“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো
একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।”
না পারিনা – এ কথাটা মুখে বললেও বাস্তবতার কথা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন।কারন বাস্তবতা বা সত্য সব সময় একটু বেশীই নির্মম। আর তা হলো ভাষার প্রতি , একুশের চেতনার প্রতি পোষাকী ভালোবাসা। যার প্রদর্শন চলছে যত্রতত্র। লাল-সবুজের মিল রেখে তরুন-তরুণী ভালোবাসার জোয়ারে ভেসে গিয়ে টি এস সি এর আড্ডায় আর একুশের বই মেলায় গিয়ে ঠিকই সুর ভাঁজে জনপ্রিয় কোন হিন্দী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কোন গান।আর তাঁর মূল কারন অবহেলা আর ঔদাসিন্যতা।স্বাধীনতা আর স্বাধীনতার পূর্ববর্তী ইতিহাসের সঠিক সংরক্ষণ ও বহির্প্রকাশের ক্ষেত্রে তারা কখনই যত্নবান ছিলেন না । আর তার বদৌলতেই বর্তমানের প্রজন্ম গুলো একুশ মানে বোঝে- বই মেলায় ঘোরাফেরা, দিবস উদযাপন আর লাল-সবুজের পোশাক সংস্কৃতি। কারন স্বার্থভিত্তিক ইতিহাস রচনা সবসময়ই স্বার্থপরতারই বহির্প্রকাশ। যা সব সময়ই একুশের চেতনা আর স্বাধীনতা কালীন আত্মত্যাগ সমূহের মাহাত্ম্যকে চাপা দিয়ে রাখে । তাতে আর নবীণ-তরুন প্রজন্মের দোষ দিয়েও কি লাভ বলুন । তারা তো বড়দের দেখেই শিখবে নাকি । যেখানে বড়রাই প্রকৃত ঘটনা জেনেও তাকে অনুসরন করে না , তাঁর তাৎপর্য বুঝে তাকে হৃদয়ে ধারন করার প্রচেষ্টা চালায় না তাতে ছোটদের দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই । বায়ান্ন সালের মহান ভাষা আন্দোলনই ছিল মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার উৎস । যার থেকে প্রবল পাহাড়ী ঝরণার মত তুমুল বেগে শাখা প্রশাখা বিস্তৃত করে শুরু হয় স্বাধীনতা আন্দোলনের স্রোত-বিক্ষুব্ধ খরস্রোতা নদী । তাঁর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণের ধারায় জাতিগত স্বকীয়তা এবং বাঙালি জাতির উন্নয়ন । ভাষার প্রতি-নিজের অস্তিত্বের প্রতি টান থেকে শুরু হয় সেই আন্দোলন; বর্তমানের মত কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে কোন অবস্থানে যাওয়ার বা কোন পদ পাওয়ার টানে নয় । কিন্তু বর্তমানে কোথাও নেই সেই আন্দোলনের চেতনা । এখন সবই চলে পদের পেছন পেছন । ভাষা-আন্দোলনের মাঝ দিয়ে স্বাধীনতার বটবৃক্ষের যে বীজ বপিত হয়েছিল তাঁর রক্ষণাবেক্ষণের কোন চেষ্টাই প্রতিফলিত হচ্ছে না দেশের তথাকথিত গুরু জনদের কর্মযজ্ঞে । তারা সবাই ছুটোছুটি করেন বিদেশী সার্কাস মালিকদের পোষা জন্তু হবার জন্য । আর দেশের মানুষরাও প্রকৃত ইতিহাস ও সংস্কৃতির চর্চা না করাতে তাদের যে চেতনাটুকু ছিল তাও বিয়োগ করে দিয়েছেন তাঁদের স্মৃতিভান্ডার থেকে । না হলে তাঁর কেনো দেশের গুণীজনদের সম্মানিত করেন না। তারা কেনো সবসময় গণতন্ত্রের লেবাসধারী সন্ত্রাসী, দুর্ণীতিবাজদের গলায় ফুলের মালা ঝোলান ? তাঁর মূল কারণ বোধ হয় বাঙালি জাতির বেশীর ভাগই বোধ হয় চেতনা বিহীন হয়ে পড়েছে । আর যে চেতনার কথা বলছি তা হলো একুশের চেতনা । বর্ণমালার যেমন অ-আ না শিখে বাকি গুলো শেখার কথা কল্পনাও করা যায়না তেমনি বাঙালি হিসেবে যত চেতনাই থাকুক না কেন, একুশের চেতনা ছাড়া জাতি ও দেশের উন্নয়ন কখনই সম্ভব নয় । আর তাই চেতনা বিহীন হয়ে যাওয়ার কারনে আমরা আজ সবাই যেন তোতা পাখি । একই বুলি সবাই আওড়াচ্ছি । আমি আওড়াচ্ছি বাবাকে দেখে, বাবা তাঁর বাবাকে দেখে,তা্রা সবাই সবার বাবাকে দেখে একই কাজ করে গেছেন এবং যাচ্ছেন যা আমরা এবং আগামী প্রজন্ম বহন করে যাব ঠিক অনেকটা বংশগতীয় বৈশিষ্টের মতো । অনেকে হয়তো আমাকে গালমন্দ করবে আমাকে আমার এই লাগামহীন চিন্তার বহির্প্রকাশের জন্য । কিন্তু আমি তার পরোয়া করিনা । কারণ দুনিয়াটা এখন এমন হয়ে গেছে যেন “হক কথার, ভাত নেই প্রবাদের মত” । এর সুন্দর উদাহরণ আমাদের সাংসদ নির্বাচন । এতে সবসময়ই কিছু না কিছু চেতনা বিহীন লোক নির্বাচিত হয় আমাদের চেতনা বিহীন জনগনের দ্বারা । জনগনের মধ্যে সবাই দুই দলে বিভক্ত হয় উত্তরাধিকার সূত্রে । একদল সিল-ছপ্পর মারেন আটা মার্কায়, আরেক দল ময়দা মার্কায় । কিন্তু কেউই বেহেশতী দুধের নহর দিতে না পারলেও অন্তত একটি পানির কল দিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী ব্যাক্তিকে কখনও জয়যুক্ত করে না । কারণ তারা তো চেতনা বিহীন , তাই শুধু শিশুদের মত অনুসরণ করে আটা-ময়দাই চেনেন-দেশের উন্নয়ন চেনেন না । ভাবেন না আটা-ময়দার বস্তার নিচে অবস্থানকারী কীট-পতঙ্গগুলো কতোটুকু ক্ষতির কারণ হতে পারে দেশ ও জাতির স্বার্থের জন্য । আর তার মূল কারনও একটাই চেতনার অভাব থাকা । ব্যাপারটা এতই গুরুত্বপূর্ণ যে একুশের চেতনা এবং স্বাধীনতার মূল ইতিহাসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যদি আমরা সফল ভাবে সংরক্ষণ ও বিস্তরণ ঘটাতে পারি তবেই জেগে উঠবে বাংলাদেশ । সোনার বাংলার স্বপ্ন আর স্বপ্ন হয়ে পড়ে থাকবে না । আর তাঁর জন্য এগিয়ে আসতে হবে যুব সমাজকে আর দেশের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবি মহলকে ।যাতে সফল ফসল আবাদের মত একুশের চেতনার বীজ সকল বাঙালির হৃদয়ে অংকুরিত হয় সফল ভাবে আর বটবৃক্ষ হয়ে ছায়া দিয়ে যায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম আর যুগ থেকে যুগান্তর ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

