'এপ্রিল ফুল' মানে এপ্রিল মাসে ফোটা কোন ফুল না, এই fool মানে বোকা। এ ব্যাপারে একটা গল্প চালু আছে। এই দিনে অজস্র মুসলিমকে মসজিদে বন্দী করে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল- এরকম একটা গল্প। আমি নিজেও একসময় গল্পটা বিশ্বাস করতাম। ইউরোপে মুসলমান শাসন নিয়ে পড়াশোনা করে জেনেছিলাম, গল্পটা আসলে ভুয়া। ১৪৯২ সালের ইউরোপে মুসলিম শাসনের পতন সম্পর্কে গল্পটা বলা হয়। সত্য হচ্ছে, অনেক যুদ্ধবিগ্রহের পড় ১৪৯২ সালের ২ জানুয়ারি দ্বাদশ মোহাম্মদ গ্রানাডার শাসনভার স্পেনের রাণীর হাতে ছেড়ে দেন, ঐদিন পহেলা এপ্রিলও ছিল না, মসজিদে আগুনও সেদিন দেয়া হয়নি। অথচ এদিনটাকে কেন্দ্র করে মর্মান্তিক ইতিহাস ছড়ানো হয়েছে। মুসলিম সমাজে ভুলভাল তথ্য ছড়ানো খুব সহজ, রাসূলের মৃত্যুর পরপর ভুয়া হাদিস উৎপাদনকারীদের সংখ্যা এতোই বেড়ে গিয়েছিল যে সত্য জানা কঠিন হয়ে পড়েছিল। আজকের আধুনিক যুগে ধর্মকেন্দ্রিক ধান্দাবাজের সংখ্যা অবশ্যই অতীতের চেয়ে বেশি। আধুনিক এই ধান্দাবাজেরা তাদের কাজ চালিয়ে গেলেও বাংলাদেশের ইতিহাস রক্ষার দায় যাদের, তারা কিন্তু নির্বিঘ্নে ঘুমাচ্ছে।
১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার কেরানীগঞ্জে পাক-হানাদার বাহিনীর অভিযানে এক হাজারের বেশি লোক মৃত্যুবরণ করে।
একক হত্যাকান্ড হিসেবে এটা অনেক বড় ব্যাপার।
মসজিদে মুসলিম হত্যার ঘটনা মিথ্যা হলেও অনেকে জানে,
অথচ একাত্তরের এই সত্য ঘটনা আমাদের অনেকেরই জানা নেই।
যে বোকা মানুষগুলো স্বাধীন দেশটা দেখতেও পায়নি, অথচ জীবন দিয়ে গেছে অকাতরে, তাদের ইতিহাস না জেনে আমরা 'এপ্রিল ফুল'-এর আনন্দ উদযাপন করছি।
এ ঘটনা প্রমাণ করে- আমরা কতটা বোকা।
'এপ্রিল ফুল' না, নিজেদের রক্তাক্ত সত্য ভুলে থাকা বারোমাসি বোকা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


