somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাতোর জানো মিয়া?

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




খুব নিকটবর্তি অতীতে বাংলাদেশে বি,এন,পি নামের দোর্দন্ড প্রতাপশালী, অতি জনপ্রিয় এক রাজনৈতিক দল ছিল। ডান, বাম, রাজাকার, গাজাকার, মুক্তিযোদ্ধা, চোর, বাটপার সহ বিভিন্ন রকমের মানুষের সংমিশ্রনে গড়া এই দলটি ভাল মন্দ মিলিয়ে গড় পড়তায় একাধিক বার রাষ্ট্র চালিয়েছে। বিরোধী দল হিসেবেও হাক, ডাক, তর্জন, গর্জন সব মিলিয়ে মন্দের ভাল- চলছিল বেশ। কিন্তু বিগত বছর দশেক ধরে বি,এন,পি নামের এই গর্জন করা বাঘটি যেন নখ-দন্ত হীন, মৃত প্রায়, অসহায় এক প্রানীতে পরিণত হয়েছে। পিল খানা হত্যা কান্ড, শেয়ার বাজার, ব্যাংক লোপাট, হল মার্ক কেলেংকারী, স্বর্ন লোপাট, গুম, খুন, বিচার হীনতা, ভোটার বিহীন নির্বাচন, মধ্যরাতের নির্বাচন সহ আরও অন্ততঃ ডজন খানেক ইস্যুকে এক রত্তি ক্যাশ করতে পারেনি এই দলের নেতারা। বিরোধী দলে এসে যে ক’টা ইস্যু বি,এন,পি পেয়েছে তার দশ ভাগের এক ভাগ ইস্যু, হায়েনার মত হিংস্র, শেয়ালের মত ধূর্ত আরেকটি দল পেলে, একেবারে তেজপাতা বানিয়ে ছাড়ত। জনগনের ইস্যু না হয় বাদই দেওয়া যাক। তাদের নেত্রীর কথায় আসা যাক। যে নেত্রীকে তারা শুধু নেত্রী না, জননী হিসেবে মানে। যার ছায়াতলে এসে দলের নেতাদের অনেকেই ‘তেল চিকচিক্যা’ চেহারা বানিয়েছে, সেই নেত্রীর বাড়ির সামনে বিষ্ঠার ট্রাক দিয়ে অবরোধ করে দিনের পর দিন আটকে রেখেছে। একটা হাস্যকর দুর্নিতীর মামলায় বয়স্কা এই রমনীকে নাম মাত্র চিকিৎসা নিয়ে জেল হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনতে হচ্ছে। তবুও বি,এন,পি-র চর্বিওয়ালা কেন্দ্রিয় নেতাদের কোন বিকার নেই। কেতা-দুরস্ত, ফিট-ফাট বসন ভূষণে সজ্জিত হয়ে এয়ার কন্ডিশন রুমে সংবাদ সম্মেলনেই এদের রাজনীতি সীমাবদ্ধ।
এক সময়ের পদ্মা প্রমত্তা তটিনী আজ শুষ্ক, বিলীন প্রায়। সেই বিলীন প্রায় পদ্মা প্রমত্তাতেও কালে ভদ্রে জোয়ার আসে, ভাসিয়ে দেয়, প্লাবিত করে, ভেঙ্গে চূরে জানিয়ে দেয় তার অতীত ঐতিহ্যের কথা। কিন্তু বি,এন,পি-র মরা গাঙে জোয়ার আসে না। কাজের অবসরে লাঞ্চ রুমে সহকর্মী বন্ধুর সাথে আলাপ প্রসঙ্গে তাই একদিন বলি, “এদের কি ভূতেও ধরে না? এদের কি লজ্জাও করে না? একটু আধটু নড়াচড়াও কি তেনারা করবেন না? নাটকের দ্বিতীয় দৃশ্য কী এ জীবনে দেখে যেতে পারব না?”
আমার সহকর্মী বন্ধুটি আবার বেশ জ্ঞানী। চশমার উপরি ভাগ দিয়ে বুদ্ধিজীবীর মত কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে সে আমার দিকে। আমার চেহারায় যথেষ্ট মাত্রার সিরিয়াসনেস কনফার্ম করে বিজ্ঞের মত জানান দেয়, “বি,এন,পি নেতাদের নড়া চড়া করানোর উপায় একটা আছে।“
“কী উপায়?”, বি,এন,পি নড়ুক না নড়ুক, আমি অন্তত নড়ে চড়ে বসি।
“ওদের হুমায়ূনী সাতোর থেরাপী দিতে হবে?” বিজ্ঞের মত ঘোষণা করে সে।
“হুমায়ূন, মানে বাদশাহ হুমায়ূন?”, আমার প্রশ্ন।
“না, না, হুমায়ূন আহামেদ, লেখক হুমায়ূন আহামেদ!”
সাহিত্য জ্ঞান সম্পর্কে বিশেষ ভাবে অজ্ঞ হলেও, আর দশটা আম বাংলাদেশীর মত আমিও জানি যে হুমায়ূন আহামেদ বহু প্রতিভার অধিকারী ছিলেন-একেবারে সব্যসাচী। কিন্তু উনি যে থেরাপিস্টও ছিলেন তা ঘুণাক্ষরেও জানতাম না। আগেই বলেছি বন্ধুটি বুদ্ধিজীবী পর্যায়ের, তার ওপর আবার হুমায়ূন আহামেদের ডাইরেক্ট ছাত্র। তাই পাকনামী না করে আমি বলি, “সাতোর থেরাপী, এইটা কি জিনিস?”
সে বলে,” কেন, হুমায়ূন আহামেদের নাটকে দেখেন না? গ্রামের শেয়ানা পাগলটা গ্রামের বদ চেয়ারম্যান, অথবা শহর থেকে আসা ফাজিল মার্কা কোন চরিত্রের সামনে গাছ থেকে আচমকা লাফ দিয়ে পরে জিগায়,অই মিয়া সাতোর জানো? বেচারা বদ চেয়ারম্যান কোন রকমে বলে, না জানিনা। ব্যাস তারপর আর যায় কই? দে ধাওয়া। ধাওয়া দিতে দিতে একেবারে নূহাশ পল্লীর পুকুরে ফেলে নাকানি চুবানি।“
আমি হাসতে হাসতে বলি, “ হ্যা, হ্যা, অনেক নাটকে দেখেছি।“
সে আবার বলতে থাকে, “ শোনেন তাহলে-
এয়ার কন্ডিশন রুমে বসে বি,এন,পি-র কেন্দ্রিয় নেতারা যখন বাণী দিবে,তখন আচমকা জোরে সোরে, একটা ধমক দিয়ে বলতে হবে, ওই মিয়ারা সাতর জানো? কেউ কেউ সাতার জানলেও পানিতে নামার ভয়ে এক বাক্যে সবাই বলবে, না জানিনা। তখন স্বরটা নরম করে বলতে হবে, চলেন স্যার আপনাদের সাতার শেখাবো। যেতে চাইবে না কেউ। কিন্তু আধা বেলা আওয়ামী রিম্যান্ডের ভয় দেখালেই সুর সুর করে সবাই রাজী হয়ে যাবে। লাক্সারী বাসে করে ওদের তারপর নিয়ে যেতে হবে বঙ্গোপসাগরে। সাগরের তীরে এসে কেউ কেউ বেঁকে বসতে পারে। অসুবিধা নাই, পকেটে দুই পুরিয়া করে ইয়াবা চালান দিয়ে পশ্চাত দেশে মৃদু আঘাত করে বলতে হবে, নাম, পানিতে নাম, ইয়ের পুত। সাগরের লোনা পানিতে কিছুক্ষণ 'ও দরিয়ার পানি, তোর মতলব জানি’ বলে দাপাদাপি করে ডাঙ্গায় ফেরত আসতে চাইবে। কিন্তু চেতনা লীগ, হেলমেট লীগ, ফুলিশ লীগ, আরও কত শত লীগের চৌকশ সেনারা ততোক্ষণে পুরো সাগর তীর ঘিরে ফেলেছে। যে কোন সময় জয় বাংলা বলে ‘চিক্কুর দিয়ে’ ঝাপিয়ে পরবে। বেঁচে থাকতে হলে বি,এন,পি-র চর্বি ওয়ালা নেতাদের সামনে তখন দুইটি পথ খোলা থাকবে।
প্রথম পথ- তাদের সাতরাতে হবে। সাতরাতে সাতরাতে সাগর পাড়ি দিয়ে গন্তব্য আন্দামান। আর দ্বিতীয় পথ- তীরে এসে মোকাবেলা করা। বেঁচে থাকতে হলে বীরের মত নেতৃত্ব দিতে হবে। ডু অর ডাই। “
ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:২৮
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন মরুঝড়: রেড নোটিশের খোঁজে আরিয়ান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:১৬



দুবাইয়ের জুমেইরাহ বিচের বিলাসবহুল পেন্টহাউসের কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরের কৃত্রিম দ্বীপগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলেন সায়েম চৌধুরী। একসময় ঢাকার পুলিশ কমিশনার এবং পরবর্তীতে পুলিশের বিশেষ বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বর্গময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩


ওরা জান্নাত দেখে না
পুড়তে পুড়েই তো ছাই-
কতখানি জান্নাত দেখো
ঘরের ভিতর আছি কি?
নাকি মাটিতে থাক ঘুম;
যতক্ষুণ আছো নিঃশ্বাস
ততক্ষুণ জান্নাত দেখো
পরিবারে কিংবা চারপাশ!
পরকাল কে দেখে শান্তিময়
এখানে রচনা করো স্বর্গময়;

১৫-৬-২৬ ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×