somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভুল ব্যাখ্যা, নাকি সবাই ঠিক?

১৮ ই জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৩:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বয়স তখন ১৪ -১৫ হবে। পরিবারের সবাই ধার্মিক টাইপের মানুষ। নামাজ রোজার প্রতি কড়া তাগিদ দেওয়া শুরু করলো পরিবার থেকে। আমিও সবার দেখা দেখে সেগুলা করতাম ও বটে। এভাবে আল্লাহের নৈকট্য পাওয়ার চেষ্টা করতাম। পবিত্র কুরান তিলাওয়াত শিখলাম। কিন্তু কেনো জানি মনে হতো আমি শুদ্ধ ভাবে পাঠ করছি না। সে যাই হোক মসজিদে যেতে যেতে পরিচয় হলো একজন ধার্মিক লোকের সাথে। তিনি আমাকে অনেক কিছু শেখাবার আগ্রহ দেখালেন। তবে তিনার মূল উদ্দেশ্য ছিলো আমাকে তার রাজনীতিক দল হতে পারে সেটা যেকোনো ইসলামী মওলোবাদী দল,নাম প্রকাশ করতে চাই না, এর সদস্য করা। উনার সুন্দর ব্যবহারে আমি উনার সাথে বিভিন্ন কাজে অংশ নিতে থাকলাম। এরপর উনি আমাকে কিছু বই পড়তে বল্লেন। আমি বরাবরি খুব পড়ুয়া ছিলাম। আর তার চেয়ে বেশি ছিলাম সাংস্কৃতিমনা। সেকথা পরে বলছি।
তো উনি প্রথমে আমাকে, কিশোর কন্ঠ, এই নামের এক্টি বই দেন। পড়ে ভালো লাগে। তবে সেই ভালোগার মাঝে দিয়ে তারা আমার মনে এক ধরনের হিংসা ঢুকিয়ে দেয়। আর তা হলো বিপরীত ধর্মের মানুষ দের প্রতি গভির খোভ, হিংসা,। তার কারন ছিলো ওই বইয়ে দেওয়া কিছু তথ্য, যাতে আন্য ধর্মের মানুষ মুসলমানদের উপর অত্যাচার করার কথা স্পষ্ট ভাষায় বর্ননা করা ছিলো। এর কিছুদিন পর উনি আমাকে আর একটি বই দেন। যার টপিক ছিলো জীহাদ ও ইসলাম কায়েম। বইটি পড়ে আমার মনে অনেক ধরনের প্রশ্নের জন্ম হলো। এখানে অনেক ধরনের লোভ দেখানো হয়েছে, যেমন জান্নাত, মৃত্যুর পরের জীবনের অসীম সুখ। জীহাদ করলে তা পাওয়া যাবে এমন্টি বর্ননা ছিলো। এরপর উনি আমাকে একদিন এমন এক্টি যায়গায় নিয়ে গেলেন যেখানে সব লম্বা দাড়িওয়ালা মানুশ। আর শাথে আছে আমাদের মতো অনেক নতুন অনুসারী। উনাদের যিনি মহান ঈমাম শাহেব, উনি বিভিন্ন ভাবে প্রথমে আমাদের মন গলিয়ে নিলেন। বধ করি ধর্মের যায়গাটাই মানুষের সবচেয়ে দুর্বল যায়গা। এরপর উনি যা বললেন তাতে আমার মাথা ঘুরে গেলো।
- আমাদের আর ঘরে বসে থাক্লে চলবে না।
কি যেনো একটি আয়াত বললেন নিজের মত বধ করি তিনি নিজেয় বড় মূর্খ।
তারপর,
- আমাদের মাঠে নামতে হবে।
- আজ মুসলমানদের চরম দুর্ভোগ চলছে।
-আসুন আমরা সবাই এক হয়ে যাই।
-আসুন জীহাদে নেমে পড়ি।
-বুকে বোমা বেধে প্রয়োজনে নীজে শহীদ হয়ে যাবো। কিন্তু মুসলমানদের উপর আর একটি আত্যাচার সহ্য করবো না।
আনাদের উদ্দেশ্য নিয়ে বললেন আজকের যুবকরা তোমরা কি পারবে নিজের জীবন বাজী রাখতে?
সবাই বলল হা।
- তোমরা কি পারবে মহান ঈমামের নির্দেশে বুকে বোমা বেধে মাঠে নেমে পড়তে?
সবাই বলল ইনশাল্লাহ।
নারাই তাকবির আল্লাহু আকবার।
আমি হঠাৎ প্রশ্ন করে বসলাম। আপনারা কি বোমা বাধবেন বুকে? নাকি শুধু আমাদের জন্য?
উনি উত্তর দিলেন সেনাপতি ছাড়া যুদ্ধ চলে না।
তখনি আমার বোঝা হয়ে গেলো কি চলছে এখানে। সব রাজনীতি। আমি ছোটোবেলা থেকে খুব চালাক ছিলাম। এবং নানা রকম বই পড়ে এসব ফাদের ব্যপারে জেনে গিয়েছিলাম। তারপর থেকে উনার সাথে সংগ ত্যগ করে দিলাম। পড়াশুনায় মন দিলাম। এরপর ক্লাস টেনে উঠে অনেক ধরনের বন্ধুর সাথে পরিচয় হচ্ছে । শুরু হচ্ছে জীবন দর্শনের পালা। পরিচয় হলো একজন আওয়ামীলীগ নেতার সংগে। বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই উনার পিছে ঘুরতো। উনাকেও প্রথম প্রথম খুব ভালো লাগতো। কিন্তু দেখলাম উনিও সেই একি পথের পথিক । ভাব্লাম রাজনীতি মানেয় হাতে তুলে নাও অস্ত্র মারো বিরোধি দলের মানুষকে। বিএনপির কিছু নেতার সাথে অ চলেছিলাম সবার একি ধর্ম। হতাস হলাম। গ্রাম গংজের রাজনীতিতে যদি এতো হিংসা তাহলে শহরের কি অবস্থা। আমার কাছে তো সবার চরিত্র একি মনে হলো। চলে গেলাম খুলনা শহরে। আমার আবার গান, নাচ, আর্ট, নাটক, এসবের প্রতি ভীষন আগ্রহ ছিলো। নিজে অনেক ভালো কবিতা আবৃতি করতাম এবং লখতাম ও বটে। যাইহোক কলেজে ভর্তি হলাম। বাবু নামের এক বন্ধুর সাথে পরিচয় হলো। আমার ব্যাপারে সব জেনে সে আমাকে এক্টি সংগঠনে নিয়ে গেলো। নাম দ্রহী। পরিচয় হলো একদল সুস্থ মানসিকতার মানুষের সাথে। সেখানে গান শিখতাম, নাটক করতাম অনেক সুন্দর কাটছিল দিন। প্রতি মঈলবার সাহিত্য পাঠের আসর, কবিতা পাঠের আসর চলত। আস্তে আস্তে তাদের কাছ থেকে অনেক বই নিয়ে পড়তে লাগলাম। তারা আস্তে আমাকে কমিউনিস্ট সৃষ্টিভংগীর দিকে টান্তে শুরু করলো। তাদের সব ভালো লাগে আমার। মেহনতি মানুষের কথা বলে। মেহনতি মানুষের পাশে দাড়ায়। মনে হলো আসল রাজনীতির পথ পেলাম। এটার সাথে সময় কাটাতে লাগলাম। একদিন আমাকে শামিম ভাই( দ্রহীর সভাপতি) আমাকে এক্টি বই দিলো ছোটদের রাজনীতি। পড়তে থাকলাম। কালমার্ক্স, চে এই ধরনের মতবাদ এর বিশাস মনে বাসা বাধতে থাকলো। এরপর আমাকে দেওয়া হলো এক্টি বই।
নাম- এলাম আমরা কোথা থেকে। বইটি পড়ার পর আমার সৃষ্টি ও আমাদের ধর্ম নিয়ে মনে প্রশ্ন যাগতে শুরু হলো। এর মধ্যে অনেক তর্কি বিতর্ক তো আছে সব লিখতে গেলে শেষ হবে না। এরপর।।।।। বিবর্তনের হাত ধরে - বন্যা আহম্মেদ এর লেখা বইটা পড়লাম। সেখানে যা ব্যাখা দেওয়া আছে,, যারা পড়েছেন তারাই বুঝবেন, সেই ব্যাখাকে কনোবম্ভাবেই অসিকার করার উপাই নেই। মনের মধ্যে উজান ঢেউ বইতে শুরু করলো। তারপর চার্লস ডারইউন এর কিছু বইয়ের বাংলা অনুবাদ পড়লাম। এরপর থেকে আমি মানুষের সৃষ্টি রহস্য নিয়ে বহু বই পড়েছি। বিভিন্ন ধর্মের বই পড়েছি as like ভোলগা থেকে গংগা পর্যন্ত- রাহুল সাং কৃত্তায়নের লেখা। তারপর রামায়ন মহাভারত, বেদ, মনু, কিন্তু আসল ব্যাপারটা মাথায় আসে না। সৃষ্টি রহস্য আসলেই কি? আমি এখনো ঘোরের মধ্যে রাত কাটাই। আজো বুঝলাম না -
সবি কি ভুল ব্যাক্ষা? নাকি সব ঠিক?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১৪ সকাল ৮:৫৭
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×