ঈদের আগের দিন, রাত তখন ১০ টা বাজে। আব্বু আমাকে ডেকে বলল, বাবু মোড়ের উপর গরু জবাই করা হয়েছে, আমি টাকা দিয়ে এসেছি তুমি গিয়ে দশ কেজী মাংস বুঝে নিয়ে আসবা। আমি বললাম ঠিক আছে আমি যাচ্ছি। আমি চলে গেলাম মাংশ নিতে। গিয়ে দেখি পাশাপাশি দুইটি গরু জবাই করা হয়েছে।
কষাইরা মাংশ কাটছে, আর যার যা অর্ডার সে অনুযায়ী ভাগ করছে। আমি যাওয়া মাত্র একজন আমাকে বলল আপনি একটু দাড়ান আপনার টা সবার আগেই রেডি করে দিচ্ছি। আব্বু সম্মানী মানুষ বলে সবাই আমাকে ও সম্মান করে। সেই কারনেই উনার এই বিষেশ ভক্তি। আমাকে আবার উনি বললেন যে ভাইয়া আপনি চা খান আমি এনে দিচ্ছি। আমি বললাম লাগবে না। কিন্তু সে শুনলো না। চা এনে দিলো।।। আমি চা খেয়ে একটা সিগারেট জালিয়ে পাশে দাড়ালাম হঠাৎ দেখলাম গাছে কালো এক্টি গরু বাধা। এবং গরুটির দুই পাশে দুইটি গরু জবাই করা হয়েছে ওর সামনেই, আর তা এখন বন্টন করা হচ্ছে তারই সামনে । আমার ফোনের ফ্লাশ লাইট টা জালিয়ে দেখলাম গরুটি কাদছে। তার দুই চোখ দিয়ে অঝরে জ্বল ঝরছে। দৃশ্যটি দেখে আমার ভীষন খারাপ লাগল। এক মুহুর্তের জন্য ওর যায়গায় নিজেকে দাড় করিয়ে ভাবলাম। সামনে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও কিছু করার নেই। তার উপর তার সামনেই গরু জবাই করা হয়েছে। ভীষন খারাপ লাগল এই দৃশ্য, । ঈদ মানুষের জীবনে ঠিক যতটা আনন্দ এনে দেয় এই পশুদের জন্য এনে দেয় তার চেয়ে অনেক বেশি কষ্ট। জানি এই নিয়ম পাল্টানো সম্ভব নয় কিন্তু আমার মতে কনো পশুর সামনে অন্য কনো পশু জবাই করা ঠিক না। এইসব ভাবতে ভাবতে আমার এবারের ঈদ গেলো। মাংশ তো বাসায় নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু এবারের ঈদে আমি মাংশ খেতে পারলাম না।।। কেনো জানি না বার বার শুধু ওই গরুটির কান্না আমার চোখের সামনে ভাশছিল।দৃশ্যটি যে কতটা মর্মান্তিক ছিলো তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারা যাবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





