somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি দুর্ঘটনা ও স্মৃতীর পাতায় ৬ই ফেব্রুয়ারী।।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ৮:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দুর্ঘটনা তো কতোই ঘটে থাকে।।দিন নেই রাত নেই,সকাল-বিকাল,পথে-ঘাটে,রাস্তায়-আকাশে- সমুদ্রে।।দুর্ঘটনা কখন ঘটবে তার কোনো সময় ও নাই।।কিন্তু কিছু কিছু দুর্ঘটনা জন্ম দেয় এমন কিছু অধ্যায়ের যা অনেক সময় পরিবর্তন করে দেয় গোটা পৃথিবীর মানুষের চিন্তা ভাবনা,আশা আখাঙ্খা।।পরিবর্তন করে দিতে পারে অনেক ইতিহাস।।জন্ম ও দিতে পারে নতুন ইতিহাসের।।

যেমন ধরুন উরুগুয়ান এয়ারফোর্স ফ্লাইট ৫৭১ ,১৯৭২ এর ১৩ই অক্টোবর ৪৫ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে।।আন্দিস পর্বতমালাতে বিমানটি বিদ্ধস্ত হয়।।১৯৭২ এর ২৩শে ডিসেম্বর প্রচন্ড বিরুপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে যখন বিদ্ধস্ত বিমানটি খুজে পাওয়া যায়,তখন সেখানে ১৫ জন জল জ্যান্ত মানুষ প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বেচে ছিলো।।ঘটনাটি “আন্দিস ফ্লাইট ডিজাস্টার’ অথবা “মিরাকল ইন দ্যা আন্দিস” নামে পরিচিতো।।



এখন আসি আসল কথায়।।

৬ই ফেব্রুয়ারী ১৯৫৮ সাল।।তখনকার সময়ের ইংল্যান্ডের সব থেকে শক্তিশালী ফুটবল দল ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড তাদের ইউরোপীয়ান ম্যাচ খেলতে যুগোস্লোভিয়ার রেড স্টার বেলগ্রেডের মাঠে গেছিলো।।খেলা শেষে তারা নিজ দেশের পথে যাত্রা শুরু করে,বৃটিশ ইউরোপীয়ান এয়ারোয়েজের ফ্লাইট ৬০৯ এ করে।।বিমানে যাত্রী ছিলো মোট ৪৪ জন।।এদের মাঝে তখনকার আলোড়ন তোলা “বাসবী বেবিস” নামে খ্যাত ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের ইউরোপীয়ান দল,কিছু সামর্থক ও কয়েকজন সাংবাদীক আর ৬ জন বিমান ক্রু ছিলো।।তখনকার এই ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড দলটি ক্রমশ ইউরোপের শক্তিশালী দলে পরিনত হচ্ছিলো, বাসবী বেবিস বলার কারন ম্যানেজার ম্যাট বাসবী তার দলটি কে তরুন,প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দিয়ে সাজিয়ে নিয়েছিলেন,যারা ১৯৫৮ এর আগে এক বার এফ এ কাপ ও দুই বার লীগ শিরোপা জয় করে।।তারা তখন পর পর তিন বার লীগ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছিলো।।দলটি ইউরোপীয়ান কাপের সেমিফাইনালে ওঠে ও পর পর ১১ টি ম্যাচ জয়ের ধারাবাহীকতায় ছিলো।।

যাই হোক পথে জ্বালানী নেবার জন্য বিমানটি অবতরন করে জার্মানীর মিউনিখ বিমান বন্দরে।।রিফিউলিংএর পরে বিমান উড্ডয়ন কালে বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে বিমানটি রান ওয়েথেকে একটু উপরে উঠেই বিদ্ধস্ত হয়।।সাথে সাথেই বিমানের ৪৪ জন যাত্রী ও ক্রুর ২০ জন মারা যায়।।যার মাঝে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের প্রথম সারীর ৭ জন খেলোয়াড় মারা যায়।।পরবর্তীতে ১৫ দিন হাস্পাতালে অসুস্থ থেকে মারা যান ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের তালিকাতে স্থান পাওয়া ২১ বছর বয়সী খেলোয়াড় ডংকান এডওয়ার্ডস।।এ ছাড়াও কোচ স্যার ম্যাট বাসবী ও মারাত্মক আহত হন,কিন্তু সেরে ওঠেন।।এছাড়াও ৮ জন সাংবাদিক ও মারা যান।।

ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের যে সকল খেলোয়াড় মারা যান তাদের নাম নিম্নরূপঃ
১.রজার ব্রায়েন ( ২৮) ।
২.মার্ক জোনস (২৪) ।
৩.ডেভিড পেগ (২২) ।
৪.টমী টেইলর (২৬) ।
৫.জিওফ বেন্ট (২৫) ।
৬.লেম হুইলান (২২)।
৭. এডি কোলম্যান (২১) ।
৮.ডাঙ্কান এডওয়ার্ডস (২১) ।


এছাড়াও জনী বেরী ও জ্যাকী ব্লাঞ্চফ্লাওয়ার ইঞ্জুরীর কারনে আর মাঠে নামতে পারেননি।।

"“অফ টপিকঃএই ঘটনার পরে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড কে নিয়ে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির সামর্থকরা কম মজা করেনি।। তারা অনেক সময় বলতো “man U man U going abroad to play , man u man u never came back again” তখন থেকে এক সারীর বিকৃত মশ্তিষ্কের সামর্থক Manchester United কে man u অথবা Manu বলে ডাকা শুরু করে।।এছাড়াও manure (প্রানীর বিষ্ঠা থেকে তৈরী সার বিশেষ) শব্দ টিকে তারা ছোটো করে manu বানিয়ে Manchester united কে অবজ্ঞা করার চেস্টা করে।।আসলে Manchester United এর নাম Man Utd/Man United/United/Red Devils, কখনই Man U না।।আমরা যারা Man U বলে ডাকি তারা নিজের অজান্তেই ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড কে ছোটো করি এবং মিউনিখ ট্রাজেডীর নিহতদের অসম্মান করে থাকি।।এ দিকে সবাই একটু খেয়াল রাখলে ভালো হয়”---সুত্রঃম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ফোরাম।।"

এই ঘটনার ১০ বছর পরে ১৯৬৮ সালে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড প্রথম ইংলিশ দল হিসাবে ইউরোপীয়ান শিরোপা জয় করে,সেই মওসুমে জর্জ বেস্ট ইউরোপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচীতো হন।। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড কোচ ম্যাট বাসবী ইংল্যান্ডের রাণী কতৃক “নাইট হুড” সম্মাননা লাভ করে হয়ে যান "“স্যার ম্যাট বাসবী"”।।২০০৮ এর ৫০ তম বার্ষীকীতে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড তাদের ইতিহাসের তৃতীয় বারের মতো ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয় করে ও তা এই মিউনিখ ট্রাজেডীর শিকার দল “বাসবী বেবিস” কে উতস্বর্গ করে।।

আজ ৬ই ফেব্রুয়ারী মিউনিখ ট্রাজেডির ৫৩ তম বর্ষ।।একজন ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ফ্যান হিসাবে যখনি এই কথাটা মনে পড়ে,মনে হয় কি হতো এই ঘটনা না ঘটলে।।হয়তো ইউরোপের ফুটবল ইতিহাসটা অন্যভাবে লিখা হতো।


তথ্য সুত্রঃ উইকিপিডিয়া
www.manutd.com
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ৮:৪৭
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×