somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাহূর প্রেম

০৮ ই নভেম্বর, ২০১১ রাত ১১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , তার কবিতা গুলোর মধ্যে কি যেন আছে যা মনকে চরম আকারে নাড়া দিয়ে যায়। এমনি একটা কবিতা শেয়ার করলাম।

রাহূর প্রেম
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শুনেছি আমারে ভালই লাগেনা,নাই বা লাগিল তোর।
কঠিন বাধনে চরণ বেড়িয়া
চিরকাল তোরে রব আকড়িয়া
লোহার শিকল-ডোর।
তুই যে আমার বন্দি অভাগী,বাধিয়াছি কারাগারে,
প্রানের বাধন দিয়েছি প্রানেতে,দেখি কে খুলিতে পারে।
জগৎ-মাঝারে যেথায় বেড়াবি,
যেথায় বসিবি,যেথায় দাড়াবি,
বসন্তে শীতে দিবসে নিশীথে
সাথে সাথে তোর থাকিবে বাজিতে
এ পাষাণপ্রান চিরশৃঙ্খল চরণ জড়ায়ে ধ’রে-
একবার তোরে দেখেছি যখন কেমনে এড়াবি মোরে?

চাও নাহি চাও,ডাকো নাই ডাকো,
কাছেতে আমার থাকো নাই থাকো ,
যাব সাথে সাথে,রব পায় পায়,রব গায় গায় মিশি-
এ বিষাদ ঘোর,এ আধার মুখ,এ অশ্রুজল এই ভাঙ্গা বুক,
ভাঙ্গা বাদ্যের মতন বাজিবে সাথে সাথে দিবানিশি।।

নিত্যকালের সঙ্গী আমি যে,আমি যে রে তোর ছায়া-
কি বা সে রোদনে কিবা সে হাসিতে
দেখিতে পাইবি কখনো পাশেতে
কভু সম্মুখে কভু পশ্চাতে আমার আধার কায়া।
গভীর নিশীথে একাকী যখন বসিয়া মলিন প্রাণে
চমকি উঠিয়া দেখিবি তরাসে
আমিও রয়েছি বসে তোর পাশে
চেয়ে তোর মুখপানে।

যে দিকেই তুই ফিরাবি বয়ান
সেই দিকে আমি ফিরাব নয়ান,
যে দিকে চাহিবি আকাশে আমার আঁধার মুরতি আঁকা-
সকলি পড়িবে আমার আড়ালে জগৎ পড়িবে ঢাকা।
দুঃসপ্নের মত চিরকাল তোমারে রহিব ঘিরে,
দিবস রজনী এ মুখ দেখিব তমার নয়ন নীরে।
চিরভীক্ষার মতন দাড়াঁয়ে রব সম্মুখে তোর।
‘দাও দাও’ বলে কেবলি ডাকিব,ফেলিব নয়নলোর।
কেবলি সাধিব,কেবলি কাদিব,কেবলি ফেলিব শ্বাস,
কানের কাছেতে প্রাণের কাছেতে করিব রে হাহুতাশ।
মোর এক নাম কেবলি বসিয়া জপিব কানেতে তব,
কাঁটার মতন দিবসরজনী পায়েতে বিধিয়া রব।
গত জনমের অভিশাপ-সম রব আমি কাছে কাছে,
ভাবী জনমের অদৃষ্ট-হেন বেড়াইব পাছে পাছে।।
যেন রে অকুল সাগর মাঝারে ডুবেছে জগৎ-তরী,
তারি মাঝে শুধু মোরা দুটি প্রানী-
রয়েছি তোর বাহুখানি,
যুঝিছ ছাড়াতে,ছাড়িব না তবু মহাসমুদ্র-‘পরি।
পলে পলে তোর দেহ হয় ক্ষীণ,
পলে পলে তোর বাহু বলহীন-
দোঁহে অনন্তে ডুবি নিশিদিন,তবু আছি তোরে ধরি।।

রোগের মতন বাঁধিব তোমারে দারুন আলিঙ্গনে-
মোর যাতনায় হইবি অধির,
আমারি অনলে দহিবে শরীর,
অবিরাম শুধু আমি ছাড়া আর কিছু না রহিবে মনে।।

ঘুমাবি যখন স্বপন দেখিবি,কেবলি দেখিবি মোরে
এই অনিমেষ তৃষাতুর আঁখি চাহিয়া দেখিছে তোরে।
নিশীথে বসিয়া থেকে থেকে তুই শুনিবি আঁধারঘোরে
কোথা হতে এক ঘোর উন্মাদ ডাকে তোরনাম ধ’রে।
নিরজন পথে চলিতে চলিতে সহসা সভয় গণি
সাঝেঁর আধাঁরে শুনিতে পাইবি আমার হাসির ধ্বনি।।

হেরো তমঘন মরুময়ি নিশা-
আমার পরান হারায়েছে দিশা,
অনন্ত ক্ষুধা অনন্ত তৃষা করিতেছে হাহাকার।
আজিকে যখন পেয়েছি রে তোরে
এ চিরযামিনী ছাড়িব কি করে,
এ ঘোর পিপাসা যুগযুগান্তে মিটিবে কি কভু আর!
ভিতরে ছুরির মতন,
মনের মাঝারে বিষের মতন,
রোগের মতন, শোকের মতন রব আমি অনিবার।।
জীবনের পিছে মরণ দাঁড়ায়ে,আশার পিছনে ভয়-
ডাকিনীর মত রজনী ভ্রমিছে
চিরদিন ধরে দিবসের পিছে
সমস্ত ধরাময়।
যেথায় আলোক সেইখানে ছায়া এই তো নিয়ম ভবে-
ও রুপের কাছে চিরদিন তাই এ ক্ষুধা জাগিয়া রবে।।শুনেছি আমারে ভালই লাগেনা,নাই বা লাগিল তোর।
কঠিন বাধনে চরণ বেড়িয়া
চিরকাল তোরে রব আকড়িয়া
লোহার শিকল-ডোর।
তুই যে আমার বন্দি অভাগী,বাধিয়াছি কারাগারে,
প্রানের বাধন দিয়েছি প্রানেতে,দেখি কে খুলিতে পারে।
জগৎ-মাঝারে যেথায় বেড়াবি,
যেথায় বসিবি,যেথায় দাড়াবি,
বসন্তে শীতে দিবসে নিশীথে
সাথে সাথে তোর থাকিবে বাজিতে
এ পাষাণপ্রান চিরশৃঙ্খল চরণ জড়ায়ে ধ’রে-
একবার তোরে দেখেছি যখন কেমনে এড়াবি মোরে?

চাও নাহি চাও,ডাকো নাই ডাকো,
কাছেতে আমার থাকো নাই থাকো ,
যাব সাথে সাথে,রব পায় পায়,রব গায় গায় মিশি-
এ বিষাদ ঘোর,এ আধার মুখ,এ অশ্রুজল এই ভাঙ্গা বুক,
ভাঙ্গা বাদ্যের মতন বাজিবে সাথে সাথে দিবানিশি।।

নিত্যকালের সঙ্গী আমি যে,আমি যে রে তোর ছায়া-
কি বা সে রোদনে কিবা সে হাসিতে
দেখিতে পাইবি কখনো পাশেতে
কভু সম্মুখে কভু পশ্চাতে আমার আধার কায়া।
গভীর নিশীথে একাকী যখন বসিয়া মলিন প্রাণে
চমকি উঠিয়া দেখিবি তরাসে
আমিও রয়েছি বসে তোর পাশে
চেয়ে তোর মুখপানে।

যে দিকেই তুই ফিরাবি বয়ান
সেই দিকে আমি ফিরাব নয়ান,
যে দিকে চাহিবি আকাশে আমার আঁধার মুরতি আঁকা-
সকলি পড়িবে আমার আড়ালে জগৎ পড়িবে ঢাকা।
দুঃসপ্নের মত চিরকাল তোমারে রহিব ঘিরে,
দিবস রজনী এ মুখ দেখিব তমার নয়ন নীরে।
চিরভীক্ষার মতন দাড়াঁয়ে রব সম্মুখে তোর।
‘দাও দাও’ বলে কেবলি ডাকিব,ফেলিব নয়নলোর।
কেবলি সাধিব,কেবলি কাদিব,কেবলি ফেলিব শ্বাস,
কানের কাছেতে প্রাণের কাছেতে করিব রে হাহুতাশ।
মোর এক নাম কেবলি বসিয়া জপিব কানেতে তব,
কাঁটার মতন দিবসরজনী পায়েতে বিধিয়া রব।
গত জনমের অভিশাপ-সম রব আমি কাছে কাছে,
ভাবী জনমের অদৃষ্ট-হেন বেড়াইব পাছে পাছে।।
যেন রে অকুল সাগর মাঝারে ডুবেছে জগৎ-তরী,
তারি মাঝে শুধু মোরা দুটি প্রানী-
রয়েছি তোর বাহুখানি,
যুঝিছ ছাড়াতে,ছাড়িব না তবু মহাসমুদ্র-‘পরি।
পলে পলে তোর দেহ হয় ক্ষীণ,
পলে পলে তোর বাহু বলহীন-
দোঁহে অনন্তে ডুবি নিশিদিন,তবু আছি তোরে ধরি।।

রোগের মতন বাঁধিব তোমারে দারুন আলিঙ্গনে-
মোর যাতনায় হইবি অধির,
আমারি অনলে দহিবে শরীর,
অবিরাম শুধু আমি ছাড়া আর কিছু না রহিবে মনে।।

ঘুমাবি যখন স্বপন দেখিবি,কেবলি দেখিবি মোরে
এই অনিমেষ তৃষাতুর আঁখি চাহিয়া দেখিছে তোরে।
নিশীথে বসিয়া থেকে থেকে তুই শুনিবি আঁধারঘোরে
কোথা হতে এক ঘোর উন্মাদ ডাকে তোরনাম ধ’রে।
নিরজন পথে চলিতে চলিতে সহসা সভয় গণি
সাঝেঁর আধাঁরে শুনিতে পাইবি আমার হাসির ধ্বনি।।

হেরো তমঘন মরুময়ি নিশা-
আমার পরান হারায়েছে দিশা,
অনন্ত ক্ষুধা অনন্ত তৃষা করিতেছে হাহাকার।
আজিকে যখন পেয়েছি রে তোরে
এ চিরযামিনী ছাড়িব কি করে,
এ ঘোর পিপাসা যুগযুগান্তে মিটিবে কি কভু আর!
ভিতরে ছুরির মতন,
মনের মাঝারে বিষের মতন,
রোগের মতন, শোকের মতন রব আমি অনিবার।।
জীবনের পিছে মরণ দাঁড়ায়ে,আশার পিছনে ভয়-
ডাকিনীর মত রজনী ভ্রমিছে
চিরদিন ধরে দিবসের পিছে
সমস্ত ধরাময়।
যেথায় আলোক সেইখানে ছায়া এই তো নিয়ম ভবে-
ও রুপের কাছে চিরদিন তাই এ ক্ষুধা জাগিয়া রবে।।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×