আমাদের সম্মানিত মা বোনেদের সিরিয়ালি মন মানোশিকতার বিকাশ আজ চরমে পৌছে গেছে। বাসায় ঢুকলে সিরিয়ালের গল্পের কারনে ভুলতে বসেছি কোনটা বাস্তবে ঘটেছে আর কোনটা সিরিয়ালে ঘটেছে। তারা এমন ভাবে গল্প করে জেনো বাস্তবে ঘটে গেছে ঘটনাটা। সিরিয়ালের কিছু চরিত্র আমাদের বাস্তব জীবনে তুখোড় প্রভাব ফেলছে। তার মধ্যে আলোচিত দুইটি চরিত্র হলো, পাখি, ঝিলক,। তাদের বৈরী মানোশিকতা চরমভাবে
অনুসরন করছে আমাদের বর্তমান সমাজের নারিরা।
যার প্রভাব পড়ছে আমাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, জীবনে। মেয়েদের চাল চলনের আমুল পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। তাদের পোষাক আশাক, চলনভংগি, বাচনভংগি সবকিছুর মধ্যে ঢুকে গেছে সিরিয়াল। বর্তমান ঈদের বাজারে এই পাখি ঝিলক ড্রেসের হিড়িক পড়েছে।
লুনার বয়স ১৪ বছর । লুনা তার বাবার একমাত্র মেয়ে। লুনার বাবা ঢাকাই ছোটো এক্টি কোম্পানিতে চাকরি করে। তার বাবা আসার পথে মেয়ের জন্য দেশিয় বুটিক্সের ডিজাইন করা একটি সুন্দর ড্রেস কিনে নিয়ে আসেছে। ড্রেস্টি বেশ দামি তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। লুনার ও খুব পছন্দ হয়েছে। কিন্তু সব বান্ধুবীরা পাখি ড্রেস কিনেছে। তার ও মন চাইছে পাখি ড্রেস কিন্তে। লুনার বাবার স্বল্প বেতিনের চাকরি মেয়ের বাইনা রক্ষা কিরবে কিভাবে ভেবে পাইনা । মনে মনে ভাবছে হাইরে পাখি ড্রেস। এভাবে আমাদের সমাজে প্রভাব ফেলছে এই পাখি ড্রেস নামক ভারতীয় সিরিয়ালের ভাইরাস। আমাদের গ্রাস করে ফেলছে।
আবার নিউজে দেখলাম পাখি ড্রেসকে কেন্দ্র করে সংসারে ভাঙন। আবার একজনের মৃত্যু ও হয়েছে শুনলাম।। তবে ইন্ডিয়ান মার্কেটিং প্লানের তুলনা হয় না। তারা যখনি দেখলো যে সিরিয়াল বাংলাদেশের মানুষের ঘরে ঘরে খাবারের চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে গেছে। মানুষের একবেলা খাওয়া না হলেও সিরিয়াল মিস করছে না তারা। সেই সুযোগে নিজেদের তৈরি পোশাকের বাজার বানিয়ে নিয়েছে খুব দারুন ভাবে।
আর সেই স্রোতে হুমকির মুখে পড়ে যাচ্ছে আমাদের দেশীয় তাত শিল্প, আমাদের দেশিয় পোশাক ব্যাবসায়ীরা। এখন শপিং মল গুলোতে আর দেখা যাচ্ছেনা দেশি পোষাক। পাখি আর ঝিলকের ছড়াছড়ি। এভাবে চলতে পারেনা। টেলিভশন খুললে ইন্ডিয়ান চ্যানেলের ছড়াছড়ি। দেশীয় চ্যানেলে কেউ চোখ বুলাতেই চায় না। এটা তার একটি বড় প্রভাব।
আমাদের সময় থাকতে সচেতন হওয়া উচিত, নাহলে একদিন এভাবে হারাবে আমাদের সমাজ সংস্কৃতি। হারাবে বাংলার চিরচেনা গৌরব। শুধু তাই নয় ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর এটির চরম প্রভাব পড়ছে। আমাদের সম্মানিত মা ও বনেরা ধর্ম কর্ম সব ছেড়ে সারা দিন সিরিয়াল নিয়ে পড়ে থাকে। এই বিষয়ে এখনি সচেতন মানুষের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
নাহোলে একদিন বিদেশি পাখির ছোবলে মারা পড়বে দেশি পাখি। হা আমরা পাখি ড্রেস পরবো কিন্তু সেই পাখি হবে বাংলার তাত শিল্পের হাতে আকা নিক্ষুত পাঝি। আমার সোনার বাংলার নকশীকাঁথার মাঠকে আমরা এভাবে হারিয়ে যেত দিতে পারিনা। আমার দেশের গায়ের বধুর চিকন হাতের নরন পরশে মাখা সেই পরশ আমরা হারিয়ে যেতে দিতে পারিনা।
কি করা উচিত তা আপনারাই ভাবুন। আমার যা বলার বলেছি। সম্মানিত মা ও বোনেদের অসম্মান করার কোন কারন নেই। কারন তারা আজিবন ভোলাভালা। যে যা বোঝায় তাই বোঝে। তবে আমাদের সচেতন হতে হবে। আমাদের মডিয়া এমন কিছু করুক যাতে আমাদের সম্মানিত মা ও বোনেদের দেশিয় সংস্কৃতির মনোভাব তৈরি হবে সাথে বিনোদন ও হবে। আর তার মাঝে তুলে ধরা হোক বাংলার চিরোচারিত কালচার। তবেই আমাদের অস্তিত্ব বিলিনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





