somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যস্মিন দেশে যদাচার

২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৩ রাত ৩:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

While in Rome be a Roman কথাটা মানলে পশ্চিমা শৌচাগার ব্যাবহার শিখতে কয়দিন লাগে?

এদেশে আসার পর অনেক ম্যানার শিখেছি। এপার্টমেন্টে এলিভেটরে উঠার জন্য ছুটে আসছি, দরজায় এসে দেখলাম একজন সাদা মানুষ দরজা খোলা রাখার বাটন চেপে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। সেদিন কৃতজ্ঞতায় মনটা ভরে উঠেছিল। আমি তখন সদ্যই সিঙ্গাপুর থেকে এখানে অভিবাসন করে এসেছি, সিঙ্গাপুরের চায়নিজদের মধ্যে এই ম্যানার দেখিনি।

চাকুরীর প্রথম বছর গাড়ি ছিল না, বাসে যাতায়াত করতাম। একদিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে বাস ধরার জন্য হন্তদন্ত হয়ে হাঁটছি, এমন সময় একটা গাড়ি রাস্তার পাশে এসে আমার কাছে দাঁড়ালো, জানালার কাঁচ নামিয়ে বলছেন, শুভ সকাল। ‘শুভ সকাল’ উত্তর দিয়ে তাঁকিয়ে দেখি আমাদের কোম্পানির প্রেসিডেন্ট। তিনি বললেন, হাসান উঠে পড়ো, আমি অফিসেই যাচ্ছি। এরপরে কত যে তাঁর কাছ থেকে রাইড পেয়েছি তার ইয়ত্তা নাই! তিনি এত আন্তরিক ও ফ্রেন্ডলি যে আমি কোনদিন বুঝতে পারিনি আমি বিদেশী ও বাদামি চামড়ার।

আমি বর্তমান প্রতিষ্ঠানে যখন চাকুরী শুরু করি তখন সব মিলিয়ে জনা বিশেক মানুষ ছিলো। বাইশ বছর আগে এ প্রতিষ্ঠানে আমি একমাত্র বাদামী চামড়ার ছিলাম, বাকি সবাই সাদা। এখন প্রায় নব্বই জন। বছর দুই হলো স্থান সংকুলান না হওয়ায় আগের চেয়ে বড় আয়তনের অফিসে স্থানান্তর হয়েছে।

গত কয়েক বছর হলো আমাদের প্রতিষ্ঠানে অনেক জাতের মানুষ জড়ো হয়েছে। একটা বড় অংশ ভারতীয় ও চায়নিজ। চায়নিজরা পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে কোন হায়,হ্যালো বলে না, চোখের দিকে তাকায় না, মনে হয় মহাশুন্যের কানা গলি দিয়ে হাটঁছে। এরা ক্যাফেটেরিয়ায় এসে শুঁটকি খাবার গরম করে খায়। আমি শুঁটকি মাছের গন্ধ সহ্য করতে পারি না, সেজন্যে লাঞ্চ আওয়ারের অনেক পরে যাওয়া শুরু করলাম। কিছুদিন পরে দেখি ইমেইল নোটিশ, এখানে অনেকের মাছে মারাত্মক এলাৰ্জি আছে তাই সবাইকে অনুরোধ করা যাচ্ছে কোন ফিশ আইটেম মাইক্রোওয়েভে যেন গরম করা না হয়।


আমি একজন ভারতীয়কে(নাম সুভিস) আমার টিমে নিয়েছিলাম। কথা বলেন অত্যন্ত শান্তভাবে নিচুস্বরে, মাথায় প্রচুর তেল (গন্ধযুক্ত) ব্যাবহার করেন, হয়ত আয়ুর্বেদিক মসলাযুক্ত। একদিন এইচ আর ম্যানেজার আমারে রুমে ঢুকে বললেন, দরজা বন্ধ করি? বললাম, নিশ্চয়। ক্লোজড ডোর মিটিং। তিনি বললেন, সুভিস হাঁটলে (দূর)গন্ধ বের হয়, অনেকেই কমপ্লেইন করেছে, তাঁর সাথে ব্যাপারটা নিয়ে আলাপ করো। আমি কি যে এক শৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছিলাম সেদিন তাঁকে সেটা বলতে! ইদানিং ওয়াশরুমে যাওয়া নিয়ে নানান সমস্যা। আমি দেখেছি একজন ভারতীয় ইউরিনালে (দাঁড়িয়ে মূত্র ত্যাগ করার জায়গা) যেয়ে মূত্র ত্যাগ না করে টয়লেটে যাচ্ছে এবং দাঁড়িয়ে সে কাজটি করেন। এরপরে সেই টয়লেটে আর যাওয়ার অবস্থা থাকে না। এদের ছোট বাচ্চার মত টয়লেট ট্রেনিং করার জন্য দেখি আজ সকালে এই ছবিটা টয়লেটে আটকিয়ে দেয়া।



তো ভাবছি, এই ছবিটা প্রিন্ট করে আমার বাসার গেস্ট টয়লেটে লাগাবো, কিছু অতিথি পুরুষ দাওয়াত খেতে এসে টয়লেটে যান এবং দাঁড়িয়ে সে কাজটি করেন। পরে নাকে কাপড় গুঁজে ক্লোরিনযুক্ত ক্লিনার দিয়ে মেঝে, টয়লেট পরিষ্কার করতে হয়। আফটার অল, আমরাও তো ভারত উপমহাদেশের!





সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৩ রাত ৩:৪১
১২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অধঃপতন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৪৪



কারিনা কায়সার এখন জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন। একটা তরুণ মেয়ে। বয়স ত্রিশের আশেপাশে। একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। আরেকটা বড় পরিচয় হলো তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের কিংবদন্তি খেলোয়াড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শততম পোস্টে আমিই একমাত্র ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৩৫

আমার শততম পোস্টে আজ আমিই একমাত্র ব্লগার। জানালা দিয়ে পশ্চিমের স্বচ্ছ আকাশে শুকতারা দেখছি।
নিউইয়র্ক সময় অনুযায়ী এখানে রাত ১০.৪৬ মিনিট, তারিখ ১১ই মে ২০২৬
তাপমাত্রা +৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস
বাংলাদেশ তারিখ ১২ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×