পয়লা বৈশাখ উদযাপন নিয়ে ফেসবুক গরম হওয়া শুরু হয়েছে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটা পালনের বিরোধিতা যেমন দেখা যাচ্ছে, তেমনি সংস্কৃতির দৃষ্টিকোণ থেকে এটা পালনের স্বপক্ষে যৌক্তিকতাও আছে।
যা নিয়ে আলোচনা নেই, তা হচ্ছে বিগত পয়লা বৈশাখে দেশের কিছু সোনার ছেলে নিজেদের বিকৃত রুচিবোধ থেকে পাবলিক প্লেসে যে কাণ্ড ঘটিয়েছিল। সে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট কারো বিচার হয়েছে বলে আমার জানা নেই।
পয়লা বৈশাখে ইলিশ খাওয়ার প্রচলন বেশিদিনের না। পান্তার সাথে ইলিশ খাওয়া বোধহয় বছরে একদিনই হয়ে থাকে, এ এমনই এক বিরল খাদ্য। তবু এটা একটা ট্র্যাডিশানে পরিণত হয়েছে, কারন প্রথম থেকে কেউ এটার প্রতিবাদ করেনি। যখন ইলিশের বদলে জাটকা ধরা শুরু হল, সেই জাটকার দাম আকাশ ছুঁয়ে গেল, তখন শুরু হল কানাঘুষা, ইলিশ কি আদৌ পয়লা বৈশাখ উদযাপনের অংশ? ততদিনে ইলিশকে বাদ দেয়ার আর উপায় নেই, দেদারসে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে, ফুলেফেপে উঠছে একটি অযৌক্তিক বাণিজ্য।
যে দেশে নারীর নিরাপত্তা নেই, সেদেশে না থাকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের মর্যাদা, না থাকে বাঙালীর আবহমান সংস্কৃতির সম্ভ্রম। এবারের পয়লা বৈশাখে যদি গতবারের মতো নারীকে নিগৃহীত করা হয়, তাহলে এটা ইলিশ খাওয়ার মতোই ট্র্যাডিশানে পরিণত হবে। নারীর সম্মান রক্ষায় পোশাক যে কোন ইস্যু না, ধর্মান্ধ সমাজপতিদের সেটা বোঝানোর জন্য একটি হিজাব পরিহিতা মেয়েকে জীবন দিতে হল, তাতেও তাদের শিক্ষা হয়েছে কিনা আমি জানি না।
সবার ঘরেই কন্যা-স্ত্রী-বোন আছে। তারা কেউ না থাকলে অন্তত জন্মদাত্রী মা তো আছে! তার সম্মানে হলেও দেশটা নিরাপদ করতে এগিয়ে আসুন। ধর্ম কিংবা সংস্কৃতি নিয়ে বিতর্ক করতে চাইলে করুন। আমরা মুসলিম নাকি বাঙালী- সেই বিতর্ক পরে, আগে স্পষ্ট হওয়া দরকার আমরা মানুষ কি না।
মানুষ হলে মায়ের সম্মান রক্ষা করাটা সবার আগে জরুরী।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



