কারণে অকারণে ঘরোয়া হোটেলে যাওয়া, মধুমিতায় সিনেমা দেখা, কমলাপুর স্টেশনে সস্তা দরের সস্তা বই কেনা, ডালাস স্টুডিও, কাসের ফাঁকে বাইরে সিগারেট ফোকা। মনে পড়ে...
অনেক স্বপ্ন নিয়ে মেডিকেল ভর্তি পরীা দিয়েছিলাম। চান্স পাইনি। মনে কষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর মাস কয়েক পর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ইতি টানবো। সহপাঠীরা, অনেক বন্ধুরা বলে, ুতুইতো টিচার হইয়া যাবিচ্। হায়! আর মাত্র কয়টা দিন, তারপর ছাত্রজীবন শেষে বাস্তব জীবনের রূঢ় ব্যস্ততা।
আমার পুরোনো দিনগুলোয় ফিরে যেতে খুব ইচ্ছে করে। কিন্তু পিছিয়ে যাবার সুযোগ কোথায়- সামনে যেতে হবে আরো সামনে- আরো। এখন দিন গুনি আর কতোদিন রইলো বাকি। একদিন হয়তো ইউনিভার্সিটি জীবনকে নিয়েও স্মৃতিকাতরতায় আক্রান্ত হবো। স্মৃতিগুলো মুছে ফেলতে পারলে ভালো হতো। স্মৃতিরা বড্ড যন্ত্রণা দেয়, কাঁদায়।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


